কড়া কলকাতা পুলিশ! বেআইনি বাজি বিক্রিতে ৭,৫০০ টাকা জরিমানা

কলকাতা: দীপাবলির (Diwali 2026) আগে শহরের বাজারে বেআইনি বাজি বিক্রি বন্ধ করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ করছে কলকাতা পুলিশ। সংগঠিত ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি এবার নজরে ছোট বাজি বিক্রেতারাও। অল্প পরিমাণ নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার হলে বিস্ফোরক আইনের পরিবর্তে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করে তুলনামূলক বেশি জরিমানা আদায়ের পথে হাঁটছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার বাইরে বা ভিন রাজ্য থেকে বিপুল পরিমাণ বেআইনি বাজি নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে Explosive Substances Act বা বিস্ফোরক পদার্থ আইনে মামলা করা হচ্ছে। কিন্তু অল্প পরিমাণ বাজি উদ্ধারের ক্ষেত্রে সব সময় ওই আইন প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে BNS-এর ২২৩ এবং ২৮৫ ধারায় মামলা করা হচ্ছে।
দুই ধারায় মোট ৭,৫০০ টাকা জরিমানার চাপ
পুলিশ সূত্রের দাবি, BNS-এর ২২৩ ধারায় ২,৫০০ টাকা এবং ২৮৫ ধারায় ৫,০০০ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে বলে এই ধরনের মামলায় উল্লেখ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে জরিমানার অঙ্ক দাঁড়াচ্ছে ৭,৫০০ টাকা। পাশাপাশি আদালতে নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার ঝামেলাও রয়েছে।
লালবাজারের এক পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনায় কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাস পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু ছোট বিক্রেতাদের কাছে ৭,৫০০ টাকা জরিমানাও যথেষ্ট বড় অঙ্ক। আদালতে বারবার হাজিরা দেওয়ার বিষয়টিও তাঁদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে।
দক্ষিণ ও মধ্য কলকাতার একাধিক থানায় ইতিমধ্যেই এই ধরনের মামলা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে কালীঘাট, টালিগঞ্জ এবং মুচিপাড়া থানা।
খাবারের দোকানের আড়ালে বাজি বিক্রির অভিযোগ
গত ৩ নভেম্বর টালিগঞ্জের বাসিন্দা ৫০ বছরের অশোক বণিক এবং নরেন্দ্রপুরের ৩৫ বছরের শুভ দাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। অভিযোগ, ৬১ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোডের সামনে খাবারের দোকানের আড়ালে তাঁরা বেআইনি বাজির অস্থায়ী স্টল চালাচ্ছিলেন।
পুলিশের দাবি, ওই অস্থায়ী দোকানের কারণে যান চলাচল এবং পথচারীদের চলাফেরায় গুরুতর সমস্যা তৈরি হচ্ছিল।
সেই দিনই সন্ধ্যায় ১৪, এস এন ব্যানার্জি স্ট্রিটের ফুটপাথেও একটি বেআইনি বাজির স্টলের সন্ধান পায় পুলিশ। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে নিষিদ্ধ বাজি বিক্রির অভিযোগে ওই ক্ষেত্রেও মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একাধিক এলাকায় গোপনে বাজি বিক্রির খবর
পুলিশের দাবি, নজরদারি ও অভিযান সত্ত্বেও কিছু নিষিদ্ধ বাজি শহরের স্থানীয় বাজারে পৌঁছে গিয়েছে। বেনিয়াপুকুর, বেহালা পাঠকপাড়া, নিউ আলিপুর, মদনমোহনতলা এবং টালা এলাকা থেকে গোপনে বাজি বিক্রির খবর এসেছে।
লালবাজারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বাজারগুলিতে নজরদারির জন্য বিশেষ টহলদারি দলও তৈরি করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল থেকে বিশেষ নজরদারি
শুক্রবার বিকেল ৪টে থেকে শহরের একাধিক এলাকায় বিশেষ পুলিশি নজরদারি শুরু হওয়ার কথা। ফুলবাগান, বেহালা, টালিগঞ্জ, বালিগঞ্জ, লেক গার্ডেন্স, পাটুলি, যাদবপুর, এন্টালি এবং কাশীপুরকে বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।
গত পাঁচ বছরে দীপাবলির সময় কোন কোন এলাকায় বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের মাত্রা বেশি ছিল, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে নজরদারির কৌশল তৈরি করা হবে। কয়েকটি আবাসন এবং বস্তি এলাকাতেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে আইনি প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্য এই এলাকাগুলিতে পুলিশের সমস্ত কার্যকলাপ রেকর্ড করা হবে বলেও জানিয়েছেন এক আধিকারিক।
বাজি ঢোকা আটকাতে শহরের প্রবেশপথে চেকপোস্ট
দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটি ও নুঙ্গির মতো বাজি তৈরির কেন্দ্র থেকে যাতে বেআইনি বাজি শহরে ঢুকতে না পারে, সে জন্য একাধিক জায়গায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বেহালা, তারাতলা, পাটুলি এবং খিদিরপুরে চলছে নজরদারি।
দীপাবলির আগে বেআইনি বাজি বিক্রি ও মজুত রুখতে শহরজুড়ে অভিযান, বাজারে টহল এবং বিশেষ পুলিশি নজরদারি বাড়াচ্ছে কলকাতা পুলিশ। ছোট বিক্রেতাদের বিরুদ্ধেও জরিমানা ও আদালতের মামলার মাধ্যমে কড়া বার্তা দিতে চাইছে লালবাজার।
The latest news from Kolkata, including traffic updates, civic issues, weather, accidents, administrative decisions, and other important information for daily life, is published in this section. Stay tuned regularly to keep up with all the latest updates from the city.