Sandeshkhali: দিনভর সন্দেশখালিতে কাটিয়ে মহিলাদের ক্ষোভের আঁচে সন্দেশখালি ছাড়লেন ২ মন্ত্রী – Bengali News | After spending the whole day in Sandeshkhali, 2 ministers left Sandeshkhali in the heat of women’s anger
সন্দেশখালি: ঢোকার সময় বলেছিলেন সব ঠিক আছে। বেরনোর সময় মুখে যেন একরাশ বিরক্তি। এদিন দিনভর সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিকের নানা রূপ দেখা গেল সন্দেশখালিতে। দমকল মন্ত্রীকে সঙ্গী করে দিন হাসিমুখেই সন্দেশখালি যেতে দেখা গিয়েছিল পার্থকে। উদ্দেশ্যে, সন্দেশখালির নানা প্রান্ত ঘুরে দেখা, লোকজনের দুঃখ-কষ্টের কথা শোনা। কিন্তু, দিনের শেষে যা হল তাতেই যেন বেশ খানিকটা অস্বস্তি বেড়ে গেল তৃণমূল নেতৃত্বের। ছবি দেখে কেউ কেউ বলছেন একেই বলে পচা শামুখে পা কাটা।
দিনভর সন্দেশখালি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেরিয়েছেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী সুজিত-পার্থ। জমি লুট এবং টাকা কেড়ে নেওয়া সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের কথা তাঁদের কাছে জানিয়েছিলেন। কিন্তু, নারী নির্যাতনের অভিযোগ তাদের কাছে কেউ করেনি। ত্রিমোহিনী বাজার সংলগ্ন মাঠে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ইনডোর সভা করার পর বুক ফুলিয়ে বিষয়টি জাহির করে বলেছিলেন রাজ্যে সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক। এরপরই তিনি ত্রিমোহিনী বাজার সংলগ্ন এলাকায় আক্রান্ত এবং নির্যাতিত তরুণী মহিলাদের ‘ব্যথা’ শুনতে যান। আর সেখানেই বিপাকে পড়ে যান দুই মন্ত্রী। এদিন ওই মহিলারা মুখে কাপড় বেঁধে মন্ত্রী সামনে নিজেদের বক্তব্য বলতে বসেন। প্রথম থেকেই তাঁরা প্রশ্ন তুলতে থাকেন, মুখ্যমন্ত্রী এত অনুষ্ঠানে যেতে পারছেন কিন্তু তাদের এখানে কেন আসতে পারছেন না? কেন তাদের বহিরাগত বলা হচ্ছে? কেন গায়ের রং দিয়ে তাঁদের চরিত্র বিচার করা হচ্ছে? কেন শেখ শাহজাহান এখনও গ্রেফতার হচ্ছে না? শিবু হাজরা এবং উত্তম সর্দার জামিন পেয়ে এসে আবার যে তাদের উপর তান্ডব চালাবে না এমন নিশ্চয়তা কোথায়? দল এতদিন কেন ব্যবস্থা নেয়নি? কেন শেখ শাহজাহানকে দলের তরফে আড়াল করা হচ্ছে? এই ধরনের একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়ে রীতিমত বিব্রত দেখায় রাজ্যের দুই মন্ত্রীকে। যাঁরা কিছুক্ষণ আগেই দলের কর্মী সমর্থকদের সভায় রীতিমতো দাপটের সঙ্গে বক্তব্য রেখে এসেছিলেন। কিন্তু, মহিলাদের একের পর কথা বিস্ফোরক দাবি, অভিযোগ শুনে বেশ চাপে মমতা ক্যাবিনেটের দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী।
দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু ওই মহিলাদের বলতে থাকেন, দল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চরমতম ব্যবস্থা নিয়েছে। দল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে অভিযুক্তদের। কিন্তু, সুজিত বসুর বক্তব্যে কোথাও মহিলাদের মহিলাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু বলেননি। যে কারণে ক্ষোভ রীতিমতো পুঞ্জিভূত হতে থাকে মহিলাদের মধ্যে। এরপরই প্রত্যেকে একসঙ্গে জিজ্ঞাসা করতে থাকেন শেখ শাহজাহান কবে গ্রেফতার? কবে তাঁকে ধরবে পুলিশ? কেন তাকে দল এতদিন পর্যন্ত আড়াল করে এসেছে? এক মহিলার এই প্রশ্নের রীতিমতো বিব্রত হয়ে ‘বেঁফাস’ মন্তব্য করে বসেন রাজ্যের সেচ মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক। এক মহিলাকে উদ্দেশ্যে বলেন, শেখ শাহজাহানের নাম তাঁকে কেউ শিখিয়ে দিয়েছে। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই মহিলা সহ বাকি মহিলারা মন্ত্রীকে বলতে থাকেন, এই বক্তব্যকে ফিরিয়ে নিতে হবে। মন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। বিপাকে পড়ে পার্থ ভৌমিক দাবি করেন, ইডি সিবিআইয়ের জন্য শেখ শাহজাহান গ্রেফতার হচ্ছে না। কিন্তু, তাতেও ওই মহিলারা চুপ করে বসে থাকেননি। স্পষ্ট ভাষায় মন্ত্রীর মুখের ওপর জবাব দেন। বলতে থাকেন, পুলিশ গ্রেফতার করতে পারছে না। রাজ্য সরকার চায় না বলে। অথচ ইডি এবং সিবিআই এর ওপরে দোষ চাপানো হচ্ছে।
এই খবরটিও পড়ুন
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রীতিমতো চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি বিগড়ে যাচ্ছে বুঝতে পেরে দুই মন্ত্রী উঠে পড়েন। হাতজোড় করে বলেন, তাঁদের বক্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে। কেউ ছাড় পাবে না। এই বলে তড়িঘড়ি তারা সন্দেশখালি ফেরিঘাট এসে ধামাখালি দিকে রওনা দেন।