মহিলাদের কটূক্তির প্রতিবাদ করায় মামাতো দাদাকে খুন, যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত, বাংলার মুখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

মহিলাদের কটূক্তির প্রতিবাদ করায় মামাতো দাদাকে খুন, যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত, বাংলার মুখ

Spread the love

মহিলাদের কটূক্তির প্রতিবাদ করায় মামাতো দাদাকে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির সাজা শোনাল জলপাইগুড়ি আদালত। শনিবার জলপাইগুড়ি আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক দোষী সাব্যস্ত হওয়া সুরেশ রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে আদালতের রায়ের পড়ে নির্বিকার থাকতে দেখা যায় সুরেশকে। আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সংবাদ মাধ্যমের সামনে সে জানায়, ‘কিছুই বলার নেই।’ তবে আদালত সূত্রের খবর, নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দোষী উচ্চতর আদালতে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: UAE-তে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে আরও ২৫ জন ভারতীয় নাগরিককে, কেন্দ্র

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত চার বছর আগে ২০২১ সালের ৪ মার্চ। ওই দিন মামাতো দাদা শঙ্কর দাসকে কুপিয়ে খুন করে সুরেশ। নিউ জলপাইগুড়ি থানার অন্তর্গত শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা শঙ্কর দাস। তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাঁর পিসতুতো ভাই সুরেশ রায়ও একই এলাকার বাসিন্দা। জানা যায়, সুরেশের চরিত্র ভালো নয়। নয় মহিলাদের কটুক্তি করার পাশাপাশি তাঁদের নানাভাবে উত্যক্ত করত। তার সেই আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে মহিলাদের কটুক্তি করার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন দাদা শঙ্কর। তা থেকে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। শঙ্করের বিরুদ্ধে ভিতরে ক্ষোভ পুষে রেখেছিল সুরেশ। তারপরেই খুনের ঘটনা।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, শঙ্করকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল সুরেশ। সেই অনুযায়ী, শঙ্কর একটি চায়ের দোকানে বসে থাকার সময় তাঁর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় সুরেশ। সকলের সামনেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে ১৮ বার কুপিয়ে খুন করে শঙ্করকে। ঘটনায় শঙ্করের লিভার, কিডনিতে গুরুতর আঘাত লাগে। হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানানো হয়, কিডনি, লিভার ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ গড়ে উঠেছিল এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শী থেকে শুরু করে পরিবারের সকলেই খুনির ফাঁসির দাবি জানিয়েছিলেন। এই মামলায় মোট ১২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এছাড়াও, একাধিক প্রমাণের ভিত্তিতে নৃশংস খুনের ঘটনায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। তারপরেই এদিন ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেন বিচারক। আদালতের রায়ে পরিবার ও এলাকার বাসিন্দারা খুশি। এখন দ্রুত রায় যাতে কার্যকর হয় সেটাই চাইছেন সকলে। এদিন, ন্যায় বিচারের দাবিতে মৃতের বন্ধু প্রণব কুমার দাস-সহ কয়েকজন ব্যানার নিয়ে জলপাইগুড়ি জেলা আদালত চত্বরে উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রণব বলেন, ‘এভাবে বন্ধু খুন হওয়ায় আমরা মর্মাহত। খুব কষ্ট করে ওদের সংসার চলত। আজ ন্যায় বিচার পাওয়ায় আমরা খুশি বলে তিনি জানান।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *