Jalpaiguri Hospital: অপারেশন করতে হবে, কিন্তু অ্যানেস্থেসিস্ট কই! সরকারি হাসপাতালে এ কোন ছবি – Bengali News | Allegation of not getting proper facility in Jalpaiguri Medical College
জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজImage Credit source: TV9 Bangla
জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ির সংস্কৃতি পাড়া এলাকার বাসিন্দা অর্চনা শীল। তাঁর পেটে রয়েছে পাঁচটি টিউমার। অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করেন। ব্যথার চোটে একাধিক বার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রাইভেটে বিভিন্ন পরীক্ষা করেছেন। তাঁকে বলা হয়েছে, অপারেশন করতে হবে। কিন্তু অভিযোগ, অ্যানেস্থেসিয়ার ডাক্তারবাবু সময় দিতে পারছেন না। ফলে দিনদিন আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন তিনি। শুধু এই একজন নয়, এমন আরও অনেকে রয়েছেন। জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ থেকে দিনের পর দিন ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অপারেশনের রোগীদের। শেষে কোনও উপায় না পেয়ে সোমবার হাসপাতাল চত্বরেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন রোগী ও তাঁর পরিজনরা।
পরিষেবা না পেয়ে দিনের পর দিন তাঁদের ঘুরে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। সোমবার এমন প্রায় ২০ জন স্ত্রী রোগ বিভাগের রোগী ও তাঁর পরিজনরা জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপির সঙ্গে দেখা করতে আসেন। কিন্তু এমএসভিপি-র দেখা না পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। পরে অবশ্য তাঁদের কথা হয় হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারের সঙ্গে। নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগের কথা শোনান।
এই যেমন জলপাইগুড়ি বজরা পাড়ার বাসিন্দা অঞ্জলি রায়। আশি বছরের বৃদ্ধার পারিবারিক অবস্থা খুব একটা ভাল নয়। বৃদ্ধার ছেলে দিনমজুরি করে সংসার টানেন। জটিল স্ত্রী রোগে ভুগছেন বৃদ্ধা। ডাক্তার বলেছে অপারেশন করতে। সপ্তাহ চারেক হত চলল, হাসপাতালে ঘুরছেন তিনি, অথচ অপারেশন এখনও হয়নি বলে অভিযোগ বৃদ্ধার পরিবারের। আবার সেই বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বেরুবাড়ি থেকে হাসপাতালে এসেছেন জিয়ারুল হক। তাঁর স্ত্রীর জরায়ুর সমস্যা রয়েছে। অপারেশন করতে হবে। কিন্তু তা এখনও হয়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ। এলাকার এক সমাজকর্মী অঙ্কুর দাসের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে ঘুরপথে নার্সিংহোমে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে এই যাবতীয় অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার মলয় দে’র সঙ্গে। সমস্যা যে একটা রয়েছে, সে কথা মানছেন তিনিও। বলছেন, ‘অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগে এমনিই লোকজন কম রয়েছে। আমরা এইচওডি-কে অনুরোধ করেছি, ওনার হাউজ স্টাফ যাঁরা আছেন, তাঁদের পাঠানোর জন্য। আশা করা যায়, এর মধ্যেই ব্যবস্থা হয়ে যাবে।অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগে ডাক্তারবাবুর সংখ্যা অনেক কম। আমাদের তিনটি জায়গায় ওটি চলে। ফলে একসঙ্গে সব জায়গায় তাঁরা কভার আপ করতে পারেন না।’