Sunil Chhetri: পিকে-চুনী-মান্নার পরই… সুনীলকে কিংবদন্তির আসনে বসিয়ে দিলেন সুব্রত – Bengali News | Legendary coach Subrata Banerjee comments on Sunil Chhetri’s retirement
কলকাতা: আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রায় ২০ বছরের দীর্ঘ কেরিয়ার। সেই ফুটবল জীবনকে বিদায় জানাচ্ছেন সুনীল ছেত্রী। যদিও কেরিয়ারের শুরুটা মসৃণ ছিল না। ২০০৫ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিষেক ম্যাচেই গোল করেন সুনীল। নিজেকে ধারাল করে তুলতে অনেক ঘষামাজা করেন। ফিটনেসের চূড়ায় নিয়ে যান। আর তাতেই মেলে সাফল্য। ভারতীয় ফুটবলের পোস্টার বয় হয়ে ওঠেন সুনীল ছেত্রী। কঠিন সময়ে দলের পরিত্রাতার নাম হয়ে ওঠে সুনীল ছেত্রী। ফুটবল ক্রমতালিকায় পিছিয়ে যাওয়া দলকে টেনে তোলেন উপরের সারিতে। জাতীয় দলের জার্সিতে সুনীলের অবদান অনস্বীকার্য।
সেনা পরিবারে ছেলে সুনীল। ছেলের অবসর ঘোষণার দিনে বাবা খর্গ ছেত্রী বললেন, ‘ওর অধ্যবসায় আজ ওকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে। নিজেকে ফিট করে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করেছে। খাওয়া দাওয়ায় বিস্তর বদল এনেছে। পছন্দের খাবারের সঙ্গে বিচ্ছেদ করেছে। ফিটনেসের চূড়ায় নিয়ে গিয়েছে নিজেকে। তাতেই মিলেছে সাফল্য।’ ছেলের ফুটবল কেরিয়ারের সেরা মুহূর্ত কী? বাবার উত্তর, ‘অনেক মুহূর্ত সেরা। দেশের জার্সিতে ও যখনই রেকর্ড করেছে সেটাই সেরা সেরা স্মৃতি হয়ে থেকেছে। তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিষেক ম্যাচে গোল আমার কাছে অবশ্যই সবচেয়ে দামী মুহূর্ত।’ কলকাতায় স্বপরিবারে ছেলের শেষ ম্যাচে মাঠে থাকার কথাও বললেন সুনীলের বাবা।
বাংলার সঙ্গে সুনীলের সম্পর্ক নিবিড়। এখান থেকেই লাইমলাইটে আসেন তিনি। কেরিয়ারের সূচনা মোহনবাগান থেকে। বাংলার জামাই সুনীল ছেত্রী। শ্বশুরমশাই সুব্রত ভট্টাচার্য আবার ফুটবলজীবনের প্রথম কোচ। জামাইয়ের অবসর ঘোষণার দিনে সুব্রতর প্রতিক্রিয়া, ‘আমার হাত ধরেই মোহনবাগানে ওর কেরিয়ার শুরু। প্রথম দিন থেকেই ওর মধ্যে একটা জিনিস দেখেছিলাম। সেটা হচ্ছে জেদ। তার জোরেই আজ ও এই জায়গায় এসে পৌঁছেছে। এছাড়া একজন সফল ফুটবলারের যে কঠিন অধ্যবসায় থাকে, তা ওর মধ্যেও দেখেছি।’
ময়দানের বাবলুদা এও বললেন, ‘দেশের জার্সিতে অনেককেই ভালো খেলতে দেখেছি। তবে প্রদীপদা, চুনীদা, মান্নাদা (শৈলেন মান্না)-র পর সুনীলই আমার কাছে সেরা। এর মাঝে আর কেউ নেই। জামাই হিসেবেও ওর তুলনা হয় না। ফুটবলার সুনীল অবশ্যই সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।’ একইসঙ্গে সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, ‘কলকাতায় ওর কেরিয়ার শুরু। আমি জানতাম কলকাতা থেকেই ও অবসর নিতে চাইবে। কেরিয়ারের চূড়ায় থেকেই ফুটবলকে বিদায় জানাচ্ছে। অনেককে দেখেছি জাতীয় দল থেকে অনেক আগে ভাগে অবসর নিয়ে ক্লাবের হয়ে খেলা চালিয়ে যেতে। ও অবশ্য একই সঙ্গে দুটোকে সমান ভাবে গুরুত্ব দিয়েছে। আজ ওর অবসর ঘোষণার আগে অবশ্য আমার সঙ্গে কথা হয়নি।’