Supreme Court: ‘আশা করি আবহাওয়া উপভোগ করছেন’, দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ে কটাক্ষ CJI সূর্য কান্তের | Supreme Court Questions Delhi Pollution as AQI Touches 400
দিল্লির বায়ুর গুণগত মানের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্টImage Credit: PTI
নয়াদিল্লি: দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ে নানা সময় প্রশ্ন উঠেছে। এবার দিল্লির বায়ুর গুণগত মানের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালত। বায়ুদূষণ নিয়ে কটাক্ষের সুরে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বললেন, “আশা করি আপনারা সবাই দিল্লির আবহাওয়া উপভোগ করছেন।” দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের ভয়াবহ বায়ুদূষণ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে এদিন সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিল, ফসলের অবশিষ্টাংশ বা ন্যাড়া পোড়ানো রুখতে আগেভাগেই তার ক্রয়মূল্য ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি, ন্যাড়া সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির হাতে তুলে দিতে হবে।
এদিন এই মামলার শুনানিতে তিন বিচারপতির বেঞ্চে প্রধান বিচারপতি ছাড়াও ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা। মামলার শুনানি শুরুতেই দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। দিল্লিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক কড়া পদক্ষেপ কার্যকর থাকার প্রসঙ্গ তুলে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আশা করি আপনারা সবাই দিল্লির আবহাওয়া উপভোগ করছেন।” সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যত বেশি নির্দেশ দেবে, সেগুলি অমান্য করার ঘটনাও তত বাড়বে। তাঁর কথায়, “এটাই মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি।”
শীর্ষ আদালতের এই মন্তব্যের জবাবে মামলায় আদালত-বান্ধব (অ্যামিকাস কিউরি) অপরাজিতা সিং জানান, দিল্লির বায়ুদূষণের মাত্রা এখনও ‘ভয়াবহ’ পর্যায়ে রয়েছে। এমনকী দূষণের প্রভাব পড়ছে তাঁর গলার স্বরেও। তাঁর দাবি, দিল্লি-এনসিআরের বাতাসে শ্বাস নেওয়া প্রতিদিন ৩০টি সিগারেট খাওয়ার সমান।
বৃষ্টির কারণে এর আগে দূষণের মাত্রা কিছুটা কমেছিল বলেও উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী বীজ বপনের মরসুমের প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় কৃষকরা ন্যাডা পোড়ানো বন্ধ করেছেন বলেও আশা প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। এর জবাবে অপরাজিতা সিং জানান, দিল্লির দূষণের ১৪ শতাংশের জন্য দায়ী ন্যাড়া পোড়ানো। তাঁর কথায়, “দিল্লি এমনিতেই অত্যন্ত দূষিত। তার উপর খড় পোড়ানোর ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।” ন্যাড়া পোড়ানো বন্ধ করার পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে আবর্জনা পোড়ানোর মতো দূষণের উৎসগুলির বিরুদ্ধেও দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
এরপর শহরাঞ্চলের দূষণের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলে প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। শুধু ন্যাড়া পোড়ানোই কি দিল্লির দূষণের একমাত্র কারণ, নাকি বিত্তশালী শ্রেণির ব্যক্তিগত গাড়িও এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী, তা জানতে চায় শীর্ষ আদালত। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “আমরা বারবার ন্যাড়া পোড়ানোর কথা বলছি। যন্ত্রপাতিও দেওয়া হয়েছে। হয়তো এখনও কেউ কেউ সেগুলি ব্যবহার করতে চাইছেন না। কিন্তু অভিজাত শ্রেণির মানুষদের কী হবে? তাঁদের গাড়ি, দামি গাড়িগুলিও তো রাস্তায় চলছে।”
জবাবে অপরাজিতা সিং জানান, দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হল যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া। প্রধান বিচারপতিও বলেন, যানবাহনের ধোঁয়া বায়ুদূষণের অন্যতম বড় কারণ। বিশেষ করে দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকার রাস্তায় যানজটে গাড়িগুলি যখন একেবারে গায়ে গায়ে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
কেন্দ্রের হয়ে আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি জানান, ন্যাড়া পোড়ানো নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যেই একটি সরকারি প্রকল্প চালু রয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের পরিস্থিতি অনুযায়ী কী কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা জানিয়ে কেন্দ্রের তরফে একটি নোটও জমা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানায় কেন্দ্র। ভাটি জানান, ভারত স্টেজ-৬ বা বিএস-৬ নির্গমন বিধি মেনে চলে না, এমন কোনও যানবাহনকে দিল্লিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি, পর্যায়ক্রমে ডিজেলচালিত অটোরিকশা সরিয়ে ফেলা এবং অন্য শহর থেকে দিল্লিতে প্রবেশকারী বাসগুলির ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নিয়ম চালু করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দূষণ নিয়ন্ত্রণের শংসাপত্র বা পলিউশন সার্টিফিকেটগুলিকে জিও-ট্যাগ করা হচ্ছে। বৈধ শংসাপত্র ছাড়া জ্বালানিও পাওয়া যাচ্ছে না। গণপরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য তাৎক্ষণিক ও মধ্যমেয়াদি, দু’ধরনের পদক্ষেপের কথাও ভাবছে সরকার।
তবে অপরাজিতা সিং অভিযোগ করেন, টোল প্লাজায় দীর্ঘক্ষণ গাড়ির ইঞ্জিন চালু রেখে দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধ করার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ এখনও পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। দিল্লির সীমান্তে এনসিআর থেকে আসা গাড়িগুলিকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। সেই সময় ইঞ্জিন চালু থাকায় দূষণ আরও বাড়ছে।
কেন্দ্রের তরফে ভাটি জানান, দিল্লির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শীতকালে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে না। ফলে দূষণ এক জায়গায় জমে থাকে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (GRAP)-এর বিভিন্ন পর্যায়ের পদক্ষেপ কার্যকর করা হচ্ছে। ভাটির বক্তব্য, “আমি বলব না যে এই পদক্ষেপগুলি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।”
তবে প্রধান বিচারপতি পাল্টা বলেন, “কিন্তু বায়ুর গুণমান সূচক (AQI) ইতিমধ্যেই ৪০০ ছুঁয়ে ফেলেছে।” জবাবে ভাটি জানান, একাধিক কর্মকাণ্ডের ফলে দূষণ বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজও চলছে। তবে উৎসবের মরসুমেও দূষণের মাত্রা বেড়েছে বলে আদালতকে জানান তিনি।