Explained: রাষ্ট্রপতি শাসন কী? কখন করা যায় জারি? - Bengali News | What is President's Rule? A Look at Its Meaning and Instances in West Bengal - 24 Ghanta Bangla News
Home

Explained: রাষ্ট্রপতি শাসন কী? কখন করা যায় জারি? – Bengali News | What is President’s Rule? A Look at Its Meaning and Instances in West Bengal

Spread the love

কলকাতা: মুর্শিদাবাদ ও তাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রপতি শাসনের বিতর্ক। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা থেকে রাজ্যপাল সকলের মুখেই উঠল ওই এক দাবি। কিছুদিন আগেই অশান্তি কবলিত মুর্শিদাবাদে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। সরেজমিনে খতিয়ে দেখে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে জানানোর। রবিবার ঠিক তেমনটাই হল।

সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে মুর্শিদাবাদের ঘটনা নিয়ে একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছেন সি ভি আনন্দ বোস। ওই রিপোর্টেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ লাগুর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, গোটা রিপোর্ট জুড়ে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার খতিয়ানও তুলে ধরেছেন তিনি। এমনকি, গোটা ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত বলে আখ্যান দিয়ে রিপোর্টে রাজ্যপালের দাবি, ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে রাজনৈতিক শোষণ হয়েছে। শাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে কেন্দ্রীয় সরকারকে হস্তক্ষেপ করারও কথা বলেছেন তিনি।

রাজ্যপালের এই রিপোর্টের পর থেকে নতুন করে সরগরম হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। গোটা বিষয়টি সামনে আসার পরে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের দাবি, ‘রাজ্যপালের রিপোর্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজনৈতিক দায় থেকেই এই রিপোর্ট পাঠিয়েছেন তিনি। উনি জানেন, মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। ফলে অবনতির প্রসঙ্গই আসে না।’

পাল্টা রাজ্যপালের সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। এদিন রাজ্য বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমরা এবার এটা একটা ফলাফল চাই। রাজ্যপাল বলেছেন, আবারও কিছু হলে রাষ্ট্রপতি শাসন করা হোক। রাষ্ট্রপতি শাসন জারির আবেদনের ক্ষেত্রে যে ধরনের নির্দিষ্ট সুপারিশের প্রয়োজন হয়, আমার মনে হয় না এক্ষেত্রে সেটা রয়েছে। তবে রিপোর্টটি স্বাগত জানানোর মতো।’

রাজ্যপালের ‘সুপারিশের’ পর বঙ্গের রাজনৈতিক আয়নায় ফের একবার ভেসে উঠেছে রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রতিবিম্ব। কোন পথে যাবে কেন্দ্র? একটা রিপোর্টেই কি শাসনক্ষমতা হারাবে রাজ্য প্রশাসন? উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

জেনে নেওয়া যাক কী এই অনুচ্ছেদ ৩৫৬? কীভাবেই বা লাগু হয় এটি?

সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির বিধান রয়েছে। কোনও রাজ্য সাংবিধানিক ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে সেখানে এই ৩৫৬ জারির সুপারিশ দিয়ে থাকেন রাজ্যপাল। যা হয়েছে বাংলাতেও। কিন্তু রাজ্যপাল সুপারিশ করলেই কি লাগু হয়ে যায় ৩৫৬? এই প্রসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবশিষ কর গুপ্ত জানিয়েছেন, ঠিক তেমনটা নয়। রাজ্যপালের সুপারিশের পর গোটা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি। রাজ্যপালের যুক্তি অকাঠ্য মনে হলেই এই ভিত্তিতে একটি ঘোষণা করতে পারেন তিনি। তবে সেই রাষ্ট্রপতি অনুমোদিত সেই প্রস্তাব সংসদের উভয়কক্ষেই পেশ করতে হয়। সেখানে অনুমোদন পেলে তবেই একটি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। তারপর সেই ভিত্তিতে রাজ্যের শাসনভার চলে যায় রাজ্যপাল ও ঘুরপথে কেন্দ্রেরই হাতে। এই সময়কালে স্থগিত হয়ে যায় রাজ্যের বিধানসভা।

কিন্তু কত দিন পর্যন্ত স্থায়িত্ব রাষ্ট্রপতি শাসনের? সংবিধান বলছে, সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত একটি রাজ্যকে রাষ্ট্রপতি শাসনের আওয়াত রাখা সম্ভব। তবে প্রতি ছয় মাস অন্তর সেই ৩৫৬ অনুচ্ছেদ তখনও জারি থাকার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কিনা সেই প্রসঙ্গে সংসদের তরফে অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি চাইলে সংসদের সেই সম্মতির প্রয়োজন হয় না।

অনেকেই রাষ্ট্রপতি শাসনকে জরুরি অবস্থার মিশিয়ে থাকেন। কিন্তু জরুরি অবস্থা একটা গোটা দেশজুড়ে হয় আর রাষ্ট্রপতি শাসন কোনও নির্দিষ্ট রাজ্যে। জরুরি অবস্থার ব্যাপ্তি অনেকটা বেশি। যা দেখেছে ভারত। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইন্দিরা গান্ধীর সরকার ঘুরপথে নিজেদের হাতে ক্ষমতার রাশ ধরে রাখার জন্য গোটা দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসন মোটেই তেমনটা। এক্ষেত্রে ব্যাপ্তী শুধু রাজ্যেই সীমিত থাকে।

তবে রাষ্ট্রপতি শাসন কি সমস্ত অচলাবস্থা সমাধানের একমাত্র পথ?

তেমনটা ঠিক নয়। রাষ্ট্রপতি শাসন যেমন সমাধানের রাস্তা টেনে থাকে। ঠিক তেমনই এই ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে অনেক। যেমন, ২০১৬ সালে অরুণাচল প্রদেশে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগে অপব্যবহার দেখা যায়। কিন্তু রাজ্যপালের সেই সুপারিশ কার্যত বিতর্কিত। পাশাপাশি, ৩৫৬ ধারা কেন্দ্রের হাতে একাধিপত্য তুলে দিয়ে থাকে। সুপ্রিম কোর্টে ১৯৭৭ সালে রাজ্যস্থান বনাম ভারত সরকার মামলাতে সেই প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল বিচারপতিদের রায়ে। বলা হয়েছিল, ভারতীয় সার্বভৌমত্বে একক পক্ষপাতকে তুলে ধরে এই অনুচ্ছেদ।

রাষ্ট্রপতি শাসন ও বাংলা

বিগত কয়েক বছরে বিশেষ করে ২০২০ সালের পর থেকে নানা তর্কে-বিতর্কে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবি তুলেছেন বিরোধীরা। কখনও NRC ঘিরে কলকাতায় আন্দোলন। কখনও আবার সন্দেশখালী শাহজাহানের দাপট। সাম্প্রতিককালে ভোট-পরবর্তীকালীন হিংসা-সহ মুর্শিদাবাদের ঘটনা প্রতি ক্ষেত্রেই বিরোধীদের মুখে উঠে এসেছে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার দাবি। তবে জানেন কি, এই বাংলাতেও স্বাধীনতার পর চার চারবার জারি হয়েছিল ৩৫৬ অনুচ্ছেদ।

প্রথমবার, বাংলায় ৩৫৬ জারি হয় স্বাধীনতার দুই দশক পর ১৯৬৮ সালেষ সেবার মোট ১ বছর ৫ দিন স্থায়িত্ব থাকার পর ১৯৬৯ সালে উঠে যায় কড়াকড়ি। যুক্তফ্রন্টের মধ্য়ে তৈরি হওয়া সংঘর্ষ ও রাজ্যজুড়ে অচলাবস্থা এই দুই কারণই রাষ্ট্রপতি শাসনের নির্দেশে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছিল। সেই বার ৩৫৬ ওঠার আবার এক বছরের মধ্য়ে ১৯৭০ সালে আবার ১ বছরের বেশি সময়ের জন্য দ্বিতীয়বার বাংলায় জারি হয়ে যায় রাষ্ট্রপতি শাসন। নিজের সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায়। এরপরই নতুন সরকার তৈরি করার জন্য তৎপর হন তৎকালীন রাজ্যপাল। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল না দিতে পেরে সুপারিশ দেন ৩৫৬ জারি করার।

১৯৭১ সালে এপ্রিল মাসে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি শাসন উঠে যেতেই আবার দু’মাসের মধ্যে ফের একই কাণ্ড। নতুন করে রাজ্যে জুড়ে সরকারের ‘নাটক’। যার জেরে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে পর পর তৃতীয়বারের জন্য জারি হয় ৩৫৬। বাংলায় শেষ ও চতূর্থবার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছিল সত্তরের দশকের শেষার্ধে। ১৯৭৭ সালে দু’মাসের জন্য। সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের শাসনকালীন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ঘিরেই সে বার আবার নতুন করে জারি হয়েছিল ৩৫৬।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *