RG Kar Case: ‘নির্ভয়া কাণ্ডের পর কি ধর্ষণ আটকানো গেল?’ আন্দোলনে কেন থাকছেন না দেবযানী… – Bengali News | Why debjani chatterjee not attending any rally on rg kar case
তিলোত্তমা। ৯ অগাস্ট থেকে অএই নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রতিটা যন্ত্রণা কাঁদিয়ে চলেছে গোটা বিশ্বকে। কী দোষ ছিল তাঁর? শুধুই কি পুরুষের যৌন লালসার শিকার সে! নাকি ভেতরে রয়েছে অন্য কোনও ছক? উত্তর খুঁজতে মরিয়ে আজ প্রতিটা মানুষ। বিচার পাক তিলোত্তমা। তবে সেখানেই যেন এই লড়াই থেমে না যায়, পাশাপাশি দেখতে হবে এই সমাজ যেন আর কোনও নারীর দিকে চোখ তুলে না চাইতে পারে, এবার প্রতিবাদে সরব হলেন অভিনেত্রী দেবযানী চট্টোপাধ্যায়। শিল্পীদের ডাকা মিছিলে তিনি পা মেলাচ্ছেন না। কিন্তু কেন? পায়ের সমস্যা থাকাই কি মূল কারণ? TV9 বাংলায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিনেত্রী বললেন, ‘নাহ্, দাবিটা একটু অন্য’।
সবার আগে অভিনেত্রী আঙুল তুললেন তিলোত্তমার মৃত্যুর কারণ খুঁজতে, সত্যি কি সে কিছু…! দেবযানীর কথায়, ‘আমার নিজস্ব যা প্রতিবাদ করার সোশ্যাল মিডিয়ায় আমি আমার মতো করে বলছি। আমি চাই একটা সুপ্রশাসন। নির্যাতিতার যেটা হয়েছে আমি সেটা মনে করছি না শুধু ধর্ষণ। আমি মনে করছি এটা একটা জঘণ্য খুন। এটার পিছনে একটা যড়যন্ত্র রয়েছে। যে কারণটা এখনও পর্যন্ত আমরা জানি না। সেটা জানা আমার কাছে জরুরী। কারণ আমি চাই না ভবিষ্যতে আর কোনও তিলোত্তমা হোক। আর এটা আটকাতে শুধু বিচার চাইলে হবে না। এই রাজ্যের একজন নাগরিক হিসেবে এই বাংলার মেয়ে হিসেবে আমি বলব একটা সুপ্রশাসন দাবি করার সময় এসেছে।’
এই প্রতিবাদের ভাষা কি অন্য কিছু বলছে? কেন ডাক্তাররা চাইছেন না প্রিন্সিপালকে? দেবযানী বললেন, ‘যে ধরনের কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে আরজি করে ঘটে চলেছে, যা শোনা যাচ্ছে, মানে যা কানে আসছে, যে ধরনের কর্মকাণ্ডের কথা শোনা যাচ্ছে তা কাম্য নয়। এই যে ডাক্তাররা তাঁদের প্রিন্সিপালকে চাইছেন না, কিছু কিছু মানুষকে চাইছেন না, কেন চাইছেন না তার তদন্ত হওয়া দরকার। কেন তাঁরা এই প্রতিবাদটা করছে? এতদিন ধরে সহ্য করতে করতে হয়তো দেওয়ালে পিঠ থেকে গিয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি তিলোত্তমা দুর্নীতির শিকার হয়েছে। সে হয়তো প্রবাদ করতে চেয়েছিল, আবারও বলছি, হয়তো…। কারণ সত্যিটা আমারও জানা নেই। শুধু কোনও পুরুষের যৌন লালসার শিকার তিলোত্তমা নয়, বলে আমার ব্যক্তিগত মত। যদিও এটা বিচারাধীন, এই নিয়ে খুব একটা কিছু বলতে চাই না।’
এই খবরটিও পড়ুন
আর্টিস্ট ফোরামের ডাকা মিছিলে তিনি থাকছেন না। তাই বলে তিনি বিচার চাইছেন না এমনটা নয়, তবে কী বললেন তিনি? ‘আর্টিস্ট ফোরাম যে দাবিটা তুলে পথে, আমি শুধু সেই দাবিটা তুলছি না। আমি আরও বৃহদতরভাবে ভাবছি। আমার অনেক কিছু দাবি আছে, আমার অনেক প্রশ্ন আছে, সেটা আর্টিস্ট ফোরামের মঞ্চ থেকে করা উচিত হবে কি না, সেটা আমি জানি না। আমি চাইছি না। হাটতেই হবে এমনটা তো নয়। সরকার কোন পর্যায় গেলে আর্জি রাখতে পারে যতটা সম্ভব মহিলাদের নাইট ডিউটি কম দেওয়া হোক। কেন? এটা ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই না। রাতে সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব কার? একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়ে মহিলাদের কাজের সুযোগ কমাচ্ছেন তিনি! এটা লজ্জার। মেয়েরা রাতে কাজ না করলে প্রশাসন নির্দিষ্ট করে বলতে পারবে নারী নির্যাতন বন্ধ হয়ে যাবে?’
দেবযানী এখানেই থামলেন না, বরং সকলের উদ্দেশে বললেন, প্রশ্ন তুলতে হবে, প্রশ্ন করতে হবে। এই অধিকার সকলের রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘মহিলাদের পাহাড়া দিতে হবে কেন? আমি তো সেটাই বুঝতে পারছি না, আর আমরা দাবি করি আমাদের রাজ্য আর পাঁচটা রাজ্যের তুলনায় ভাল আছে? আর্টিস্ট ফোরামের সঙ্গে আছি আমি। আমিও চাই বিচার পাক। কিন্তু কটা ঘটনা ঘটবে, কটা বিচার চাইব! বিচার তো হল নির্ভয়া কাণ্ডে, কই ধর্ষণ আটকানো গেল? তাহলে বিচার চেয়ে কী হবে! বিচার তো হবেই, সেটা না হওয়াটাও তো ব্যর্থতা সরকারের। কিন্তু তারপর! আবার আবার আবার তিলোত্তমা! তাই ধরি মাছ নাই ছুঁই পানি গ্রুপে আমি নেই। এতদিন তো বলিনি কোনও কথা। তবে আর কত? আমরা মন্ত্রীর বাড়িতে কোটি কোটি টাকা দেখলাম, আমরা কামদুনি দেখলাম, রেশন দুর্নীতি দেখলাম, চাকরি দুর্নীতি দেখলাম, শিক্ষা দুর্নীতি দেখলাম, সন্দেশখালি দেখলাম, আর কত চোখ বন্ধ করে থাকব? আমি তো কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই, কোনওদিনও থাকব না। তবে একজন ভোটার হিসেবে আমার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে সরকারকে এই প্রশ্নগুলো করার। আমি আবেদন করব আপনারাও এই প্রশ্নগুলো করুন। শুধু তিলোত্তমার বিচার চাওয়াটাই একমাত্র লক্ষ্য নয়, সঙ্গে এটাই নিশ্চিত করতে হবে– এবার থামুক। আর কোনও নির্ভয়া, আর কোনও তিলোত্তমা আমরা হতে দেব না। সমাজ পাল্টানোর সময় এসেছে, সেই মর্মে গলা তুলুন।’