Audi A4-এ Yokohama টায়ার, ১,৫০০ কিমি চালিয়ে কী অভিজ্ঞতা? - 24 Ghanta Bangla News
Home

Audi A4-এ Yokohama টায়ার, ১,৫০০ কিমি চালিয়ে কী অভিজ্ঞতা?

Spread the love

গুরুগাঁও: প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার চলার পর Audi A4-এর গাড়িতে থাকা আসল টায়ার বদলে Yokohama BluEarth-GT AE51 ব্যবহার শুরু করেছেন এক গাড়ির মালিক। নতুন টায়ার লাগানোর পর প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা বলছে, হাইওয়েতে গাড়ির গ্রিপ ও চালানোর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। রাইড কমফোর্টও মোটামুটি আগের মতো রয়েছে। তবে সামান্য বেড়েছে রোড নয়েজ, আর জ্বালানি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এখনও উল্লেখযোগ্য কোনও পরিবর্তন চোখে পড়েনি।

এই অভিজ্ঞতা অবশ্যই প্রাথমিক। মাত্র ১,৫০০ কিলোমিটার চালানোর ভিত্তিতে টায়ারের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব, ক্ষয়ের হার কিংবা সব ধরনের রাস্তা ও আবহাওয়ায় পারফরম্যান্স সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

Yokohama BluEarth-GT AE51-এর বৈশিষ্ট্য

Yokohama BluEarth-GT AE51 একটি গ্র্যান্ড ট্যুরিং টায়ার। এর নকশায় গ্রিপ, গাড়ির স্থিতিশীলতা, রাইড কমফোর্ট এবং জ্বালানি দক্ষতার মধ্যে ভারসাম্য রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্যবহৃত টায়ারের মাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে 225/15 R17। এর সর্বোচ্চ লোড ৬৭১ কেজি এবং সর্বোচ্চ চাপের চিহ্নিত মান ৫১ PSI। তবে ৫১ PSI হল টায়ারে লেখা সর্বোচ্চ চাপের সীমা, Audi A4-এ ব্যবহৃত প্রকৃত ইনফ্লেশন প্রেসার নয়। গাড়ির জন্য উপযুক্ত চাপ নির্ধারণে প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা অনুসরণ করা জরুরি।

টায়ারটির অসমমিত ট্রেড প্যাটার্ন হ্যান্ডলিং ও আরামের মধ্যে ভারসাম্য রাখার জন্য তৈরি। মাঝের তিনটি রিব সোজা রাস্তায় গাড়ির স্থিতিশীলতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নকশা করা হয়েছে। পাশাপাশি Lightning Grooves এবং ব্লেড-আকৃতির সাইপের কাজ হল জল বের করে দেওয়া এবং ভেজা রাস্তায় গ্রিপ বজায় রাখতে সাহায্য করা।

এগুলি প্রস্তুতকারকের নকশাগত লক্ষ্য। বাস্তবে এই বৈশিষ্ট্যগুলি কতটা কার্যকর, তা বোঝার জন্য দীর্ঘদিনের ব্যবহার এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

হাইওয়েতে বেড়েছে চালানোর আত্মবিশ্বাস

নতুন টায়ার লাগানোর পর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে উঠে এসেছে চালানোর সময় আত্মবিশ্বাস। Audi A4 হাইওয়ের গতিতে আরও নির্ভরযোগ্য মনে হচ্ছে এবং টায়ারের গ্রিপও যথেষ্ট আশ্বস্ত করেছে বলে জানিয়েছেন চালক।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। আগের OEM টায়ারগুলি প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার চলেছিল এবং সেগুলির বয়স ও ব্যবহারের প্রভাব পড়তে শুরু করেছিল। ফলে নতুন টায়ার লাগানোর পর গ্রিপে যে উন্নতি অনুভূত হয়েছে, তার পুরো কৃতিত্ব শুধু Yokohama BluEarth-GT AE51-কে দেওয়া যায় না। পুরনো, ক্ষয়প্রাপ্ত টায়ারের পরিবর্তে নতুন টায়ার ব্যবহারের ফলেও এমন পার্থক্য অনুভূত হতে পারে।

অর্থাৎ, এটি দুটি নতুন টায়ারের মধ্যে সরাসরি তুলনা নয়। বরং দীর্ঘদিন ব্যবহৃত OEM টায়ার থেকে নতুন Yokohama টায়ারে পরিবর্তনের পর চালকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।

রাইড কমফোর্টে বড় পরিবর্তন নেই

টায়ার বদলানোর সময় আরামের মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও প্রাথমিক অভিজ্ঞতায় তেমন কিছু দেখা যায়নি। Audi A4-এর পরিচিত রাইড কোয়ালিটি মোটামুটি বজায় রয়েছে। গর্ত এবং অসমান রাস্তার অংশ পেরোনোর সময়ও টায়ারগুলি আরামদায়ক বলে মনে হয়েছে।

গ্র্যান্ড ট্যুরিং টায়ার হিসেবে AE51-এর লক্ষ্যই হল দৈনন্দিন যাতায়াতের আরাম বজায় রেখে হাইওয়েতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। প্রথম ১,৫০০ কিলোমিটারের অভিজ্ঞতায় এই ভারসাম্য Audi A4-এর চরিত্রের সঙ্গে মানানসই বলে মনে হয়েছে।

তবে একটি পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। আগের OEM টায়ারের তুলনায় নতুন Yokohama টায়ারে রাস্তার শব্দ কিছুটা বেশি শোনা যাচ্ছে। এই শব্দ খুব বড় সমস্যা না হলেও গাড়ির কেবিনে নীরবতাকে যাঁরা বিশেষ গুরুত্ব দেন, তাঁদের জন্য বিষয়টি বিবেচনায় রাখা দরকার।

এ ক্ষেত্রেও মনে রাখতে হবে, পুরনো টায়ারগুলির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, নতুন অবস্থায় একই মডেলের বা অন্য কোনও টায়ারের সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা করা হয়নি।

জ্বালানি সাশ্রয়ে এখনও দৃশ্যমান লাভ নেই

Yokohama-র BluEarth সিরিজে জ্বালানি দক্ষতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। AE51-এর ট্রেড কম্পাউন্ড এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে শক্তির অপচয় কমানো যায়। তাত্ত্বিকভাবে কম রোলিং রেজিস্ট্যান্স জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

কিন্তু Audi A4-এ ১,৫০০ কিলোমিটার চালানোর পর জ্বালানি খরচে উল্লেখযোগ্য কোনও উন্নতি চোখে পড়েনি। শহরের রাস্তায় এবং হাইওয়েতে মাইলেজ মোটামুটি আগের মতোই রয়েছে।

এটি সরাসরি নেতিবাচক ফল নয়। গাড়ির বর্তমান জ্বালানি দক্ষতা চালকের ব্যবহারের জন্য সন্তোষজনক। তবে এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে Yokohama BluEarth-GT AE51 জ্বালানি খরচ কমায়, এমন দাবি করার মতো পরিমাপযোগ্য প্রমাণ এখনও নেই।

১,৫০০ কিলোমিটার পর চূড়ান্ত মূল্যায়ন কী?

প্রাথমিক অভিজ্ঞতায় Yokohama BluEarth-GT AE51 Audi A4-এর জন্য ইতিবাচক ফল দিয়েছে। হাইওয়েতে চালানোর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, গ্রিপ আশ্বস্ত করেছে এবং রাইড কমফোর্টও মোটামুটি আগের মতো রয়েছে। অন্যদিকে, সামান্য বেশি রোড নয়েজ একটি লক্ষণীয় আপস। জ্বালানি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রেও এখনও স্পষ্ট উন্নতি দেখা যায়নি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হল, নতুন টায়ারগুলি পুরনো ও প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার চলা OEM টায়ারের জায়গায় বসানো হয়েছে। তাই নতুন টায়ার ব্যবহারের সাধারণ সুবিধা এবং AE51 মডেলের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন।

এখন নজর থাকবে পরবর্তী কয়েক হাজার কিলোমিটারে। টায়ারের ক্ষয়, শব্দের মাত্রা এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর গ্রিপ কতটা স্থিতিশীল থাকে, তা বোঝা গেলে আরও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। আপাতত Yokohama BluEarth-GT AE51-এর শুরুটা আশাব্যঞ্জক, তবে ১,৫০০ কিলোমিটারের অভিজ্ঞতাই শেষ কথা নয়।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *