Gouri Sen: 'লাগে টাকা দেবে...', কে এই গৌরী সেন? দেনার দায়ে আত্মঘাতী হয়েছিল বংশধররা - Bengali News | Who was Gouri Sen, know the story of this famous bengali businessman - 24 Ghanta Bangla News
Home

Gouri Sen: ‘লাগে টাকা দেবে…’, কে এই গৌরী সেন? দেনার দায়ে আত্মঘাতী হয়েছিল বংশধররা – Bengali News | Who was Gouri Sen, know the story of this famous bengali businessman

Spread the love

নয়া দিল্লি: বাংলার জনপ্রিয় প্রবাদ, “লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন!” কিন্তু কে এই গৌরী সেন? তিনি কি কোনও কাল্পনিক চরিত্র? না, গৌরী সেন এক ঐতিহাসিক চরিত্র। সতেরশ শতকের বাঙালি ব্যবসায়ী। আসলে তাঁর জন্মই হয়েছিল এক সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পরিবারে। সেই সময়ের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বাঙালি ব্যবসায়ী নন্দরাম সেনের পুত্র ছিলেন তিনি। তবে, অনেকেরই জানা নেই, এহেন গৌরী সেনের উত্তরসূরীদের দেনার দায়ে আত্মঘাতী হতে হয়েছিল।

১৫৮০ সালে হুগলিতে জন্মেছিলেন গৌরী সেন। তাঁর পরিবারের ছিল আমদানি-রফতানির ব্যবসা। বড় হওয়ার পর, তিনি পরিবারিক ব্যবসায়ে যোগ দিয়েছিলেন। তীক্ষ্ণ ব্যবসায়িক দক্ষতায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তাঁদের পারিবারিক ব্যবসাকে এক নতুন উচ্চতায় তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি অত্যন্ত হাসিখুশি মেজাজের ছিলেন বলে, সকলেই তাঁকে পছন্দ করতেন। শীঘ্রই তিনি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যেও অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন। ১৬৩২ সালে, তিনি কলকাতায় আসেন। ৩৫ ও ৩৬ নম্বর কলুটোলা স্ট্রিটে একটি বাসভবন স্থাপন করেছিলেন।

কলকাতায় আসার পর, বৈশবচরণ শেঠের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবসা শুরু করেন। দু’জনেই ছিলেন অত্যন্ত সৎ ও ধার্মিক এবং উদার মনের মানুষ। অভাবীদের সাহায্য করতে দুজনেরই কোনও দ্বিধা ছিল না। বস্তুত, একজন ব্যবসায়ী থেকে, গৌরী সেনের উদার সমাজসেবী হয়ে ওঠার পিছনে, প্রাথমিকভাবে বৈশবচরণ শেঠের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এর শুরুটা হয়েছিল, সাত জাহাজ ভরা দস্তা কিনতে গিয়ে। ওই দস্তা সেঠ কিনেছিলেন গৌরী সেনের নামে। পরে দেখা যায়, জাহাজগুলিতে দস্তার পরিবর্তে রয়েছে রুপো! বৈশবচরণ শেঠ ওই রুপো নিজের কাছেই রাখতে পারতেন। কিন্তু, তা বিক্রি করে পুরো টাকাটা তিনি গৌরী সেনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, যেহেতু জাহাজগুলি গৌরা সেনের নামে তিনি কিনেছিলেন, তাই লাভের টাকা গৌরা সেনেরই পাওয়া উচিত!

এই ঘটনাই এক লহমায় গৌরা সেনের ভাগ্য বদলে গিয়েছিল। বিপুল অর্থ লাভ করেছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে, বৈশবচরণ শেঠকে ছেড়ে তিনি অন্যান্য ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে ব্যবসায়িক উদ্যোগ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর ব্যবসার বিপুল প্রসার ঘটে। তিনি তাঁর সমস্ত ব্যবসায়িক উদ্যোগ সফল হয়েছিল। ব্যবসায়িক উন্নতির সমান্তরালে, বেড়ে চলে তাঁর দাতব্য কাজকর্ম। যখনই তিনি শুনতেন কোনও অসহায় মানুষ ঋণের দায়ে জর্জরিত, তিনি তাঁকে ঋণমুক্ত করার জন্য টাকা পাঠাতেন। কেউ তাঁর কাছে সাহায্য চাইতে এসে ফিরে যেত না। শীঘ্রই তাঁর এই দানশীলতার কাহিনি গোটা কলকাতা শহরের চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল।

তবে, অদৃষ্টের এমনই নিষ্ঠুর পরিহাস যে, পরবর্তীকালে, এই ‘দাতা’ গৌরী সেনের পরিবারেরই দুই ভাইকে ঋণের দায়ে আত্মঘাতী হতে হয়েছিল। সেন পরিবারের ভাই – দিলীপ, অসীম এবং বিমল বেকারি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। গত শতাব্দীর নয়ের জশকে ‘সেনকো রুটি’ দক্ষিণবঙ্গে দ্রুত ব্যবসা ছড়িয়েছিল। সংস্থাটি বিস্কুট তৈরি করত এবং কিছু সময়ের মধ্যেই সেনকো বিস্কুটের বাজারে এক প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছিল। সংস্থার উন্নতির আসল কারণ ছিল তাদের পণ্যের গুণমান। তবে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে হঠাৎ করেই সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছিল। কারখানা বন্ধ করে দিতে হয়েছিল এবং বিশাল ঋণের বোঝা এসে চেপেছিল তিন ভাইয়ের মাথায়। যার জেরে আত্মহত্যা করেন অসীম ও বিমল।তাঁরা অবশ্য হোটেল ব্যবসাতেও বিনিয়োগ করেছিলেন। পুরীতে নীলাচল হোটেলটি তাঁদেরই তৈরি করা। সেই হোটেল এখনও চলে। তিন ভাইয়ের ছেলেরা চালান সেই ব্যবসা।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *