আলোকিত লোগো ও নতুন LED লুক, আসছে Volkswagen Virtus

গুরুগ্রাম: ভারতের বাজারে Virtus Facelift-এর প্রথম টিজার প্রকাশ করল Volkswagen। তাতে নতুন সেডানটির সামনের ও পিছনের আলোয় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। পরিচিত সিলুয়েট এবং স্পোর্টি…
গুরুগ্রাম: ভারতের বাজারে Virtus Facelift-এর প্রথম টিজার প্রকাশ করল Volkswagen। তাতে নতুন সেডানটির সামনের ও পিছনের আলোয় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। পরিচিত সিলুয়েট এবং স্পোর্টি চরিত্র বজায় রেখেই আসছে আপডেটেড মডেল। সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের নভেম্বরের শেষ অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে গাড়িটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হতে পারে। ডিসেম্বরেই বাজারে লঞ্চের সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে একাধিকবার পরীক্ষামূলক অবস্থায় Virtus Facelift-এর টেস্ট মিউল দেখা গিয়েছে। এবার সংস্থার প্রকাশ করা টিজারে ডিজাইনের কিছু পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে।
নতুন LED হেডল্যাম্প ও আলোকিত Volkswagen লোগো
টিজার অনুযায়ী, গাড়ির সামনে থাকছে নতুন ডিজাইনের LED হেডল্যাম্প। একাধিক আলোক উপাদানের পাশাপাশি বদলানো হয়েছে LED DRL-এর নকশাও। হেডল্যাম্প দুটির মাঝখানে গ্রিলের উপর দিয়ে একটি সরু লাইট স্ট্রিপ থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। গ্রিলের মাঝখানে আলোকিত Volkswagen লোগোও দেখা যেতে পারে।
GT ব্যাজ আগের মতোই গ্রিলে থাকছে। তবে সামনের বাম্পারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন এয়ার ইনটেক এবং আরও ধারালো ডিজাইনের ডিটেলিং গাড়িটিকে আগের তুলনায় বেশি স্পোর্টি চেহারা দিতে পারে।
পিছনের আলোতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
গাড়ির পাশের ডিজাইনে খুব বেশি পরিবর্তন হচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে। লম্বা বনেট, ঢালু ছাদ এবং পরিচিত থ্রি-বক্স সেডান প্রোফাইল বজায় থাকছে। তবে নতুন স্পোক প্যাটার্নের অ্যালয় হুইল দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে GT ভ্যারিয়েন্টে এই পরিবর্তন গাড়ির স্পোর্টি লুক আরও বাড়াবে।
পিছনে থাকছে নতুন অ্যাঙ্গুলার ডিজাইনের LED টেলল্যাম্প। টিজারে আলো জ্বলার ধরনে অনুভূমিক এবং তিরের মতো প্যাটার্ন দেখা গিয়েছে। তবে দুই পাশের টেলল্যাম্পকে যুক্ত করে কোনও LED লাইট বার দেওয়া হচ্ছে না। পিছনের বাম্পারেও কিছু পরিবর্তন থাকতে পারে। বুটের উপর GT ব্যাজ থাকায় স্পোর্টি ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতিও নিশ্চিত হচ্ছে।
কেবিনে কী কী নতুন ফিচার থাকতে পারে?
Volkswagen এখনও গাড়ির ইন্টেরিয়র বা ফিচার সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তবে ফেসলিফট সংস্করণে কিছু প্রযুক্তিগত ও আরামদায়ক ফিচার আপগ্রেড হতে পারে।
বর্তমান Virtus-এ রয়েছে ১০.১ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম, ৮ ইঞ্চির ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে, ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট, সিঙ্গল-পেন সানরুফ এবং ওয়্যারলেস স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি। নতুন মডেলে আরও বড় ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, আপডেটেড ইনফোটেনমেন্ট ইন্টারফেস এবং অতিরিক্ত কানেক্টেড-কার ফিচার যুক্ত হতে পারে।
এছাড়া পাওয়ারড ড্রাইভার সিট, উন্নত অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং এবং অতিরিক্ত পার্কিং অ্যাসিস্ট্যান্স ফিচার আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ADAS প্রযুক্তিতেও আপগ্রেড হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে এসব ফিচারের কোনওটিই এখনও Volkswagen নিশ্চিত করেনি।
ইঞ্জিনে কি বদল আসবে?
বর্তমানে Volkswagen Virtus-এ দুটি টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিনের বিকল্প রয়েছে। একটি ১.০ লিটারের TSI এবং অন্যটি ১.৫ লিটারের TSI EVO। ফেসলিফট মডেলেও এই দুই ইঞ্জিন বজায় থাকার সম্ভাবনা বেশি।
| স্পেসিফিকেশন | ১.০ লিটার TSI | ১.৫ লিটার TSI EVO |
| ইঞ্জিন | ৩-সিলিন্ডার টার্বো-পেট্রোল | ৪-সিলিন্ডার টার্বো-পেট্রোল |
| ক্ষমতা | ১,০০০ সিসি | ১,৫০০ সিসি |
| সর্বোচ্চ শক্তি | ১১৫ PS | ১৫০ PS |
| সর্বোচ্চ টর্ক | ১৭৮ Nm | ২৫০ Nm |
| গিয়ারবক্স | ৬-স্পিড MT/৬-স্পিড AT | ৭-স্পিড DCT |
তবে ১.০ লিটার TSI ইঞ্জিনের অটোমেটিক সংস্করণে বর্তমান ৬-স্পিড গিয়ারবক্সের পরিবর্তে ৮-স্পিড অটোমেটিক গিয়ারবক্স আসতে পারে। প্ল্যাটফর্মের অন্য মডেল আপডেটেড Skoda Slavia-তে এমন পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। যদিও Virtus Facelift-এর ক্ষেত্রে Volkswagen এখনও বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
দাম ও প্রতিযোগিতা
নতুন Volkswagen Virtus-এর প্রাথমিক দাম প্রায় ১২ লক্ষ টাকা থেকে শুরু হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের নভেম্বরের শেষ অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে গাড়িটি প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে লঞ্চ হতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণ ও দাম এখনও ঘোষণা করেনি সংস্থা। বাজারে আসার পর নতুন Virtus Facelift-এর সঙ্গে Skoda Slavia, Hyundai Verna এবং Honda City-র প্রতিযোগিতা চলবে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business