Biman Basu: 'যদি কোনও প্রবলেম হয়ে থাকে, জ্যোতি বসুরই হয়েছে', নতুন করে মুখ খুললেন বিমান | Biman Bose's Remark on Left Era Industrial Policy Sparks Fresh Debate in Bengal Politics - 24 Ghanta Bangla News
Home

Biman Basu: ‘যদি কোনও প্রবলেম হয়ে থাকে, জ্যোতি বসুরই হয়েছে’, নতুন করে মুখ খুললেন বিমান | Biman Bose’s Remark on Left Era Industrial Policy Sparks Fresh Debate in Bengal Politics

Spread the love

বিমান বসু ও জ্যোতি বসু (ফাইল ছবি)Image Credit: TV9 Bangla

কলকাতা: বাম আমলের শিল্পনীতি নিয়ে নতুন করে জলঘোলা। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেদের আমলে শিল্পী নিয়ে বিমান বসু বলেন, “এটা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কমরেড জ্যোতি বসুর নেতৃত্বেই বামফ্রন্ট সরকারের শিল্পনীতি গ্রহণ করা হয়েছে, ঘোষণা করা হয়েছে। সেই শিল্পনীতি নিয়ে যদি কোনও প্রবলেম হয়ে থাকে, জ্যোতি বসুরই হয়েছে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সেই শিল্পনীতি কার্যকর করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ”

বৃহস্পতিবার শিল্পনীতি ঘোষণা করেছে শুভেন্দু সরকার। তাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা জমি অধিগ্রহণ। নতুন সরকার যখন সিঙ্গুরে শিল্প আনতে উদ্যোগী, তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে জমি অধিগ্রহণ নীতি। আর সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠতেই সংবাদমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে বাম আমলের শিল্পনীতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিমান বসু। তাঁর মতে, “জ্যোতি বসুর নেতৃত্বেই বামফ্রন্ট সরকারের শিল্পনীতি গ্রহণ করা হয়েছে, ঘোষণা করা হয়েছে। সেই শিল্পনীতি নিয়ে যদি কোনও প্রবলেম হয়ে থাকে, জ্যোতি বসুরই হয়েছে।”

উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরের ঘটনা বাম আমলের শিল্পনীতি এবং বিশেষ করে জমি অধিগ্রহণ পদ্ধতিকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছিল।  বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, ১৮৯৪ সালের ব্রিটিশ জমি অধিগ্রহণ আইন বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ত্রুটি এবং কড়া আন্দোলনের ফলে শিল্পের পরিবেশ ব্যাহত হয়।  তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, বিমান বসু কি তবে শিল্পনীতি নিয়ে দলের অন্দরেরই সে সময়কার কোনও ফাটল এতদিনে সামনে নিয়ে চলে এলেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

এই বিতর্কের অবসান খুঁজতে TV9 বাংলা গিয়েছিল বাম আমলের অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্তের কাছে। তাঁর মন্তব্য বিতর্ক আরও উস্কে দেয়। তিনি সরাসরিই বলেন, “শিল্পনীতি নিয়ে বামেদের মধ্যে কোনও মতপার্থক্য ছিল না। সরকারের মধ্যে তো কোনও মতভেদ ছিলই না। চিন্তাগুলোকে যদি একত্রিত করা যায় ভালো, তর্কাতর্কির বিষয় ততটা নয়।” তাঁর মতে, “বামেদের শিল্পনীতি চিন্তার দিক থেকে জ্যোতি বসুই শুরু করেছিলেন। প্রথম বামফ্রন্টের সময় থেকে চিন্তা করেছিলেন।” তবে শিল্প ও কৃষি- যে একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, তা আরও একবার মনে করিয়ে দেন তিনি। তাঁর কথায়, “কৃষির সঙ্গে শিল্প নিয়ে চিন্তা। শিল্পের জন্ম কৃষিতেই। কৃষিকে শেষ করে শিল্প নয়। প্রত্যেকটি জেলার জন্য উপযোগী শিল্প ও কৃষি-এইভাবে চিন্তা করা উচিত।”

যদি সিপিএমের মতো একটা রেজিমেন্ট দলের চেয়ারম্যান বিমান বসুর মন্তব্য যে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় ফেলবেই, তা বলাইবাহুল্য। এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে রাজনীতি তোলপাড়। বিজেপি সাংসদ তথা রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এটা হচ্ছে বিলম্বিত বোধদয়। কিন্তু এই কথাটা বলার সাহস দেখিয়েছেন উনি, তার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।” তাঁর কথায়, “বাম জমানাতেই কার্যত বাংলায় শিল্পবিরোধী পরিবেশ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। বিড়লার কর্ণধার আদিত্য বিড়লাকে শারীরিকভাবে নিগৃহীত করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কম্পিউটার ঢুকতে দেওয়া হয়নি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *