Science facts: জানেন হাতের মাঝের আঙুলটাই কেন বড় হয়? | The Science Behind Human Hands: Why Is the Middle Finger Always the Longest?
রোজকার বাসের হাতল ধরা হোক বা ভারী বাজারের ব্যাগ বয়ে আনা, সব কাজের আসল ম্যাজিক লুকিয়ে এই হাতের মুঠোতেই। হাতের ঠিক মাঝের আঙুলটাই সবার চেয়ে লম্বা। হাতের পাঁচ আঙুল কখনও সমান হয় না, এই প্রবাদ তো সবার জানা। কিন্তু অন্য কোনও আঙুল তো বড় হতে পারত! ঠিক মাঝের আঙুলটাই কেন লম্বা হল? বিষয়টা নিছক প্রকৃতির খেয়াল নয়। এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে বিজ্ঞান।
কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?
কোনও ভারী জিনিস তোলার সময় হাতের দিকে তাকালেই আসল রহস্য বোঝা যাবে। শক্ত করে কিছু ধরার সময় সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে ওই মাঝখানের আঙুলটির ওপর। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আঙুলের হাড় সবচেয়ে শক্ত আর লম্বা হয়। শুধু তাই নয়, এর চারপাশের পেশিগুলোও এমন চমৎকারভাবে সাজানো থাকে, যা মানুষের হাতের মুঠোকে ভীষণ শক্তিশালী করে তোলে। ভারী জিনিস তোলা হোক বা শক্ত করে কিছু আঁকড়ে ধরা, মাঝের আঙুলটাই আসলে ক্যাপ্টেনের কাজ করে।
গল্পটা শুরু হয়েছিল সেই আদিম যুগে। তখন মানুষকে গাছের ডাল ধরে ঝুলে থাকতে হত। উঁচু গাছ থেকে ফল পাড়তে হত। আবার বন্য প্রাণীদের থেকে বাঁচতে ছুড়তে হত ভারী পাথর। এই সব কাজের জন্যই হাতের শক্ত মুঠো খুব দরকার ছিল। যাদের হাতের মাঝের আঙুল লম্বা ছিল, তারা খুব সহজে গাছের ডাল বা হাতিয়ার ধরতে পারত। ফলে প্রতিকূল পরিবেশে তাদের টিকে থাকা অনেক সহজ হয়েছিল। প্রকৃতির নিয়মে, কালের বিবর্তনে এই বিশেষ গঠনটিই জিনের মাধ্যমে মানবদেহে চিরকালের জন্য থেকে গিয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। হাতের বুড়ো আঙুলের সঙ্গেও এর একটা দারুণ সম্পর্ক রয়েছে। বুড়ো আঙুল অন্য আঙুলগুলোর ঠিক বিপরীত দিকে থাকে। ফলে কোনও কিছু শক্ত করে ধরতে গেলে সব আঙুল মিলে একটা গোল আকার তৈরি করে। ঠিক এই সময়ে মাঝের আঙুলটি সবচেয়ে বেশি শক্তি জোগায়। এটা হাতের নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখতে ভীষণ সাহায্য করে। অর্থাৎ, মাঝের আঙুল লম্বা হওয়ার পেছনে রয়েছে এক দারুণ বিজ্ঞান। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে একটু একটু করে মানুষের হাত আজকের এই নিখুঁত রূপ পেয়েছে। মানবদেহের এই অদ্ভুত গঠন সত্যিই অবাক করার মতো।