ধরা পড়ল অসমে, বাঘিনির প্রথম ‘ঘর ওয়াপসি’ বক্সায়
পিনাকী চক্রবর্তী, আলিপুরদুয়ার
মাত্র এক মাস আগে বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজ়ার্ভ থেকে উড়িয়ে এনে যাকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল, মাস ঘুরতে সেই বাঘিনিকেই বঙ্গে ফিরিয়ে আনতে হলো পড়শি অসমের জঙ্গল থেকে। মঙ্গলবার বিকেল সওয়া পাঁচটা নাগাদ অসমের কোকরাঝাড়ে রায়মোনা টাইগার রিজার্ভের দক্ষিণে ৩০ কিমি দূরে গেলাগুড়ির লৌসা নদীর ধারে ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু হয় বাঘিনি। তার পরেই তাকে আচ্ছন্ন অবস্থায় তোলা হয় পশ্চিমবঙ্গ বন দপ্তরের বিশেষ গাড়ি ঐরাবতে। কিছু ক্ষণের মধ্যেই সেই গাড়ি রওনা হয়ে গিয়েছে বক্সার উদ্দেশে। গ্রিন করিডর করে বাঘিনিকে বাংলায় ফেরানো গিয়েছে মঙ্গলবার রাতেই।
দীর্ঘ ১৩ দিন ধরে বাঘিনির অসম সফরে যবনিকাপাতে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন দুই রাজ্যের বনকর্তারাই। বাঘিনিকে কব্জা করে ঘরে ফেরানোর অভিযানের আগাগোড়া নেতৃত্ব দিয়েছেন বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা কুমার বিমল। একাধিকবার অসমে গিয়েছেন বঙ্গের বনমন্ত্রীও। আপাতত তার ঠিকানা হতে চলেছে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ২৫ মাইল টাওয়ারের পাশের ২.২ হেক্টরের প্রাকৃতিক ঘেরাটোপ। সেখান থেকে বাঘিনিকে কবে ফের মুক্ত জঙ্গলে ছাড়া হবে, সেই বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ন্যাশনাল টাইগার কনজ়ারভেশন অথরিটি ও ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞরা।
বাঘিনিকে ধরার তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছিল সোমবার থেকেই। একটি স্কুলের কাছে বাঁশবাগানে তার অবস্থান জানার পরে টোপ হিসেবে আনা হয় শুয়োর। সঙ্গে ছিল নাইলন ফেন্স, আর্থ মুভারও। মঙ্গলবার বিকেল ৩টে নাগাদ যখন বাঘিনিকে মোটামুটি একটা এলাকায় ফিরে ফেলা হয়েছে, তখন কোকরাঝাড় জেলা প্রশাসনের ১৬৩ ধারা উপেক্ষা করে লৌসা নদী সংলগ্ন রাস্তায় ভিড় জমিয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। বাঘিনির অবস্থান নিশ্চিত করতে ওড়ানো হয়েছে থার্মাল ড্রোন ক্যামেরা। তাকে তিন দিক থেকে ঘেরাও করতে মাঠে নামানো হয় বক্সা থেকে ট্রাকে চাপিয়ে নিয়ে আসা তিন প্রশিক্ষিত কুনকি হাতি চন্দ্রিমা, ভরত আর ভিট্টালাকে। ঘনঘন ঝোপের মধ্যে অবস্থান বদল করে বনকর্মীদের চোখে ধুলো দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল বাঘিনি। প্রথমবার ঘুমপাড়ানি গুলি তার গায়ে লাগেনি। তবে বিকেল ৫টার ঠিক পরে ঘুমপাড়ানি ডার্ট সফল ভাবে আচ্ছন্ন করে দেয় বিটিআর টিএফ১–কে।