‘ফিটনেসের বালাই ছিল না, অনুশীলন করত না’, রোনাল্দোকে নিয়ে বিস্ফোরক টেন হ্যাগ
টেন হ্যাগের অভিযোগ, প্রত্যাশিত শারীরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিলেন রোনাল্দো। তাঁর দাবি, একাধিক বার অনুশীলন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন পর্তুগিজ তারকা। অনুশীলনে যোগ দিলেও তাঁর হৃদস্পন্দনের গতি যথেষ্ট বাড়ত না বলেও অভিযোগ করেছেন প্রাক্তন কোচ। ২০২২ সালের অগস্টে ব্রেন্টফোর্ডের কাছে ০-৪ গোলে হারের পর দলের ফুটবলারদের তিন বার মাঠ প্রদক্ষিণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন টেন হ্যাগ। তাঁর দাবি, রোনাল্দো সেই তিন বারের মধ্যে মাত্র দু’বার মাঠ প্রদক্ষিণ করেছিলেন। টেন হ্যাগের কথায়, ‘ও দলকে হতাশ করেছিল, আমাকেও হতাশ করেছিল। কারণ, ওকে নিয়েই আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম।’
রোনাল্দোকে নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা শুধু প্রতিপক্ষকে দৌড়ে চাপে ফেলা ছিল না বলেও জানিয়েছেন টেন হ্যাগ। তাঁর বক্তব্য, গোল করার মতো জায়গায় পৌঁছনোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং শারীরিক সক্ষমতা দেখাতে পারেননি রোনাল্দো। প্রাক্তন কোচ বলেন, ‘আমি ওকে বার বার বলতাম, রনি, তোমাকে সঠিক জায়গায় বল পৌঁছে দিতে সবাই পরিশ্রম করছে। কিন্তু তুমি যদি গোল করার জায়গায় পৌঁছতেই না পারো, তা হলে গোল করবে কী করে? ও সেটা করতে পারছিল না। আমি ওকে এমন দৌড় করাতে চাইছিলাম না, যাতে ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আসল সমস্যা ছিল, বল পায়ে থাকুক বা না থাকুক, ও দৌড়চ্ছিল না। কারণ, ও নিজেকে ঠিক ভাবে প্রস্তুত করছিল না।’
শুধু রোনাল্দোর ফিটনেস নিয়েই নয়, অনুশীলনের ধরন নিয়েও আপত্তি ছিল টেন হ্যাগের। তাঁর দাবি, সতীর্থদের অনুশীলনে বেশি শক্তি খরচ না করার পরামর্শ দিতেন রোনাল্দো। টেন হ্যাগ বলেন, ‘ও সতীর্থদের বলত, অনুশীলনে বেশি দৌড়ে পা ক্লান্ত কোরো না। একজন ফুটবলার পুরোপুরি ফিট থাকলে অনুশীলনে কিছুটা শক্তি বাঁচিয়ে রাখার কথা ভাবতে পারে। কিন্তু তার আগে তো নিজের ফিটনেস ঠিক জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।’
তাঁর মতে, দলের সেরা ফুটবলারকে ঘিরে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। তবে তার মানে এই নয় যে, সেই ফুটবলার দলের জন্য নিজের দায়িত্ব পালন করবেন না। টেন হ্যাগের দাবি, ‘প্রতিটি বড় দলকেই তার সেরা খেলোয়াড়কে গুরুত্ব দিতে হয়। কিন্তু সেই খেলোয়াড়কেও দলের জন্য কাজ করতে হবে।’