PM Narendra Modi in Brunei: চিন নিয়ে টানাপোড়েন! সুলতানের সঙ্গে দেখা নমোর―বড় পদক্ষেপ? – Bengali News | International Politics: Prime Minister Narendra Modi’s Visit To Brunei
তিনরকম কোফতা, পনির, পাঁচরকম ডাল, ঢ্যাঁড়সের দুটো পদ, স্টাফড আলু, পটলের দোলমা, আম-কেশর প্যাঁড়া, মোতিচুর লাড্ডু, ফলের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি দই। খাঁটি ভারতীয় খানা, নিখুঁত তিথি-অ্যাপায়ন। অতিথি নরেন্দ্র মোদী। গৃহকর্তা ব্রুনেইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়া। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে গদিতে থাকা রাষ্ট্রনেতা। তাঁর আগে সবচেয়ে বেশি সময় দেশ শাসন করেছেন দ্বিতীয় এলিজাবেথ। সুলতান দুনিয়ার তাবড় শেফদের উড়িয়ে নিয়ে যান নিজের দেশে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের মেনু তৈরি করতে। তাঁর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে গত ৬০ বছরে প্রথম ব্রুনেই গেলেন ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রী। আর এই সূত্রে আমাদের সামনে খুলতে চলেছে এক নতুন সম্ভাবনা। সবকিছু ঠিকঠাক হলে আগামী বছরই ব্রুনেইয়ের সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হতে পারে। এখন একমাত্র কাতারের সঙ্গেই ভারতের এরকম চুক্তি রয়েছে। ইসরোর তিনটে ইন্টারন্যাশনাল গ্রাউন্ড স্টেশনের একটা ব্রুনেইয়ে। সুলতান চাইছেন, মহাকাশ গবেষণায় ইসরোর সঙ্গে কাজ করতে। সম্ভব হলে ইসরোর অভিযানে তাঁর দেশকেও শরিক করতে চান। আসলে কী জানেন, ব্রুনেইয়ের সুলতানের ব্যাপার-স্যাপারই আলাদা। ঠাঁটবাঁটে আরবের দেশগুলোর সুলতানদের বলে বলে দশ গোল দিতে পারেন তিনি। কয়েকটা নমুনা শুনবেন? দামি গাড়ি সুলতানের খুবই পছন্দের। তাঁর গ্যারেজ আড়াইখানা আন্তর্জাতিক ফুটবল স্টেডিয়ামের চেয়েও বড়। ৭ হাজার গাড়ি রাখতে হয় যে গ্যারেজে, সেটা এর চেয়ে ছোট হলে তো চলে না, তাই না? ৬০০ রোলস রয়েস, ৫০০ ফেরারি, সাড়ে তিনশো বেন্টলে। স্পেশাল এডিশন গাড়িই সাতশোর উপর।
শুধুমাত্র সুলতানের জন্যই একটা করে গাড়ির মডেল তৈরি করেছে দুনিয়ার বিখ্যাত গাড়ি সংস্থাগুলো। সেরকম গাড়ির সংখ্যাও দেড়শোর বেশি। তবে সুলতানের ফেভারিট হলো রোলস রয়েস সিলভার স্প্যাটি। পুরো গাড়িটাই সোনার পাতে মোড়া। ১৭ বছর আগে মেয়ের বিয়েতে উপহার দেওয়ার জন্যও একটি রোলস রয়েস তৈরি করিয়েছিলেন সুলতান। সেটা শুধু সোনা নয়, হিরেয় মোড়া। সেই হিরে সরবরাহ করেছিল ডি-বিয়ার্স। বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাসাদে থাকেন সুলতান বলকিয়া। সেখানে তাঁর ও পরিবারের অন্যদের ঘরও সোনায় মোড়া। চমক আরও আছে। স্নানের জন্য পাইপলাইনে জল আনান সুলতান। আর একেবারে ঘড়ি ধরে দিনে দু-বার তা পাঠায় ফ্রান্সের এক সংস্থা। সুলতানের বিশ্বাস, ফ্রান্সের এক পার্বত্য এলাকার সেই জলে নাকি যৌবন ধরে রাখা যায়। আর তাই সপ্তাহে দু-বার বিমানে করে সেই জল নিয়ে আসা হয় কোনও এক অজ্ঞাত স্থানে। সেখান থেকে পাইপে সোজা বলকিয়ার স্নানাগারে। প্রশ্ন হল এই সুলতান হঠাত্ই ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে এত খাতির করে আমন্ত্রণ করলেন কেন? আর মোদীই বা ব্রুনেইকে নিয়ে এতটা তত্পর হলেন কেন? আসলে তেল, গ্যাস, কূটনীতির বাইরেও একটা কমন লিঙ্ক আছে। সেই লিঙ্ক হল চিন। দক্ষিণ চিন সাগরের দক্ষিণে চিনের সঙ্গে ব্রুনেইয়ের খটাখটি শুরু হয়েছে। সুলতানের অভিযোগ, তাঁর দেশের জলসীমাকে নিজেদের বলে দাবি করছে চিন। তাত্পর্যপূর্ণ ভাবে ব্রুনেই থেকে নাম না করে চিনকেই বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদী।