নেহা বোরাকে নথি দিল দিল্লি পুলিশ, জবাব দেওয়ার সময় পেলেন AISA নেত্রী - 24 Ghanta Bangla News
Home

নেহা বোরাকে নথি দিল দিল্লি পুলিশ, জবাব দেওয়ার সময় পেলেন AISA নেত্রী

Spread the love

নয়াদিল্লি: দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ ও তথ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার সুযোগ পেলেন AISA-র সভাপতি নেহা বোরা (Neha Bora)। শনিবার মন্দির মার্গ থানার স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (SEM) পুলিশকে নির্দেশ দেন, নেহা বোরাাকে শোকজ নোটিসের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত সমস্ত নথি ও তথ্য দিতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে পুলিশ নথি ও সংশ্লিষ্ট উপাদান তাঁর হাতে তুলে দেয়। এরপর নিজের বক্তব্য পেশ করার জন্য তাঁকে সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।

SEM ঋতু রাজ, যিনি একজন ACP, দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশকে নথি সরবরাহের নির্দেশ দেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখার পর শোকজ নোটিসে উত্থাপিত বিষয়গুলির জবাব দেবেন নেহা বোরা।

আদালতে কী জানালেন দুই পক্ষ?

নেহা বোরাার হয়ে আইনজীবী অভিক চিমনি ও প্রাঞ্জল আব্রোল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশের হাতে তাঁর বিরুদ্ধে কী তথ্য রয়েছে, তা না জেনে যথাযথ জবাব দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্ট নথি ও উপাদান সরবরাহ করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের হয়ে আইনজীবী প্রশান্ত প্রকাশ ও ভৈরো প্রসাদ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে তদন্তকারী আধিকারিকও ছিলেন। পুলিশের তরফে বলা হয়, শুনানিতে হাজির হওয়ার আগে নেহা বোরা একটি সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন। প্রকাশ্যে তিনি বলেছেন, জনসমক্ষে তিনি শান্তি বজায় রাখার বন্ডে সই করবেন না। পুলিশের বক্তব্য, নিজের অবস্থান সম্পর্কে তাঁকে আদালতের সামনেই বক্তব্য জানাতে হবে। নথি পাওয়ার পর সেগুলি পরীক্ষা করে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে আপাতত বিষয়টি পরবর্তী শুনানির দিকে এগোচ্ছে।

ALSO READ | সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশবিরোধী প্রচার, জইশ যোগ! মুম্বই থেকে গ্রেফতার সন্দেহভাজন জঙ্গি

শোকজ নোটিসে হস্তক্ষেপ করেনি দিল্লি হাই কোর্ট

এর আগে ২৩ অক্টোবর দিল্লি হাই কোর্ট নেহা বোরাার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া প্রতিরোধমূলক আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে। বিচারপতি সুব্রামোনিয়াম প্রসাদ পর্যবেক্ষণ করেন, স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের জারি করা শোকজ নোটিস আইনগত শর্ত পূরণ করেছে। এই পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত সুরক্ষাবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও আদালত মনে করেনি।

হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের রিপোর্ট, তার সঙ্গে জমা দেওয়া তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য বিবেচনা করার পর ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা বা BNSS-এর অধীনে প্রতিরোধমূলক প্রক্রিয়া শুরু করার যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে বলে মত গঠন করেছিলেন।

আদালত আরও জানায়, Madhu Limaye বনাম Sub-Divisional Magistrate, Monghyr মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যে নীতিগুলি নির্ধারণ করেছিল, এই পর্যায়ে সেগুলি লঙ্ঘিত হয়েছে বলে প্রমাণ মেলেনি। সেই সঙ্গে পরবর্তী প্রক্রিয়ায় প্রযোজ্য আইনি সুরক্ষাবিধি মেনে চলার দায়িত্ব স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের উপর রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

ALSO READ | যোগী রাজ্যে স্কুলের মেয়েদের উত্যক্ত! দাওয়াই দিয়ে হুসেন-তৌফিককে প্যারেড পুলিশের

কেন নোটিস পাঠানো হয়েছিল নেহা বোরাাকে?

আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭ অক্টোবর ২০২৬-এ স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশের ভিত্তি ছিল পুলিশের জমা দেওয়া ‘কালান্দরা’ এবং তার সঙ্গে থাকা তথ্য। সাব-ইনস্পেক্টর বৈশালী তুষিরের বক্তব্যও নথিভুক্ত করা হয়েছিল।

পুলিশের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ জারি থাকা সত্ত্বেও নেহা বোরা প্রতিবাদ-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন এবং ১৬ অক্টোবর বিকেল ৫টায় মান্ডি হাউসে লোকজনকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া, দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভের জন্য লোকজনকে সংগঠিত করার প্রচেষ্টার অভিযোগও পুলিশের রিপোর্টে রয়েছে।

পুলিশের দাবি, এই ঘটনাগুলির জেরে জনশান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। আগের কিছু প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং ভবিষ্যতে আরও জমায়েত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও পুলিশের জমা দেওয়া উপাদানে উল্লেখ করা হয়েছিল। এই অভিযোগগুলির ভিত্তিতেই প্রতিরোধমূলক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে এগুলি পুলিশের অভিযোগ, আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে এগুলিকে দেখা যাবে না।

১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডের বিষয়টি কী?

BNSS-এর ১২৬ ও ১৩০ ধারার অধীনে জারি হওয়া নোটিসে নেহা বোরাাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল, কেন তাঁকে ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ টাকার একজন জামিনদার দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, যাতে তিনি শান্তি বজায় রাখেন।

১৬ অক্টোবর ইনস্টাগ্রামে মান্ডি হাউসে জমায়েতের আহ্বান জানানোর পর দিল্লি পুলিশ তাঁকে আটক করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরের দিন তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং সেই সময়ই ম্যাজিস্ট্রেট শোকজ নোটিস জারি করেন।

বর্তমানে নেহা বোরাার বিরুদ্ধে শান্তি বজায় রাখার বন্ড সংক্রান্ত প্রতিরোধমূলক প্রক্রিয়া চলছে। ২৮ অক্টোবরের শুনানিতে পুলিশের নথি খতিয়ে দেখে তিনি কী জবাব দেন এবং ম্যাজিস্ট্রেট পরবর্তী কী নির্দেশ দেন, সেদিকেই নজর থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *