অর্ধেক ক্ষমতা নয়! রাষ্ট্রসংঘে চিন-আমেরিকার মত ভেটো দাবি ভারতের - 24 Ghanta Bangla News
Home

অর্ধেক ক্ষমতা নয়! রাষ্ট্রসংঘে চিন-আমেরিকার মত ভেটো দাবি ভারতের

Spread the love

নয়াদিল্লি: ভারত রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে আবারও স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে( veto power)। নতুন স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা না দিলে তাঁরা ‘দ্বিতীয় শ্রেণির সদস্য’ হয়ে…

নয়াদিল্লি: ভারত রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে আবারও স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে( veto power)। নতুন স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা না দিলে তাঁরা ‘দ্বিতীয় শ্রেণির সদস্য’ হয়ে যাবেন এবং বিদ্যমান অসমতা আরও গভীর হবে বলে সতর্ক করেছে নয়াদিল্লি।

রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদে আন্তঃসরকারি আলোচনায় ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পার্বথানেনি এই কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যতদিন ভেটো ব্যবস্থা থাকবে, ততদিন সংস্কারকৃত পরিষদের সব স্থায়ী সদস্যেরই সমান অধিকার ও দায়িত্ব থাকতে হবে।

আরও দেখুনঃ খসড়া তালিকা থেকে বাদ ৪৭.৬ লক্ষ! বদলে ২.৬ লক্ষ ফর্ম ৬ নিয়ে তুঙ্গে রাজধানীর রাজনীতি

বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রয়েছে চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন ও আমেরিকা। এঁদের প্রত্যেকের ভেটো ক্ষমতা আছে। এছাড়া দশজন অস্থায়ী সদস্য দুই বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হন। ভারত দীর্ঘদিন ধরে এই কাঠামোকে ১৯৪৫ সালের বাস্তবতার প্রতিফলন বলে সমালোচনা করে আসছে। আজকের বিশ্বে আরও অনেক দেশের প্রতিনিধিত্ব দরকার, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর। কিন্তু শুধু সংখ্যা বাড়িয়ে স্থায়ী আসন দিলেই হবে না। ভেটো ক্ষমতা ছাড়া সেই আসনগুলো অর্থহীন হয়ে পড়বে।

রাষ্ট্রদূত পার্বথানেনি বলেন, “ভারতের ভেটো ( veto power)সংক্রান্ত অবস্থান নীতিগত এবং সুপরিচিত। আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি যে যতদিন ভেটো থাকবে, ততদিন সংস্কারকৃত পরিষদের সব স্থায়ী সদস্যের কাছেই তা থাকতে হবে। ন্যায়বিচার ও সমতার দাবি যে সব স্থায়ী সদস্য সমান অধিকার ও দায়িত্ব উপভোগ করবেন।” তিনি স্পষ্ট করেন যে নতুন দীর্ঘমেয়াদি সদস্য তৈরি করে তাঁদের ভেটো না দিলে তাঁরা কার্যত দ্বিতীয় শ্রেণির সদস্য হয়ে যাবেন। এতে পি৫ বা পাঁচ স্থায়ী সদস্যের সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতিশীলতা অপরিবর্তিত থাকবে।

ভারতের এই অবস্থান আফ্রিকান কমন পজিশনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। আফ্রিকান দেশগুলোও দাবি করছে যে নতুন স্থায়ী সদস্যদের পূর্ণ অধিকার দিতে হবে। ভারত আরও বলেছে, ভেটোকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার বানানো যাবে না।

এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব। ইতিহাসে প্রায় ২০০টি প্রস্তাবের ওপর ৩৩১ বার ভেটো ব্যবহার হয়েছে। তার বেশিরভাগই এসেছে কয়েকজন স্থায়ী সদস্যের কাছ থেকে। দুইজন স্থায়ী সদস্য সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ভেটো ব্যবহার করেননি।

ভারত মনে করে, সংস্কারকে খণ্ডিতভাবে দেখা যায় না। (veto power)সদস্যপদের শ্রেণি, আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব, পরিষদের আকার, কাজের পদ্ধতি এবং ভেটো সব বিষয়ে একসঙ্গে এগোতে হবে। শুধু ভেটো নিয়ে আলোচনা করলে মৌলিক পরিবর্তন আসবে না। তাই টেক্সটভিত্তিক আলোচনা শুরু করতে হবে এবং স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে আজকের বাস্তবতার প্রতিফলন হতে হবে, ১৯৪৫ সালের নয়।

এই বক্তব্য ভারতের দীর্ঘদিনের নীতির ধারাবাহিকতা। ভারত জি৪ গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপানের সঙ্গে স্থায়ী আসনের দাবি জানিয়ে আসছে। (veto power)একই সঙ্গে আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গেও সহযোগিতা বাড়িয়েছে। নয়াদিল্লির বার্তা স্পষ্ট সংস্কার যদি সত্যিই অসমতা দূর করতে চায়, তাহলে নতুন স্থায়ী সদস্যদের পূর্ণ ক্ষমতা দিতেই হবে। অন্যথায় পরিষদ পুরনো কাঠামোরই নতুন সংস্করণ হয়ে থাকবে, যেখানে কয়েকটি দেশের আধিপত্য অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক দেশই স্থায়ী আসন চায়, কিন্তু ভেটো নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে। ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে অর্ধেক অধিকার নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়া যায় না। সমতাই একমাত্র পথ। রাষ্ট্রসংঘ যদি সত্যিই গণতান্ত্রিক ও প্রতিনিধিত্বশীল হতে চায়, তাহলে এই দাবি উপেক্ষা করা যাবে না। আগামী দিনের আলোচনায় ভারতের এই অবস্থান আরও জোরালোভাবে প্রতিধ্বনিত হবে বলে আশা করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *