Sandeshkhali: ‘দেওয়াল ফুটো করে দেখা হল কোন মহিলা শুয়ে!’, শিবুর গ্রেফতারির পরই সন্দেশখালিতে সবচেয়ে বিভীষিকার রাত – Bengali News | Sandeshkhali: Alleged attack in police uniform at woman’s house who gave secret statement
সন্দেশখালিতে বিভীষিকার রাতImage Credit source: TV9 Bangla
সন্দেশখালি: শিবু হাজরা গ্রেফতার হয়েছে, কিন্তু তাতে কী! সন্দেশখালি কিন্তু এখনও রয়েছে সন্দেশখালিতেই! আজও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন না গ্রামের মহিলারা। শিবু হাজরার গ্রেফতারির রাতেই বাড়িতে চলল হামলা. বেড়ার ঘরের দেওয়াল ফুটো করে দেখা হল, ঘরের ভিতরে কোন মহিলা শুয়ে? পুলিশ পোশাক পরেও হামলার অভিযোগ। যিনি গোপন জবানবন্দি দিয়ে এসেছিলেন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে, তাঁর বাড়িতেই শনিবার রাতে ঘটল ভয়ঙ্কর ঘটনা! আর ভয়ঙ্কর এই অভিযোগ ঘিরে আবারও তপ্ত হল সন্দেশখালির মাটি।
সন্দেশখালির শিবু হাজরা, উত্তম সর্দারদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন। বাচ্চা কোলে নিয়ে মুখ খুলেছিলেন TV9 বাংলার ক্যামেরার সামনে। অভিযোগ করেছিলেন, শিবু হাজরা লোক বাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়েছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গোপন জবানবন্দি দিয়ে আসার পর থেকে রেহাই নেই! শনিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত শিবু হাজরা গ্রেফতার হয়েছেন। সন্ধ্যা থেকে সন্দেশখালিতে ছিল উৎসবের মেজাজ। মানুষে মিষ্টি মুখ করেছেন। কিন্তু রাতেই জানান দিল সন্ত্রাস! গোপন জবানবন্দি দেওয়া ওই মহিলার বাড়িতে পুলিশের পোশাকে ঢুকে হামলার অভিযোগ উঠল। কিন্তু পুলিশের পোশাকে কেন হামলা? পুলিশের বক্তব্য, পুলিশই এসেছিল, তবে মহিলার নিরাপত্তার জন্য।
ওই মহিলার বক্তব্য অনুযায়ী, “গ্রামের মানুষরা দেখেছেন কী হয়েছে। গ্রামের মানুষ পুলিশকে বলেছে, কিন্তু পুলিশ বলছে আমার নাকি সেফটির জন্যই ওরা এসেছিল। তাই যদি হয়, তাহলে ঘর ভাঙল কে? পুলিশের ভিতরে কীভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত লোক ঢুকল। সকালেও পুলিশ এসেছিল। এবার পুলিশ বলছে, না পুলিশের লোক এটা করতে পারে না। পুলিশ যদি না হয়, তাহলে দুর্নীতিগ্রস্ত লোকই ঢুকেছিল। আমি আড়ালে ছিলাম বলে মারতে পারেনি। আমরা লিখিত অভিযোগ করব।”
এই খবরটিও পড়ুন
তিনি আরও বলেন, “আমার শ্বশুর বলেন, পুলিশ এসেছিল, আমাদের মারধর করছে। গোপন জবানবন্দি দেওয়ার পরই আমার সঙ্গে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। আমার স্বামী বাইরে রয়েছে। আমি বাচ্চা নিয়ে লুকিয়ে রয়েছি। আমি রাতে থাকলে, আজ টিভিতে আমার বডি দেখাত।”
প্রসঙ্গত, সেদিন যখন গোপন জবানবন্দি দিতে যাচ্ছিলেন এই মহিলা, TV9 বাংলার ক্যামেরার সামনেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। বলেছিলেন, “আজ যাচ্ছি, তবে পথে কী হবে জানি না।” সেদিন হয়তো কিছু হয়নি, কিন্তু শিবুর গ্রেফতারির রাতেই তাঁর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠল।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল মন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, “সিপিএমের আমলা কত অত্যাচার দেখেছেন? আমি এখানকার ঘটনা সব জানি। ২০০৪ এর লোকসভার প্রার্থী ছিলাম। আমি ভোট করতে দেয়নি। ওখানে সিপিএম এক একটা মাস্টার তৈরি করেছিল। তারা এক একটা হার্মাদ। তাই সিপিএম যেন মুখ না খোলে!”
সন্দেশখালির আন্দোলনকারী মহিলাদের মুখ যুথিকা রায়ের বক্তব্য, “এখনও আমরা নিরাপদ নই। পুলিশ কোথায়? এই বাড়ির গলি ঘুরতেই পুলিশ ক্যাম্প! আমাদের আতঙ্কের কোনও শেষ নেই।” ভীষণভাবে আতঙ্কিত গ্রামের মহিলারা। এতদিন মহিলারা মুখ ঢেকে হলেও সামনে এসে কথা বলছিলেন। এ রাতের পর তাঁরা সেটাও করতে ভয় পাচ্ছেন।