‘শয়তানের ঘূর্ণি’ কখনও দেখেছেন? দাবানল তো নিভছেই না, ঝলসানো শহর দেখেই আঁতকে উঠবেন
বীভৎস, ভয়ঙ্কর। এই শব্দগুলিও কম পড়ছে লস অ্যাঞ্জেলসের বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করতে। বিধ্বংসী দাবানলের গ্রাসে প্রায় গোটা শহর। দাবানলে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। পুড়ে গিয়েছে ১২ হাজারেরও বেশি বাড়ি আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছে।
একে তো পরিকাঠামোর অভাব, তার উপরে দমকা জোরাল হাওয়া। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দমকলকর্মীদের। মাইলের পর মাইল ফাঁকা জমি, জঙ্গল, ঘরবাড়ি- সবই আগুনের গ্রাসে চলে যাচ্ছে।
আবহাওয়া দফতর আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত জোরাল বাতাস বইবে বলেই পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলসের চার জায়গায় সক্রিয় দাবানল রয়েছে।
প্য়ালিসেডেসেই সবথেকে বেশি আগুন লেগেছে। ২২,০০০ একরেরও বেশি জমি আগুনের গ্রাসে চলে গিয়েছে। ১ লক্ষেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া।
এরই মধ্যে ভয়ঙ্কর এক দৃশ্য সামনে এসেছে। ঘূর্ণিঝড় বা টর্নেডোর সময় যেমন বাতাস পাক দিয়ে আকাশ থেকে নেমে আসে, আশেপাশের সবকিছু ধ্বংস করে দেয়, তেমনই আগুনের শিখা টর্নেডোর বাতাসে মিশে আকাশে উঠতে দেখা গিয়েছে।
এগুলিকে ফায়ার হুইলস, ফায়ার ডেভিলস বা ফায়ারনেডো (আগুন+টর্নেডো) বলা হয়।
হ্যারিকেন বাতাস স্যান্টা আনা, যার গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ মাইল, সেই দমকা বাতাসের জন্যই আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ছে।
শীতের মরশুমে শুকনো গাছপালা জঙ্গলে আরও আগুন ছড়িয়ে দিচ্ছে। এমনকী, ৪০৫ ফ্রিওয়ে পর্যন্ত আগুন পৌঁছে গিয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলসের এই পরিস্থিতিতে কানাডা ও মেক্সিকো থেকেও দমকল কর্মী ও অগ্নিনির্বাপণ সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।
বহু পশু-পাখির মৃত্যু হয়েছে এই দাবানলে।
এটি আমেরিকার ইতিহাসে সবথেকে ভয়ঙ্কর দাবানল বলে মনে করা হচ্ছে। দাবানলে এখনও পর্যন্ত ১৩৫ থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।










