ওঁর চরিত্ররা যেন পাড়ার চেনা কেউ: সমীর আইচ
প্রশ্ন: যোগেন চৌধুরীর সঙ্গ করেছেন দীর্ঘদিন। বিশেষ কোনও স্মৃতি কি মনে পড়ছে?
যোগেনদাকে নিয়ে অনেক স্মৃতি রয়ে গেছে। যোগেনদার খুব ইচ্ছে ছিল গঙ্গার ধারে একটি আর্টিস্ট ভিলেজ তৈরি করবেন। আমরাও চেষ্টা করেছিলাম। যাই হোক, তবে সেটার বদলে আরেকটা ফাউন্ডেশন তৈরি হয়েছে। ১৯৯৭-তে যোগেনদা বললেন, সমীর, চলো আমরা একটা বড় আর্ট-ফেস্টিভ্যাল করি। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা সেই ফেস্টিভ্যাল করলাম। কলকাতার বুকে অত বড় আর্ট-ফেস্টিভ্যাল আজ পর্যন্ত হয়নি, ভারতবর্ষেও হয়েছে কি না সন্দেহ। আমরা ‘নাকতলা শিল্পী আস্থা’ বানিয়েছি। শিল্পীরা যদি আর্থিক ভাবে দুর্বল হন, তবে তাঁদের আর্থিক ভাবে সাহায্য করি আমরা। আরেকটি ছোট গেস্টহাউস বানানো রয়েছে, যাতে দূরদূরান্ত থেকে শিল্পীরা এসে সেখানে স্বল্পমূল্যে থাকতে পারেন। এটার প্রেসিডেন্ট ছিলেন যোগেনদা, আর আমি সেক্রেটারি। এই কাজগুলো যোগেনদা না থাকায় অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকী যোগেনদা নিজে জুনিয়র শিল্পীদের ছবি কিনতেন। এ ভাবে আর্থিক ভাবে অনেক শিল্পীকে তিনি সাহায্য করেছেন। যোগেনদাকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। যোগেনদাও আমাদের স্বপ্ন দেখাতেন। আজ সেই স্বপ্নগুলো হারিয়ে গেল।
সাক্ষাৎকার: সৈকত সরকার