৫০ হাজারের বন্ডে মুক্তি CJP নেতাদের, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা
নয়াদিল্লি: ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড ও জামিনদারের বন্ড জমা দেওয়ার শর্তে মুক্তি পেলেন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।…
নয়াদিল্লি: ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড ও জামিনদারের বন্ড জমা দেওয়ার শর্তে মুক্তি পেলেন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বুধবার বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) আদালত তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশের কয়েক ঘণ্টা পর, রাত প্রায় ৯টা নাগাদ তিহাড় জেল থেকে ছাড়া পান তাঁরা। তবে মুক্তির সঙ্গে একাধিক শর্ত জুড়ে দিয়েছে আদালত। যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে নতুন করে কোনও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া যাবে না বলে লিখিত অঙ্গীকার করেছেন দুই নেতা।
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে গ্রেফতার
যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা-সহ সিজেপির অন্তত ১৪ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছিল। যন্তর মন্তর বর্তমানে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল নয় বলে প্রশাসনের অবস্থান। গত ১৩ অক্টোবর দুই নেতাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। পরে তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
এরপর তাঁরা দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তবে বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আবেদন পরে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। একই দিনে এসইএম আদালতের নির্দেশে দুই নেতার মুক্তির পথ খুলে যায়।
মুক্তির জন্য কী কী শর্ত দিয়েছে আদালত?
লাইভ ল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতে লিখিত অঙ্গীকার জমা দিয়ে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে পুনরায় স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনও বিক্ষোভের ডাক দেবেন না। তাঁরা শান্তি বজায় রাখারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দুই নেতা আরও জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যে কোনও বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করা হলে তা ভারতীয় সংবিধানের বিধান ও নির্ধারিত নিয়ম মেনেই করা হবে। লিখিত অঙ্গীকারে তাঁরা এসইএম আদালত-সহ বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থার কথাও উল্লেখ করেছেন। ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের এই অঙ্গীকার আদালতের নথিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড ও জামিনদারের বন্ড
দুই পক্ষের বক্তব্য এবং লিখিত অঙ্গীকার বিবেচনা করে আদালত জানিয়েছে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ১৩৫(৩) ধারার বিধান অনুযায়ী শান্তি বজায় রাখার শর্ত নিশ্চিত করতে দুই নেতাকে তাঁদের স্বাক্ষর করা বন্ড কার্যকর করতে হবে।
সেই অনুযায়ী, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ জামিনদারের বন্ড জমা দিতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতের প্রতিটি শুনানিতে হাজির থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আদালতে স্বাক্ষর করা বন্ডের শর্ত পালন করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তদন্ত এখনও চলছে
মুক্তি মিললেও মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। ফলে আদালতের নির্ধারিত শর্তগুলি মেনে চলতে হবে দুই নেতাকে। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের উপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত শর্তও বহাল থাকবে, যতক্ষণ না ওই স্থানকে ফের বিক্ষোভস্থল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
এই মামলায় পরবর্তী শুনানিতে দুই নেতা হাজির হন কি না এবং তাঁরা আদালতের নির্দেশ মেনে চলেন কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।