Jadavpur Lok Sabha Constituency: ‘খেলা’ ঘোরাবে আইএসএফ? ‘ডিগ্রি’ উঠবে কার হাতে? – Bengali News | Who will win in Jadavpur? people will give their mandate on June 1
যাদবপুরে কে জিতবেন? শনিবার, ১ জুন ব্যালটবন্দি হবে প্রার্থীদের ভাগ্য
যাদবপুর: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদে প্রথম পা রেখেছিলেন এই লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে। তখন তিনি ছিলেন কংগ্রেসে। তৃণমূল প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯৮ সালে এই লোকসভা কেন্দ্র ফের ঘাসফুল শিবিরের মুখে হাসি ফুটিয়েছিল। সেই যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র ২০০৯ সাল থেকে তৃণমূলেরই দখলে। গত ১৫ বছর এই কেন্দ্র দখলে থাকলেও প্রত্যেকবার প্রার্থী বদল করেছে ঘাসফুল শিবির। বামেরাও একসময় এই কেন্দ্র থেকে তাদের প্রতিনিধি সংসদে পাঠিয়েছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভার মধ্যে ৬টিতে জয়লাভ করে তৃণমূল। একটি আসন পায় ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রের কোনও আসন বিজেপি জিততে না পারলেও ভোট প্রাপ্তির নিরিখে ছিল দ্বিতীয় স্থানে। সিপিএম-ও ১১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিল। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, চব্বিশের নির্বাচনে যাদবপুরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে। ফল কী হবে, তা জানা যাবে ৪ জুন। তার আগে জেনে নেওয়া যাক, কার পায়ে কত জমি।
যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি বিধানসভা। কেন্দ্রগুলি হল বারুইপুর পূর্ব, বারুইপুর পশ্চিম, সোনারপুর দক্ষিণ, ভাঙড়, যাদবপুর, সোনারপুর উত্তর, টালিগঞ্জ। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন অনুযায়ী এই কেন্দ্রের মোট ভোটার ১৮,১৬,১১৭। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী তফসিলি জাতি ভোটার ২৪.১ শতাংশ। তফসিলি উপজাতি ভোটার ০.৫ শতাংশ। সংখ্যালঘু ভোটার ২১.৪ শতাংশ। গ্রামীণ ভোটার ৪০.১ শতাংশ। শহুরে ভোটার ৫৯.৯ শতাংশ।
২০০৯ সালে তৃণমূলের টিকিটে এই কেন্দ্রে জিতেছিলেন কবীর সুমন। পাঁচ বছর পর যাদবপুরে ঘাসফুল ফোটান সুগত বসু। আর উনিশের নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। ২ লক্ষ ৯৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জেতেন তিনি। মিমি পেয়েছিলেন প্রায় ৬ লক্ষ ৮৮ হাজার ভোট। উনিশের নির্বাচনে প্রায় ৩ লক্ষ ৯৩ হাজার ভোট পান বিজেপি প্রার্থী অনুপম হাজরা। সিপিএমের বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য পেয়েছিলেন প্রায় ৩ লক্ষ ২ হাজার ভোট।
এই খবরটিও পড়ুন
উনিশের লোকসভা এবং একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিধানসভা কেন্দ্র অনুযায়ী কোন দল কত ভোট পেয়েছিল?
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে কোন আসনে কে জিতেছিলেন?
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে যাদবপুর লোকসভার সাতটি বিধানসভার ৬টিতে জিতেছিল তৃণমূল। একটি আসন পায় আইএসএফ। বারুইপুর পূর্বে জয়ী হন তৃণমূলের বিভাস সর্দার। তৃণমূলের টিকিটে বারুইপুর পশ্চিমে জেতেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘাসফুলের টিকিটে সোনারপুর দক্ষিণে জয়ী হন অভিনেত্রী অরুন্ধতী মৈত্র ওরফে লাভলি। ভাঙড় বিধানসভায় জয়ী হন আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকী। যাদবপুরে জেতেন তৃণমূলের দেবব্রত মজুমদার। সোনারপুর উত্তরে জয়ী হন ঘাসফুল প্রার্থী ফিরদৌসী বেগম। আর টালিগঞ্জে জেতেন তৃণমূলের অরূপ বিশ্বাস।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি পায় ২৭.৭ শতাংশ ভোট। তৃণমূল ৪৮.৫ শতাংশ ও সিপিএম ২১.২ শতাংশ ভোট পায়। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পায় ২৮.৩ শতাংশ ভোট। তৃণমূল ৪৮.৩ শতাংশ, সিপিএম ১১.৩ শতাংশ ও সিপিআই ২ শতাংশ ভোট পায়।
চব্বিশের নির্বাচনে প্রার্থী কারা?
চব্বিশের নির্বাচনে যাদবপুরের বিদায়ী সাংসদ মিমি চক্রবর্তীকে প্রার্থী করেনি তৃণমূল। প্রার্থী না হতে চাওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। এবার যুব তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী সায়নী ঘোষকে প্রার্থী করেছে ঘাসফুল শিবির। বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়। এই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী সৃজন ভট্টাচার্য। যাদবপুরে প্রার্থী দিয়েছে আইএসএফ-ও। তারা প্রার্থী করেছে নুর আলম খানকে। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, এই কেন্দ্রে আইএসএফের ভোটের উপর ফলাফল নির্ভর করতে পারে। সেক্ষেত্রে ভোট কাটাকুটিতে কে সুবিধা পাবেন, সেটাই দেখার।