স্মার্টওয়াচের বদলে Fitness Tracker? কেনার আগে জেনে নিন সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা - 24 Ghanta Bangla News
Home

স্মার্টওয়াচের বদলে Fitness Tracker? কেনার আগে জেনে নিন সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

Spread the love

মুম্বই: শুধু পা ফেলার সংখ্যা গোনা নয়, আধুনিক Fitness Tracker এখন অনেক বেশি কাজ করতে পারে। হার্ট রেট মাপা, ঘুমের হিসাব রাখা, ওয়ার্কআউট ট্র্যাক করা থেকে শুরু করে স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন দেখানো, একাধিক সুবিধা পাওয়া যায় এই ছোট্ট Wearable ডিভাইসে। কিছু উন্নত মডেলে রয়েছে Built-in GPS, ECG এবং NFC-এর মাধ্যমে Contactless Payment-এর সুবিধাও।

ফলে কয়েক বছর আগের Fitness Band-এর ধারণা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। অন্যদিকে, Smartwatch-এ রয়েছে বড় ডিসপ্লে, কল করার সুবিধা, বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার এবং Navigation-এর মতো ফিচার। তাই প্রশ্ন উঠছে, স্মার্টওয়াচের বদলে কম দামের ও হালকা Fitness Tracker ব্যবহার করলেই কি চলবে? উত্তর হল, আপনার ব্যবহারের উপর নির্ভর করে অনেক ক্ষেত্রেই তা সম্ভব। তবে কেনার আগে দুটির পার্থক্য বুঝে নেওয়া জরুরি।

Fitness Tracker ও Smartwatch-এর পার্থক্য কমছে

আগে Fitness Tracker এবং Smartwatch-এর মধ্যে পার্থক্য বোঝা সহজ ছিল। Fitness Band মূলত স্বাস্থ্য ও শরীরচর্চার হিসাব রাখার জন্য তৈরি হত। অন্যদিকে, Smartwatch ছিল হাতের কবজিতে পরার ছোট স্মার্টফোনের মতো।

কিন্তু প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে Fitness Tracker-এও একাধিক উন্নত ফিচার যুক্ত হয়েছে।

ফিচার Lightweight Fitness Tracker Smartwatch
Step ও Activity Tracking রয়েছে রয়েছে
Heart Rate Monitoring অধিকাংশ মডেলে রয়েছে
Sleep Tracking সাধারণত রয়েছে সাধারণত রয়েছে
Workout Tracking রয়েছে রয়েছে
SpO2 নির্বাচিত মডেলে অনেক মডেলে
ECG নির্বাচিত মডেলে নির্বাচিত মডেলে
Built-in GPS কিছু মডেলে অনেক মডেলে
Phone Notifications রয়েছে রয়েছে
কবজি থেকে কল সীমিত উপযুক্ত মডেলে
Third-party Apps সীমিত অনেক বেশি
Navigation সীমিত বা নির্বাচিত মডেলে তুলনামূলক উন্নত
Contactless Payment নির্বাচিত মডেলে নির্বাচিত মডেলে
ব্যাটারি লাইফ সাধারণত বেশি তুলনামূলক কম
ডিসপ্লে ছোট বড়

অর্থাৎ, শুধু ফিচারের সংখ্যা দিয়ে এখন আর দুটির মধ্যে পার্থক্য করা যায় না। বরং আপনি কোন কাজের জন্য Wearable কিনছেন, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Fitness Tracker দিয়ে কোন কোন কাজ করা সম্ভব?

দৈনন্দিন শরীরচর্চার হিসাব রাখতে একটি ভালো Fitness Tracker অনেকের প্রয়োজন মেটাতে পারে। হাঁটার সময় কত পা ফেললেন, দিনে কতটা শারীরিক পরিশ্রম করলেন, হার্ট রেট কত ছিল কিংবা রাতে কতক্ষণ ঘুমালেন, সব তথ্যই পাওয়া যায়।

অনেক মডেলে বিভিন্ন ধরনের Workout Mode রয়েছে। ফলে হাঁটা, দৌড়ানো বা অন্যান্য শরীরচর্চার সময় পারফরম্যান্সের হিসাব রাখা যায়। কিছু উন্নত মডেলে Built-in GPS থাকায় দৌড়ানোর সময় সঙ্গে স্মার্টফোন না নিয়েও দূরত্ব ও রুটের তথ্য রেকর্ড করা সম্ভব।

Fitness Tracker-এর অন্যতম সুবিধা হল এর ছোট আকার ও হালকা ওজন। সারাদিন হাতে পরে থাকা কিংবা রাতে ঘুমানোর সময় ব্যবহার করাও তুলনামূলক আরামদায়ক। বিশেষ করে যাঁরা Sleep Tracking করতে চান, তাঁদের কাছে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাটারি লাইফও Fitness Tracker-এর বড় সুবিধা। ছোট ডিসপ্লে এবং তুলনামূলক কম পাওয়ার ব্যবহারকারী ফিচারের কারণে অনেক মডেল স্মার্টওয়াচের তুলনায় বেশি সময় চার্জ ছাড়াই চলতে পারে।

কোথায় Smartwatch এগিয়ে?

Fitness Tracker-এর সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হল ছোট ডিসপ্লে এবং সীমিত Smart Features। ছোট স্ক্রিনে পায়ের সংখ্যা বা হার্ট রেট দেখা সহজ। কিন্তু দীর্ঘ মেসেজ পড়া, নোটিফিকেশনের উত্তর দেওয়া কিংবা ম্যাপ দেখে রাস্তা খোঁজার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

অন্যদিকে, Smartwatch-এর বড় ডিসপ্লে এই কাজগুলিকে অনেক সহজ করে। উপযুক্ত মডেলে সরাসরি কবজি থেকে ফোন কল করা, মেসেজের উত্তর দেওয়া, বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার এবং Navigation-এর সুবিধা পাওয়া যায়।

Third-party App Support-এর ক্ষেত্রেও Smartwatch এগিয়ে। Fitness Tracker-এ সাধারণত সীমিত কিছু অ্যাপ বা সংযুক্ত পরিষেবা পাওয়া যায়। ফলে যাঁরা Wearable ডিভাইসের মাধ্যমে একাধিক কাজ করতে চান, তাঁদের কাছে Smartwatch বেশি কার্যকর হতে পারে।

ভারতীয় ব্যবহারকারীদের জন্য কোনটি বেশি উপযোগী?

ভারতে অনেকেই দিনের বেশিরভাগ সময় স্মার্টফোন সঙ্গে রাখেন। অফিস, যাতায়াত কিংবা বাইরে ঘোরার সময় ফোন সাধারণত পকেটে বা ব্যাগে থাকে। ফলে ফোনের মতো কাজ করতে পারে এমন আরেকটি ডিভাইস কবজিতে রাখার প্রয়োজন সবার নাও হতে পারে।

যাঁদের মূল উদ্দেশ্য শরীরচর্চা, ঘুম এবং দৈনন্দিন অ্যাক্টিভিটির হিসাব রাখা, তাঁদের জন্য Fitness Tracker যথেষ্ট হতে পারে। অন্যদিকে, কবজি থেকে কল করা, অ্যাপ ব্যবহার কিংবা ম্যাপ দেখার প্রয়োজন থাকলে Smartwatch বেশি সুবিধা দেবে।

আপনার প্রয়োজন উপযুক্ত ডিভাইস কারণ
হাঁটা ও দৈনন্দিন অ্যাক্টিভিটি ট্র্যাকিং Fitness Tracker হালকা ও সহজ ব্যবহার
সাধারণ হাঁটাহাঁটি ও শরীরচর্চা Fitness Tracker প্রয়োজনীয় ফিটনেস ফিচার রয়েছে
ফোন ছাড়া দৌড়ানো GPS Fitness Tracker Built-in GPS থাকলে রুট রেকর্ড করা যায়
রাতে পরে ঘুমানো Fitness Tracker ছোট ও হালকা হওয়ায় আরামদায়ক
কবজি থেকে ফোন কল Smartwatch ভালো স্পিকার ও মাইক্রোফোন সুবিধা
নোটিফিকেশন পড়া ও উত্তর দেওয়া Smartwatch বড় ডিসপ্লে ও উন্নত নিয়ন্ত্রণ
বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার Smartwatch বেশি App Support
ম্যাপ ও Navigation Smartwatch বড় স্ক্রিনে ব্যবহার সহজ
দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ Fitness Tracker সাধারণত কম পাওয়ার খরচ
কম নোটিফিকেশন ও মনোযোগ বজায় রাখা Fitness Tracker তুলনামূলক সীমিত Smart Features

তাহলে Smartwatch-এর বদলে Fitness Tracker কিনবেন?

উত্তর নির্ভর করছে আপনার ব্যবহারের উপর। যদি স্মার্টওয়াচ কেনার মূল উদ্দেশ্য হয় Step Tracking, Sleep Monitoring, Workout Tracking এবং Heart Rate Monitoring, তাহলে ভালো মানের Fitness Tracker দিয়েই কাজ চলে যেতে পারে। কিছু উন্নত মডেলে GPS, ECG এবং NFC-এর মতো সুবিধাও পাওয়া যায়।

কিন্তু স্মার্টওয়াচে নিয়মিত ফোন কল করা, মেসেজের উত্তর দেওয়া, Navigation ব্যবহার, বিভিন্ন অ্যাপ চালানো কিংবা মিউজিক নিয়ন্ত্রণ করার অভ্যাস থাকলে Fitness Tracker-এ বদল করলে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে।

Fitness Tracker এবং Smartwatch-এর মধ্যে কোনও একটি সবার জন্য সেরা নয়। স্বাস্থ্য ও শরীরচর্চার হিসাব রাখা এবং হালকা Wearable ব্যবহারের জন্য Fitness Tracker যথেষ্ট কার্যকর। আর কবজিতে আরও বেশি Smart Features চাইলে Smartwatch-ই উপযুক্ত।

Get your daily dose of tech news and insight.  Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *