Laxmi Puja: জানেন লক্ষ্মীর বাহন কেন প্যাঁচা? | Do you know why the owl is goddess laxmis bahan
ধন-সম্পদ, সুখ এবং ঐশ্বর্যের দেবী মা লক্ষ্মী। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, এত রূপ ও ঐশ্বর্যের অধিকারী দেবী কেন তাঁর বাহন হিসেবে বেছে নিয়েছেন প্যাঁচাকে? যেখানে অধিকাংশ দেব-দেবীর বাহন সিংহ, রাজহাঁস, সেখানে প্যাঁচার মতো একটি নিশাচর পাখিকে দেবী লক্ষ্মীর পাশে স্থান দেওয়ার পেছনে জড়িয়ে রয়েছে পৌরাণিক গল্প।
পুরাণ মতে, একবার দেবী লক্ষ্মী মর্ত্যলোকে পদার্পণ করার পর সিদ্ধান্ত নেন তিনি এমন একটি পাখিকে তাঁর বাহন হিসেবে বেছে নেবেন, যে অন্ধকারেও স্পষ্টভাবে দেখতে পায় এবং ধৈর্যশীল। নানা পশু-পাখি দেবীর বাহন হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে দেবী প্যাঁচাকেই বেছে নেন। প্যাঁচাকে স্বভাবতই শান্ত, গম্ভীর এবং দিনের আলোর তীব্র চকচকে আলো থেকে নিজেকে দূরে রাখে।
অন্য এক পৌরাণিক মতে, ব্রহ্মা যখন সৃষ্টি পরিচালনা করছিলেন, তখন দেব-দেবী ও পশু-পাখিদের মধ্যে এক বিশেষ সংযোগ স্থাপন করা হয়। সেই সময় প্যাঁচার সততা, নীরবতা এবং কোনও অবস্থাতেই বিচিলত না হওয়ার গুণ দেখে দেবী লক্ষ্মী তাকে নিজের বাহন হিসেবে গ্রহণ করেন। হিন্দু শাস্ত্রে প্য়াঁচাকে ‘বিচক্ষণতার প্রতীক’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
ভগবান বিষ্ণু এবং তাঁর শক্তি বা অবতারগণের নানা লীলা, সমুদ্রমন্থন এবং দেবী লক্ষ্মীর আবির্ভাবের উপাখ্যান এই পুরাণে সবিস্তারে পাওয়া যায়।
১. প্যাঁচা দিনে অন্ধ হলেও রাতের অন্ধকারে সবচেয়ে পরিষ্কার দেখে। এর অর্থ হল, যে ব্যক্তি জাগতিক ধন-সম্পদ ও মোহময় আলোর চকমকিতে অন্ধ না হয়ে বিপদের বা সংকটের অন্ধকারেও সঠিক পথ দেখতে পান, মা লক্ষ্মী সেখানেই স্থায়ীরূপে অবস্থান করেন।
২. সম্পদ বা টাকা-পয়সার মোহে মানুষ প্রায়শই অন্ধ হয়ে পড়ে। প্য়াঁচার দিন-রাতের দেখার এই বিপরীত ক্ষমতা মানুষকে শেখায় যে, ধন-সম্পত্তির অন্ধ মোহে যেন আত্মজ্ঞান হারিয়ে না যায়।
৩. মা লক্ষ্মীকে বলা হয় ‘চঞ্চলা’, অর্থাৎ তিনি এক জায়গায় বেশিদিন স্থির থাকেন না। কিন্তু তাঁর বাহন প্যাঁচা অত্যন্ত স্থির ও ধৈর্যশীল। দেবীর চঞ্চলতাকে ভারসাম্য রক্ষা করতেই স্থির ও গম্ভীর প্যাঁচাকে তাঁর বাহন করা হয়েছে।
শাস্ত্রমতে, লক্ষ্মীপুজোর দিন কিংবা ঘরে প্যাঁচার উপস্থিতি বা প্রতীক দেখা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। কারণ বাহন হিসেবে প্যাঁচা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, কেবল অর্থ উপার্জন করলেই চলে না, সেই অর্জিত সম্পদকে রক্ষা ও সঠিক কাজে ব্যবহার করার জন্য চাই সংযম ও বিচক্ষণতা।