নওশাদকে ‘জঙ্গি’ বলে কটাক্ষ, শওকতের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ আইএসএফ বিধায়ক, বাংলার মুখ
ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে প্রায়ই কটাক্ষ করে থাকেন ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। এনিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শওকতের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন নওশাদ। সম্প্রতি এক ধাপ এগিয়ে নওশাদকে জঙ্গি বলে কটাক্ষ করেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। সেই মন্তব্য বিরোধিতা করে আগেই আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন আইএসএফ বিধায়ক। সেইমতোই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। শওকতের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন নওশাদ।
আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ISF বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে, বাহিনী এল দুয়ারে
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ভাঙড়ের প্রাণগঞ্জ অঞ্চলের কালিকাপুর এলাকার একটি রাস্তার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন শওকত। সেখান থেকেই নওশাদকে জঙ্গি বলে কটাক্ষ করেছিলেন শওকত। তিনি বলেছিলেন, যুব সমাজের হাতে বন্দুক, আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়েছেন নওশাদ। এরপরই নওশাদকে সন্ত্রাসবাদী, জঙ্গি বলে তকমা দিয়ে বলেছিলেন, একজন সন্ত্রাসবাদী, জঙ্গি নেতা ভাঙড়ের মাটিতে এই কর্মকাণ্ড করে বেড়াচ্ছেন। শওকত মোল্লার সেই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তা জানতে পেরে ব্যাঙ্কশাল কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকি। তৃণমূল বিধায়ক যে এই ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন সে বিষয়ে আদালতের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে জঙ্গি বলায় অবমানিত বোধ করছেন আইএসএফ বিধায়ক। তিনি বলেন, তিনি কোর্টের কাছ থেকে জানতে চেয়েছেন কোর্ট তাঁকে সার্টিফিকেট দিয়ে জানাক যে তিনি জঙ্গি। এভাবে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে যে মন্তব্য করা হয়েছে তাতে তিনি অপমানিত হয়েছেন।
এর আগে নওশাদ সিদ্দিকি বলেছিলেন, যে শওকত মোল্লা তাঁর নামে এই ধরনের অনেক অবাঞ্ছিত মন্তব্য করছেন। তারজন্য কোর্টে মামলা করেছেন। আদালতেও তাঁকে টেনে নিয়ে গিয়েছেন। আর জঙ্গি বলার ফুটেজ হাতে পাওয়ার পরেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন। সেই মতোই বুধবার ব্যাঙ্কশাল আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তিনি যদি জঙ্গি হয়ে থাকেন তাহলে বিধানসভা থেকে কেন স্পিকার তাঁকে বহিষ্কার করেননি। তাহলে কি শওকত মোল্লা স্পিকারের কাজের উপরেই আঙুল তুলছেন। পুলিশ মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বা তাঁর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
যদিও নিজের বক্তব্যই অনড় রয়েছেন শওকত মোল্লা। তিনি বলেন, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপরে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশকে খুনের চেষ্টা হয়েছিল। তাই নওশাদকে জঙ্গি বলায় কোনও অন্যায় নেই। তাদের আইনি লড়াই চলবে।