Social Media Blocking Orders: সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও পেজ ব্লক কিংবা কনটেন্ট সরানোর নির্দেশ দিলে জানাতে হবে ব্যবহারকারীকে, নির্দেশ হাইকোর্টের | Government must inform users of social media blocking orders, rules Punjab and Haryana High Court
চণ্ডীগড়: সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে কোনও পেজ ব্লক করা কিংবা অনলাইন কনটেন্ট সরানোর নির্দেশ দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীকেও সেই নির্দেশের একটি কপি দিতে হবে। এমনই নির্দেশ দিল পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ২০২১ সালের তথ্যপ্রযুক্তি (ইন্টারমিডিয়ারি গাইডলাইনস অ্যান্ড ডিজিটাল মিডিয়া এথিক্স কোড) বিধিতে স্পষ্টভাবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ না থাকলেও, স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতি মেনে ব্যবহারকারীকে বিষয়টি জানানো জরুরি। হরিয়ানার সংবাদমাধ্যম হরিয়ানা ২৪ নিউজ নেটওয়ার্ক প্রাইভেট লিমিটেডের দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
গত ২১ অগস্ট হরিয়ানা পুলিশের নির্দেশের ভিত্তিতে ভারতে ওই সংবাদমাধ্যমের সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ব্লক করে দেয় মেটা। এর পরই আদালতের দ্বারস্থ হয় সংস্থাটি। মামলাটির শুনানির সময় পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের বিচারপতি ত্রিভুবন দাহিয়ার পর্যবেক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০ এবং তার অধীনে তৈরি বিধিতে সরকার কোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে ব্লক করার নির্দেশ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীকে শুনানির সুযোগ দেওয়ার কথা বলা নেই। কিন্তু এর ফলে ব্যবহারকারীর অনলাইন কনটেন্ট বা পেজে প্রবেশাধিকার সরাসরি প্রভাবিত হয়।
আদালত জানায়, সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ব্লক করার আগে ব্যবহারকারীকে আগাম নোটিস দিতে হবে কি না, তা এই মামলার বিবেচ্য বিষয় ছিল না। তবে প্ল্যাটফর্মের অভিযোগ নিষ্পত্তিকারী আধিকারিকের কাছে সিদ্ধান্তের পর শুনানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি মামলার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এই ধরনের শুনানি তখনই অর্থবহ হবে, যখন সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারী তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে অবগত থাকবেন। অর্থাৎ, সরকার মধ্যস্থতাকারী সংস্থাকে যে নির্দেশ দিয়েছে, তার বিষয়বস্তু এবং নির্দেশ দেওয়ার জন্য যে তথ্যপ্রমাণের উপর নির্ভর করা হয়েছে, সেগুলি ব্যবহারকারীর জানা প্রয়োজন।
আদালতের কথায়, “এগুলি না জানলে তিনি নিজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে বিধিতে নির্ধারিত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থার উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।” প্রক্রিয়াগত ন্যায্যতার গুরুত্ব তুলে ধরে হাইকোর্ট জানায়, আইন দ্বারা নির্ধারিত প্রতিটি পদ্ধতিই ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত হতে হবে। পাশাপাশি, স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি—বিশেষত নিজের বক্তব্য পেশ করার ন্যায্য সুযোগ—মেনে চলতে হবে।
আদালত জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি (ইন্টারমিডিয়ারি গাইডলাইনস অ্যান্ড ডিজিটাল মিডিয়া এথিক্স কোড) বিধি, ২০২১-এর রুল ৩-এর উপবিধি (২)-এ সরকার বা তার কোনও সংস্থাকে মধ্যস্থতাকারীকে ব্লক করার নির্দেশ পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট আপলোডকারীকে জানানোর বিষয়ে স্পষ্ট কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। তবে হাইকোর্টের মতে, স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতির মধ্যেই এই বাধ্যবাধকতা নিহিত রয়েছে। তাই বিধিটির ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেও তা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সেই অনুযায়ী আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে সরকার যখন ব্লক করার নির্দেশ পাঠাবে, তখনই সেই নির্দেশের একটি কপি সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীকে দিতে হবে। এর ফলে স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিগুলি কার্যকর হবে এবং গোটা প্রক্রিয়াটি সাংবিধানিক বৈধতা পাবে বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের।