বিষাদের সুরের মাঝেই প্রতিমা নিরঞ্জনে কড়া নজরদারি, মোতায়েন ১৮ আইপিএস অফিসার - 24 Ghanta Bangla News
Home

বিষাদের সুরের মাঝেই প্রতিমা নিরঞ্জনে কড়া নজরদারি, মোতায়েন ১৮ আইপিএস অফিসার

Spread the love

শারদীয় দুর্গোৎসবের বিদায় ঘণ্টা বাজতেই রাজ্যের আকাশ-বাতাসে এখন বিষাদের চাদর। ঢাকের শেষ বোলে ‘ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ, ঠাকুর যাবে বিসর্জন’ সুরের সঙ্গে সঙ্গেই বাঙালির বুক চিরে…

শারদীয় দুর্গোৎসবের বিদায় ঘণ্টা বাজতেই রাজ্যের আকাশ-বাতাসে এখন বিষাদের চাদর। ঢাকের শেষ বোলে ‘ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ, ঠাকুর যাবে বিসর্জন’ সুরের সঙ্গে সঙ্গেই বাঙালির বুক চিরে বেরিয়ে আসছে দীর্ঘশ্বাস। পুজোমণ্ডপের উপচে পড়া ভিড় সামলানোর পরীক্ষা পেরিয়ে এবার আরও বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ, প্রতিমা নিরঞ্জন পর্ব সম্পূর্ণ শান্ত ও নির্বিঘ্ন রাখা। এই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার দশমী থেকে আগামী শনিবার, ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলা বিসর্জন প্রক্রিয়া নিখুঁতভাবে তদারকি করতে কলকাতা সহ চার কমিশনারেটে মাঠে নামানো হয়েছে ১৮ জন উচ্চপদস্থ আইপিএস আধিকারিককে।

বিজয়া দশমী ও নিরঞ্জনকে ঘিরে রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তর থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী চার দিন ধরে চলা এই বিসর্জন প্রক্রিয়ার প্রতিটি মুহূর্ত নজরে রাখবেন আইপিএস কর্তারা। এর মধ্যে শুধু তিলোত্তমার বুকেই আইন-শৃঙ্খলা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ভার দেওয়া হয়েছে ১২ জন আইপিএস অফিসারকে, যাঁদের সুনির্দিষ্ট দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

প্রথম ও তৃতীয় দিন (২১ ও ২৩ অক্টোবর): এই দু’দিন কলকাতার বিভিন্ন ঘাটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন গৌরব শর্মা, সোমা দাস মিত্র, রশিদ মুনির খান, আকাশ মাঘারিয়া, সুরেশকুমার চাডিভে এবং ধৃতিমান সরকার।

দ্বিতীয় ও চতুর্থ দিন (২২ ও ২৪ অক্টোবর): বাকি দিনগুলিতে তদারকির দায়িত্বে থাকবেন প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী, ইমরান ওয়াহাব, শীষ রাম ঝাঝরিয়া, সৌম্য রায়, পারিজাত বিশ্বাস এবং সিদ্ধার্থ ধাপোলা।

হাওড়া, বারাকপুর ও চন্দননগরেও বিশেষ টিম

রাজধানীর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চল ও জনবহুল শহরগুলিতেও যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। হাওড়া, বারাকপুর ও চন্দননগর কমিশনারেটের জন্য দু’জন করে মোট ছ’জন আইপিএস অফিসারকে নিযুক্ত করা হয়েছে:

হাওড়া: ইন্দ্র চক্রবর্তী ও আভারু রবীন্দ্রনাথ।

বারাকপুর: পলাশচন্দ্র ঢালি ও দ্যুতিমান ভট্টাচার্য।

চন্দননগর: অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপ মণ্ডল।

ক্রেন প্রথার বিদায়, ট্রলি ও মোটবাহকের ওপর ভরসা

প্রতিমা নিরঞ্জনকে ঘিরে এ বার নিয়মে বড়সড় বদল এনেছে কলকাতা পৌরসংস্থা। অতীতে লরি বা ট্রলার থেকে ক্রেনের মাধ্যমে যেভাবে প্রতিমা জলে নামানো হতো, পরিবেশ ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সেই পদ্ধতি পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বাজেকদমতলা ও নিমতলা ঘাটের মতো ব্যস্ত স্থানগুলিতে লরি বা ট্রেলার থেকে প্রতিমা নামিয়ে সুসজ্জিত ট্রলিতে করে গঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হবে।

শহরের প্রায় ১৮টি প্রধান ঘাটে (যার মধ্যে নিমতলা, বাজে কদমতলা, প্রিন্সেপ এবং বাবুঘাট অন্যতম) বিসর্জনের এই কাজ সম্পন্ন হয়। এক একটি ঘাটে গড়ে প্রায় দু’শোটি প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। এই গোটা প্রক্রিয়াটি যাতে কোনো বিঘ্ন ছাড়াই সম্পন্ন হয়, সেজন্য কলকাতা পৌরসভার উদ্যোগে তিনশো জনেরও বেশি পেশাদার মোটবাহক বা পোর্টারকে মোতায়েন করা হয়েছে। নিয়ম মেনে ট্রলিতে করে প্রতিমা ঘাটে সাত পাক ঘোরানোর পর বিসর্জন দেওয়া হবে। তবে জলে প্রতিমা নিরঞ্জনের পর নদী পরিষ্কার ও কাঠামো তুলে আনতে প্রয়োজনে ক্রেন ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে! বড় ইঙ্গিত ট্রাম্প ও মার্কো রুবিওর

মাস্কের নেটওয়ার্কে নজরদারি বাড়াতে নতুন এক হার্ডওয়্যার স্তর গড়ে তোলার পরিকল্পনা মোদী সরকারের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *