বহু বছরের অব্যবহারে জং ধরেছে সাইরেনে, কেটেছে তার! মক ড্রিলের আগেই সেসব সচল করার নির্দেশ! - 24 Ghanta Bangla News
Home

বহু বছরের অব্যবহারে জং ধরেছে সাইরেনে, কেটেছে তার! মক ড্রিলের আগেই সেসব সচল করার নির্দেশ!

Spread the love

মক ড্রিল শুরু হলে আদৌ বাজবে তো সাইরেন? এই মুহূর্তে রাজ্যের কাছে এটাই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, তথ্য বলছে – বহু বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকার ফলে একাধিক সাইরেনের যন্ত্রাংশে মরচে ধরতে পারে, সেগুলিকে কার্যকর করার তারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে, বা অন্য নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এই অবস্থায় শহর কলকাতার ৯০টি সাইরেন শনাক্ত করে সেগুলিকে যাতে সচল করা হয়, তেমনই নির্দেশ দিয়েছে সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। সেইসঙ্গে, কোন ধরনের সাইরেনের শব্দে, মানুষকে কীভাবে আচরণ করতে হবে, সেই বিষয়ে লাগাতার প্রচারে জোর দেওয়া হয়েছে।

যেমন – সাইরেনের শব্দ যদি ওঠানামা করে, তাহলে বুঝতে হবে, আপতকালীন পরিস্থিতি এসে গিয়েছে। এবার আত্মক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। সেক্ষেত্রে স্থান ভেদে বাসিন্দাদের কোনও ইনবিল্ড বাঙ্কার অথবা কোনও এল, ভি, কিংবা এইচ বাঙ্কারের মধ্যে আশ্রয় নিতে হবে। সাধারণত, আকাশপথে কোনও হামলা হলেই এই ধরনের সাইরেন বাজানো হয়। আর, সাইরেনের শব্দ যদি সমান লয়ে চলে, তাহলে বুঝতে হবে – পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এক্ষেত্রে ইনবিল্ড বাঙ্কার হিসাবে শহর কলকাতায় পাতাল রেলের মাটির নীচে থাকা অংশ, বিভিন্ন বহুতলের আন্ডার গ্রাউন্ড বা বেসমেন্ট পার্কিং লট ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন খালের পাড়ে মাটি কেটে, তা এল, ভি বা এইচের আকারে গড়ে নিতে হবে এবং তার উপর টিনের ছাউনি দিয়ে সেগুলি বাঙ্কার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এগুলি সম্পর্কে আমজনতাকে সচেতন করতে মূলত ছাত্র, যুব-সহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে বিশেষ করে বিষয়গুলি বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় ৫৫ হাজার সিভিক ভলান্টিয়ার এবং ৭,২০০ ‘আপদ মিত্র’কে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

তথ্য বলছে, শহর কলকাতায় সিভিল ডিফেন্সের ভবন, মহাজাতি সদন, হাইকোর্ট, লালবাজার, বেশ কিছু থানা-সহ মোট ৯০টি সরকারি ভবনের ছাদে সাইরেন রয়েছে। আপাতত সেগুলির সবক’টিকে সচল করে তোলাই রাজ্যের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে, মক ড্রিলের সময় সকলকে যে বাঙ্কারে গিয়ে ঢুকতে হবেই, তা নয়। কিন্তু, সত্যিকার যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে কী করা দরকার, সেই বিষয়ে প্রত্যেক নাগরিককে সচেনতন করাই হবে এই মক ড্রিলের প্রধান লক্ষ্য। এরই সঙ্গে কলকাতা ও প্রত্যেকটি জেলার কন্ট্রোল রুমগুলি যাতে সর্বক্ষণ সচল থাকে, সেদিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে। গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে সর্বক্ষণের যোগাযোগব্যবস্থার উপর।

প্রসঙ্গত, মকড্রিলের আগেই হাওড়ায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও সিভিল ডিফেন্সের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ হাওড়ার জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে নতুন সাইরেনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *