Free speech: সরকারের সব সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা যায়…এভাবে চললে গণতন্ত্র টিকবে না: সুপ্রিম কোর্ট – Bengali News | Supreme Court quashes FIR on Article 370 protest, and tells to educate police on free speech
নয়া দিল্লি: পুলিশকে শিক্ষিত করতে হবে। বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা কাকে বলে, তা শেখাতে হবে পুলিশকে। সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা মানেই অপরাধ নয়, তা বোঝাতে হবে পুলিশকে। পুলিশ যদি এমনটা মনে করে, তাহলে আর গণতন্ত্র টিকবে না। সংবিধান দেশের নাগরিকদের যে বাকস্বাধীনতা দিয়েছে, সেই সম্পর্কে পুলিশকে সংবেদনশীল হতে হবে। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে এক বিরূপ মন্তব্যের স্ট্যাটাসের দিয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের কোলাপুর কলেজে কর্মরত কাশ্মীরি অধ্যাপক জাভেদ আহমেদ হাজাম। ৫ অগস্ট তারিখটিকে ‘জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য কালা দিবস’ বলেছিলেন। ১৪ অগস্ট পাকিস্তানকে তাদের স্বাধীনতা দিবসের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। এই প্রেক্ষিতে ওই কাশ্মীরি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতেই পুলিশ তথা সরকারকে তুলোধনা করল শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি অভয় এস ওকা এবং বিচারপতি উজ্জল ভূঁইয়ার বেঞ্চ বলেছে, “ভারতের সংবিধানের ১৯(১)(ক)অনুচ্ছেদে, বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। কাজেই, প্রত্যেক নাগরিকের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের বা সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তাঁর বলার অধিকার রয়েছে যে তিনি সরকারের কোনও সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট। সময় এসেছে, সংবিধানের ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদে যে বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার দেওয়া হয়েছে এবং সেই অধিকারের যে যুক্তিসঙ্গত সীমা টানা হয়েছে, সেই সম্পর্কে আমাদের পুলিশ যন্ত্রকে শিক্ষিত করার। আমাদের সংবিধানে যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কথা বলা হয়েছে, সেই সম্পর্কে তাদের সংবেদনশীল হওয়া উচিত।”
আদালত জানিয়েছে, ৫ অগস্ট দিনটিকে ‘কালা দিবস’ বলা, ‘বিক্ষোভ ও বেদনার বহিঃপ্রকাশ’। পাকিস্তানের জনগণকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানানো একটা ভাল কাজ। এতে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বা অসন্তুষ্টির অনুভূতি তৈরি হবে, তা বলা যায় না। বিচারকরা আরও বলেছেন, এই ধরনের ক্ষেত্রে দেখতে হবে, যুক্তিসঙ্গত ব্যক্তিদের উপর এই ধরনের বিবৃতির কী প্রভাব পড়ছে। তারাই সংখ্যায় বেশি। কিছু দুর্বল মনের ব্যক্তি আছে, যারা প্রতিটি প্রতিকূল পরিস্থিতিকে বিপদ বলে মনে করেন। তাদের উপর বিবৃতির কী প্রভাব, সেটা বিচার্য হওয়া উচিত নয়। শুধুমাত্র কিছু ব্যক্তির মনে ঘৃণা বা অসৎ ইচ্ছার বিকাশ ঘটাতে পারে বলে, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে, বলা যাবে না। এর জন্য শাস্তি দেওয়া যাবে না।
পুলিশ ও সরকারের সমালোচনা করার পাশাপাশি, এই ধরনের মন্তব্যকারীদের প্রতি একটা সতর্কতাও জারি করেছে শীর্ষ আদালত। আদালত বলেছেন, “বিরোধী বা ভিন্নমতালম্বীদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অনুমোদিত পদ্ধতির চার দেওয়ালের মধ্যে থাকতে হবে, তার বাইরে গিয়ে কিছু করা চলবে না।”