Maldah: ‘কবরটা দিতে পর্যন্তও আসেনি কেউ…’ তৃণমূল কর্মীকে সমাজচ্যুত করেছেন প্রধানের স্বামী! গ্রাম ছাড়া গোটা পরিবার – Bengali News | Maldah Trinamool worker’s boycott complaint against pradhan’s husband
গোটা পরিবারকে বয়কটImage Credit source: TV9 Bangla
মালদহ: জমি সংক্রান্ত একটি পারিবারিক বিবাদ। আর তা নিয়েই গ্রামে সালিশি সভা। সেই সভা নিদান সমাজচ্যুত তৃণমূল কর্মী সমর্থকের এক পরিবারকে। রাস্তায় ফেলে তাঁদের বেধড়ক মারধরের পর গ্রাম ছাড়া করার নিদান। প্রাণ ভয়ে এক বসনেই গ্রাম ছেড়ে পাশের গ্রামে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন ওই কর্মী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। কাঠগড়ায় অভিযুক্ত তৃণমূল প্রধানের স্বামী। ইতিমধ্যেই জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, মুন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীকেও গোটা বিষয়টি জানানো হয়েছে। মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের তৎপরতায় ইতিমধ্যেই ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী অধরা। অধরা গ্রামের মোড়লও। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের নয়াগ্রামে।
নিগৃহীত তৃণমূল কর্মীর নাম হবিবুল রহমান। জানা গিয়েছে, তাঁরই খুড়তুতো ভাই কাসিম শেখের সঙ্গে একটি পারিবারিক জমি নিয়ে বিবাদ দীর্ঘদিনের। সেই সমস্যা সমাধানেই গ্রামে সালিশি সভার আয়োজন করা হয়। আর তার জন্য হবিবুলের কাছ থেকে নেওয়া হয় ৫ হাজার টাকা। হবিবুলের দাবি, প্রথম সালিশিতে তাঁকে বাড়ির সামনের কিছুটা অংশ ছেড়ে দিতে বলা হয়। কিন্তু তাতে রাজি হন না হবিবুল। ফলে জটিলতা থেকেই যায়। এরপর গ্রামে আবারও সালিশি ডাকা হয়। অভিযোগ, প্রত্যেক সালিশি সভা বসার জন্য হবিবুলের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। অভিযোগ, এই ঘটনায় প্রধান চক্রী গ্রামের প্রধানের স্বামী সানাউল শেখ।
এক সালিশিতে গ্রামের মোড়ল নিদান দেন দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে হবিবুলকে। কিন্তু দেড় লক্ষ টাকা দিতে পারেননি হবিবুুল। সেক্ষেত্রে তাঁর বোনের এক জোড়া কানের দুল বন্ধক রাখতে হয় প্রধানের স্বামী সানাউলের কাছে। জমির সমস্যা তখনও মেটেনি। এই ঘটনার দিন পেনরো বাদে আবারও সালিশি ডাকা হয় আর হবিবুলের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা চাওয়া হয়। কিন্তু এবার আর হবিবুল সালিশিতে যাননি। এরপর গ্রামেই মোড়ল ভাদু শেখ বৈঠক ডেকে হবিবুলের পরিবারকে বয়কট করার নিদান দেন।
সালিশিতে নিদান দেওয়া হয়, হবিবুলের পরিবারের সঙ্গে কেউ কথা বললে দিতে হবে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা। কোনও দোকান জিনিস দেবে না। বন্ধ মুদির দোকান। নিয়মিত বাজার হাট, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনায় বারণ। এমনকি বাড়িতে অসুস্থ হলেও পাবেন না গ্রাম্য ঔষধের দোকানে ওষুধও! শুধু তাই নয়, যাওয়া বন্ধ মসজিদেও। ইদেও নামাজ পড়েনি ওই পরিবার। এমনকি পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যুতে কবর দিতেই পাশে পাননি গ্রামের কাউকে।
এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আর্তি জানিয়ে চিঠি করেছিলেন হবিবুর। অভিযোগ, ডিএম, এসপি থানা-সহ সব জায়গায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার ৯ জন। তবে এখনো মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার হয় নি বলে দাবি ওই পরিবারের। তৃণমূল কর্মী হয়েও তৃণমূল নেতার দাপটে এখনও গ্রামে ঢুকতে পারছেন না তাঁরা।এই নিয়ে এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন পুলিশ, প্রশাসন অ্যাকশন নিচ্ছে।
হবিবুরের বাবার বক্তব্য, “আমরা থানায় অভিযোগ জানানোর পর হামলা হয়। আমার বাড়িতে হামলা হয়, বাড়িতে ভাঙচুর হয়।তিন ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চলে। পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যুতে কবরটা দিতেও আসেননি কেউ। আমরা ভয়ে গ্রাম ছাড়া। এখনও মূল অভিযুক্তরা অধরা। তাই ভয়ে গ্রামে ঢুকতে পারছি না। পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যুতে কবরটা দিতেও আসেননি কেউ।”