বিহারের রাজনীতিতে বড় সিদ্ধান্ত! জনতা দল থেকে বহিস্কৃত বাহুবলি বিধায়ক - 24 Ghanta Bangla News
Home

বিহারের রাজনীতিতে বড় সিদ্ধান্ত! জনতা দল থেকে বহিস্কৃত বাহুবলি বিধায়ক

Spread the love

পটনা: বিহারের রাজনীতিতে বড়সড় ধাক্কা খেলেন মোকামার বিধায়ক অনন্ত সিং।(Anant Singh) বিধান পরিষদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচার এবং দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে…

পটনা: বিহারের রাজনীতিতে বড়সড় ধাক্কা খেলেন মোকামার বিধায়ক অনন্ত সিং।(Anant Singh) বিধান পরিষদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচার এবং দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে তাঁকে ছয় বছরের জন্য বহিষ্কার করল জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ)। একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী নীলম দেবীকেও ছয় বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, অনন্ত সিংয়ের বিধায়ক পদ খারিজ করার জন্য বিহার বিধানসভার স্পিকারের কাছে সুপারিশ করেছে দল। (Anant Singh)শনিবার জেডিইউয়ের প্রদেশ সভাপতি উমেশ কুশওয়াহা এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেন। এই সিদ্ধান্তের পর বিহারের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অনন্ত সিংয়ের বিধায়ক পদ নিয়ে এবার কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

আরও দেখুনঃ ‘দিল্লির সাথে পারতাম না, পাকিস্তান রক্ষা করছে!’ ফের বিস্ফোরক ফারুখ

জেডিইউয়ের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় অনন্ত সিংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। দলের দাবি, তিনি দলীয় নির্দেশ অমান্য করেছেন, শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অমর্যাদাকর ও অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন এবং বিধান পরিষদ নির্বাচনে জেডিইউয়ের মনোনীত প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদ অবিলম্বে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছয় বছরের জন্য তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেডিইউয়ের বক্তব্য, দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচার চালানো এবং অন্য দলের প্রার্থীকে সমর্থন করার মতো কর্মকাণ্ড দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী। সেই কারণেই অনন্ত সিংয়ের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।

অনন্ত সিংয়ের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী নীলম দেবীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে জেডিইউ। দলের প্রদেশ সভাপতি উমেশ কুশওয়াহা তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করে ছয় বছরের জন্য বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে নীলম দেবীর বিরুদ্ধে ঠিক কোন নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নির্দেশিকার বিস্তারিত বিবরণ থেকে স্পষ্ট নয়। একই পরিবারের দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে একসঙ্গে এই পদক্ষেপ বিহারের রাজনীতিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ঘটনার সূত্রপাত বিধান পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে।(Anant Singh)পটনা স্নাতক নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে জেডিইউয়ের প্রার্থী ছিলেন নীরজ কুমার। অন্যদিকে, জন সুরাজের প্রার্থী অনুজ কুমারের সমর্থনে প্রচার করেন অনন্ত সিং। জেডিইউয়ের অভিযোগ, দলের প্রার্থীকে সমর্থন করার পরিবর্তে অনন্ত সিং বিরোধী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

এর ফলে দলের অভ্যন্তরে তাঁর সঙ্গে নেতৃত্বের দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। নির্বাচনী প্রচারের সময় নীরজ কুমার ও অনন্ত সিংয়ের মধ্যে মতবিরোধও প্রকাশ্যে এসেছিল বলে জানা যায়। সেই সময় থেকেই অনন্ত সিংয়ের বিরুদ্ধে দল কোনও সাংগঠনিক পদক্ষেপ করতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল। শনিবারের নির্দেশিকার মাধ্যমে সেই জল্পনার অবসান ঘটাল জেডিইউ।

তবে এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল অনন্ত সিংয়ের বিধায়ক পদ খারিজ করার সুপারিশ। জেডিইউয়ের প্রদেশ সভাপতির জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের দশম তফসিলের আওতায় অনন্ত সিংয়ের বিধানসভার সদস্যপদ অবিলম্বে খারিজ করার জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন জানানো হচ্ছে।

সংবিধানের দশম তফসিল মূলত দলত্যাগ বিরোধী বিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত। (Anant Singh)কোনও বিধায়কের বিরুদ্ধে এই বিধানের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং বিধানসভার স্পিকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে জেডিইউয়ের সুপারিশের পরই যে অনন্ত সিংয়ের বিধায়ক পদ খারিজ হয়ে যাবে, এমনটা বলা যায় না। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পরবর্তী প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *