Calcutta High Court: ‘মিষ্টি দই-লুচি-আলু পোস্তর মতো হয়ে গিয়েছে, অন্য উপায় ভাবার সময় এসেছে’, সরকারি কর্মীদের বড় পরামর্শ প্রধান বিচারপতির – Bengali News | Calcutta high court Division Bench headed by Chief Justice TS Sivajnanam approves government employees’ rally at Nabanna bus stand
কলকাতা: ‘এবার অন্য কিছু উপায় ভাবার সময় এসেছে।’ সরকারি কর্মচারীদের নবান্ন বাস স্ট্যান্ডের র্যালি অনুমোদন দিয়ে বলল প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ। একক বেঞ্চের রায়ই থাকল বহাল ডিভিশন বেঞ্চে। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এভাবে র্যালি না করে নিজেদের বক্তব্য জানানোর অন্য উপায় ভাবার সময় এসেছে। প্রধান বিচারপতির তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য, ”
মিষ্টি দই, লুচি আর আলু পোস্তর মতো র্যালি, এটা বাঙালির কালচার।”
সিঙ্গল বেঞ্চ শর্ত দিয়েই র্যালির অনুমোদন দিয়েছে। সওয়াল জবাবের সময়ে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “যেহেতু মামলাকারী সরকারি কর্মচারীদেরও নিজস্ব দায়িত্ব আছে। তাই তাঁদের আচরণ সরকারি কর্মচারীর মতোই হবে বলে আদালতের বিশ্বাস আছে।”
আবারও এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, র্যালি সিঙ্গল লেন ফলো করবে। যানজটের সমস্যা যাতে না হয় সেটা দেখা হবে। বেলা একটা থেকে র্যালি শুরু হওয়ার কথা। রেল মিউসিয়াম থেকে শুরু হয়ে নবান্ন বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত র্যালি হওয়ার কথা রয়েছে। মামলাকারীদের তরফে বলা হয়, সেখানে র্যালি হলে যানজটের সমস্যা বাড়বে। অনুমতি পেলে এই ধরনের র্যালি করার প্রবণতা বাড়বে।
তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, “১১ টা বাজে। শুনেছি সকাল দশটা থেকে সকলে আসতে শুরু করেছেন। এখন তো জমায়েত শুরু হয়ে গিয়েছে।” এজির উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “কেরালায় এমন অনেক দেখেছি। সাদা জামা পড়ে স্লোগান দিতে দেখা যায় তাঁদের।” উত্তরে এজি বলেন, “অন্তত হাওড়া ময়দানে আটকে দেওয়া হোক। কোনও প্রসেশন বাস স্ট্যান্ডের হওয়া উচিৎ নয়।”
প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, তাঁরা স্ট্যান্ডে ধরনা দিচ্ছেন না তো। মামলাকারীকে আশ্বস্ত করতে হবে মাইক নিয়ে স্ট্যান্ডে গিয়ে জমায়েত না করতে। প্রধান বিচারপতির নির্দেশ র্যালি যেখানে শেষ হবে, সেখানে কোনও রকম বক্তৃতা রাখা যাবে না।
এজির কাছে সরকারি কর্মচারীদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, “আপনাকে মানতে হবে এটা সরকারি কর্মচারীদের র্যালি। তাঁরা অন্য রাজনৈতিক দলের মতো আচরণ করেন না। অনেক শৃঙ্খলাবদ্ধ।”
তখন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন, “রাজভবনের পাশে কেউ বাধা দেয় না এখানে কেন?” প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “শান্তিপূর্ণ র্যালিতে সমস্যা কোথায়?”