China: ১৫ তলা থেকে দুই শিশুকে নীচে ফেলে দিয়ে এ কোন সংসার পাততে চেয়েছিল ওরা? – Bengali News | Chinese Couple Executed For Killing 2 Children To Start New Family Together
বেজিং: কথায় বলে, প্রেমে আর যুদ্ধে কোনও কাজই অপরাধ নয়। কিন্তু, তাই বলে দুই কোলের শিশুকে ১৫ তলা ভবনের জানলা দিয়ে নীচে ছুড়ে ফেলা? অনেকেই হয়তো বিশ্বাস করতে পারছেন না, কিন্তু, নতুন করে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে এই ভয়ানক কাজই করেছিল এক চিনা দম্পতি। ঘটনাটি ২০২০ সালের। এই ঘটনা চিনে দেশব্যাপী ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল। দুই বছর আগেই তাদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল চিনা সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
চেন মেইলিন নামে এক মহিলাকে বিয়ে করেছিল ঝাং বো। তাদের এক দুই বছরের মেয়ে এবং এক বছরের ছেলে ছিল। এরপর, ইয়ে চেংচেন নামে আরও এক মহিলার সঙ্গে নতুন করে প্রেম হয় ঝাং-এর। তবে, সম্পর্কের শুরুতে সে য়ে বিবাহিত এবং দুই সন্তানের বাবা, তা ইয়েকে জানায়নি ঝাং। প্রেম যখন চরমে, তখনই প্রথম ঝাং তাঁর বৈবাহিক সম্পর্কের কথা জানিয়েছিল ইয়েকে। ততদিনে, দুজনে একসঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দিয়েছেন। নতুন সংসার পাতার জন্য, ২০২০-র ফেব্রুয়ারিতে তার তৎকালীন স্ত্রী চেন-কে বিচ্ছেদ দিয়েছিল ঝাং।
প্রধান বাধা দূর হলেও, ছিল ঝাং-এর সন্তানরা। ওই দুই পুলের মতো শিশুকেও তাদের সম্পর্কের পথের বাধা হিসেবে দেখেছিলেন ইয়ে। তিনিই ওই দুই শিশুকে হত্যার জন্য চাপ দিয়েছিলেন ঝং-কে। আর তারপরই, নিজের দুই সন্তানকে ১৫ তলার ফ্ল্যাটের জানলা দিয়ে নীচে ছুড়ে ফেলে হত্যা করেছিল ঝাং। শুরুতে অবশ্য, ঝাং পুলিশকে বলেছিল, সে ফ্ল্যাটে ঘুমোচ্ছ। সেই সময়ই কোনোভাবে তাঁর দুই সন্তান জানলা দিয়ে নীচে পড়ে যায়। নীচ থেকে লোকজনের চিৎকারে তার ঘুম ভেঙেছিল। চিনা সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর ঝাং-কে পুরোপুরি ভেঙে পড়তে দেখা গিয়েচিল। তাঁকে দেওয়ালে মাথা ঠুকে ঠুকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁদতে দেখা গিয়েছিল। পরে অবশ্য পুলিশি জেরার মুখে সে, সত্যিটা স্বীকার করে।
তবে, সবথেকে অবাক হয়েছিলেন শিশুদুটির মা, ঝাং-এর প্রাক্তন স্ত্রী চেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সন্তানদের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা শোনার পর তিনি ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলেন। চেন বলেছেন, “যে মুহুর্তে আমি শুনেছিলাম যে আমার বাচ্চাদের আসলে তাদের বাবা এবং তার প্রেমিকা ১৫ তলা থেকে ফেলে দিয়েছে, আমি আমার অনুভূতি বর্ণনা করার মতো কোনও শব্দ খুঁজে পাইনি। আমার বাচ্চারা ১৫তলা থেকে মাটিতে পড়ার সময় কী ভয়, কী যন্ত্রনা পেয়েছে, তা আমি কল্পনা করতে পারি না। ওরা (ঝাং ও ইয়ে) এতটা মরিয়া ছিল! ওরা কীসের ভয় পেয়েছিল?”