Male fertility: গরম জলে স্নান করলেই কি শুক্রাণুর গুণগত মান খারাপ হবে? বিশিষ্ট চিকিৎসক যা বললেন… – Bengali News | Can bathing with hot water reduce male fertility
কেন বাড়ছে পুরুষদের ইনফার্টিলিটি
শীতকালে অধিকাংশ মানুষই গরম জলে স্নান করেন। আবার কিছু মানুষ আছেন কনকনে ঠান্ডাতেও যাঁদের ঠান্ডা জলে স্নান করাই অভ্যেস। এমনও কিছু মানুষ আছেন যাঁদের আবার অভ্যাস সারা বছর গরম জলে স্নান করা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইষৎ উষ্ণ গরম জলে স্নান করা সব সময় ভাল। বিশেষত যাঁরা সব সময় কোনও রকম ব্যথায় ভোগেন। আর খুব বেশি পরিশ্রমের পর বাইরে থেকে বাড়িতে ফিরলে তখনও ইষদুষ্ণ জলে স্নান করতে পারেন। এতে সঙ্কুচিত পেশী প্রসারিত হয় (muscle retraction) এবং আমরা আরাম বোধ করি। রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। তবে ফুটন্ত জলে স্নান করা একেবারেই ঠিক না। সম্প্রতি হার্ভাড হেলথের একটি গবেষণা সামনে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন যদি গরম জলে স্নান করা হয় তাহলে শুক্রাশয়ের আকার বদলে যেতে পারে, কমবে স্পার্ম কাউন্টও। সেই গবেষণায় আরও যোগ করা হয়েছে, আমাদের শরীরের সাধারণ তাপমাত্রা যদি ২-৪ ডিগ্রি বেড়ে যায়, সেক্ষেত্রেও শুক্রাশয়ের উপর প্রভাব পড়ে। পরিমাণের তুলনায় কম শুক্রাণু উৎপাদন হয়। সঙ্গে টেস্টোস্টেরন হরমোনও ঠিকমত উৎপাদন হতে পারে না।
এছাড়াও শুক্রাণুর আকারে পরিবর্তন হয়, শুক্রাণুর কোষের গঠনগত পরিবর্তন হয়, পরিবর্তন আসে DNA integrity-তেও (ডিএনএ-র দৃঢ়তা)। যেখান থেকে ইনফার্টিলিটি, সন্তান ধারণে সমস্যা, জিনগত পরিবর্তন একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। সমীক্ষা বলছে, ‘গরম জলে স্নান করলে পুরুষদের মধ্যে ইনফার্টিলিটির সম্ভাবনা বাড়ে, কমে যায় স্পার্ম কাউন্ট’। সত্যিই কি এমনটা হয়? এই বিষয়ে TV9 বাংলার তরফে চিকিৎসক শুদ্ধসত্ত্ব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর কাছে প্রস্ন রাখা হয়: শীতে অনেকেই গরম জলে স্নান করেন। অনেকেই আবার সার বছর গরম জলে স্নান করেন স্বাস্থ্যের খাতিরে। আদৌ তা শরীরের জন্য কতটা ভাল? শুদ্ধসত্ত্ব বলেন, ”গঠনগত কারণেই শুক্রাশয় আমাদের শরীরের বাইরে থাকে। কারণ শরীরের সাধারণ তাপমাত্রা অর্থাৎ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শরীরে শুক্রাণু তৈরি হতে পারে না। বাইরের তাপমাত্রা বাড়লে শুক্রাণু কম পরিমাণে তৈরি হয়। কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকে ১২-২৪। সর্বোচ্চ ৪২-৪৫। এবার তাপের তারতম্য হলে সেখান থেকে কম শুক্রাণু উৎপদনের সম্ভাবনা থেকে যায়।”
কেন বাড়ছে লো স্পার্ম কাউন্ট?
শুদ্ধসত্ত্বর মতে: এর নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ বেশি খেলে, ধূমপান-মদ্যপান স্পার্ম কোয়ালিটি খারাপ করে এবং উৎপাদন কমায়। এছাড়াও পেশী গঠনের ওষুধ বেশি খেলে, জন্মগত কোনও অসুখ থাকলে, কেমোথেরাপির ওষুধ থেকেও এই একই সমস্যা হতে পারে। বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রেও শুধুমাত্র যে স্পার্ম কোয়ালিটি দায়ী, এমনটা নয়। এর নেপথ্যেও একাধিক কারণ থাকে। অনেক সময় দেখা যায় মহিলা এবং পুরুষের কোনও রকম সমস্যা না থাকার পরও সন্তান ধারণ করতে পারছেন না। আমাদের জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস, ওবেসিটি, সুগার-প্রেশারও বন্ধ্যাত্বের কারণ।
কী ভাবে বাড়াবেন হেলদি স্পার্ম
শুদ্ধসত্ত্বর পরামর্শ: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া (গাজর, বিনস, বিট, ক্য়াপসিকাম, মটরশুঁটি), টাটকা ফল-সবজি খাওয়া, সিন্থেটিক খাবার থেকে দূরে থাকা, মদ্যপান-ধূমপান থেকে দূরে থাকা… সহজ কথায় সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা গড়ে তুলতে পারলে এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পারবেন।