‘কেউ আমাদের ভয় দেখাতে পারে না!’ রাজনৈতিক মিছিল নিয়ে কড়া বার্তা প্রধান বিচারপতির - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘কেউ আমাদের ভয় দেখাতে পারে না!’ রাজনৈতিক মিছিল নিয়ে কড়া বার্তা প্রধান বিচারপতির

Spread the love

নয়াদিল্লি: বিচারবিভাগীয় চত্বরের নিরাপত্তা এবং আদালতের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবার বিক্ষোভ ও মিছিল নিয়ন্ত্রণের সুনির্দিষ্ট নিয়মের দাবি উঠল দেশের শীর্ষ আদালতে। গত ১২ অক্টোবর বিরোধী…

নয়াদিল্লি: বিচারবিভাগীয় চত্বরের নিরাপত্তা এবং আদালতের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবার বিক্ষোভ ও মিছিল নিয়ন্ত্রণের সুনির্দিষ্ট নিয়মের দাবি উঠল দেশের শীর্ষ আদালতে। গত ১২ অক্টোবর বিরোধী নেতাদের সুপ্রিম কোর্টমুখী মার্চ ঘিরে উদ্ভূত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মন্তব্য করেছেন যে, কোনো শক্তিই আদালতকে ‘‘চাপের মুখে নজির বদলাতে বাধ্য বা ভীতিপ্রদর্শনের’’ (browbeat) চেষ্টা করতে পারে না।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বিশেষ বেঞ্চ এই ঘটনায় সমস্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে গত ১২ অক্টোবরের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং ডিজিটাল প্রমাণ সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, শীর্ষ আদালত ও দেশের সমস্ত হাইকোর্ট চত্বরের আশপাশে রাজনৈতিক বিক্ষোভের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি এবং তা নিয়ন্ত্রণের স্পষ্ট নির্দেশিকা চেয়ে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। এর পাশাপাশি, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের মতো প্রথম সারির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আদালত অবমাননার (Criminal Contempt) প্রসেডিং শুরুর আর্জিও জানানো হয়েছে।

মামলাকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী গৌরব ভাটিয়া সওয়াল করতে গিয়ে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের মতো পবিত্র প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক দলের এহেন মিছিল ও জমায়েত অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। প্রায় ২০০ জন আইনজীবী ইতিমধ্যেই একটি স্মারকলিপিতে সই করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে বিচারবিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অপচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।

এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত দৃঢ় সুরে বলেন, “কেউ আমাদের ভয় দেখাতে পারে না।” প্রাঙ্গণের বাইরের পরিস্থিতি নিয়ে আদালত সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা কোনো আইভরি টাওয়ারে বসে নেই। বাইরে কে কী বিবৃতি দিচ্ছেন আর আদালতের ভেতরে কী চলছে, সব খবরই আমাদের কাছে রয়েছে।”

হট্টগোলের নেপথ্যে: ১২ অক্টোবরের মার্চ ও এসআইআর বিতর্ক

নির্বাচন কমিশনের (ECI) ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (SIR)-এর কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। গত ১২ অক্টোবর রাহুল গান্ধী সহ ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা এই বিষয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দিতে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। তবে প্রধান বিচারপতি সাফ জানিয়ে দেন যে, বিষয়গুলি যেহেতু ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন, তাই প্রশাসনিক স্তরে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা সম্ভব নয়; তবে আইনি লড়াইয়ের পথ খোলা রয়েছে।

এর পরই বিরোধী নেতা ও তাঁদের সমর্থকরা সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি চত্বরের সামনে এসে ভিড় জমান। রেজিস্ট্রি বন্ধের সময় ঘনিয়ে আসার মুখে এই বিশাল জমায়েত ও হট্টগোলের জেরে আদালত চত্বরের স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়।

রাহুল গান্ধীর এসআইআর মামলার শুনানি

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধী সহ ইন্ডিয়া জোটের ১০ জন নেতার দায়ের করা পৃথক একটি মামলারও শুনানি হয়েছে এদিন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এই মামলায় নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য কমিশনারদের নোটিশ পাঠিয়েছে।

তবে নোটিশ জারির পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি তাৎপর্যপূর্ণভাবে মন্তব্য করেছেন যে, “আমরা এই মামলার এক আবেদনকারীর বিগত আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলব।” উল্লেখ্য, এই পিটিশনে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার বিচারিক পর্যালোচনা, বুথভিত্তিক বাদ পড়া ভোটারদের নামের তালিকা প্রকাশ, এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত কমিটির মাধ্যমে ভোটার ডিলিশনের স্বাধীন অডিটের দাবি জানানো হয়েছে।

ফোনে আসতেই ভেসে উঠবে নাম! দেশে বাধ্যতামূলক হচ্ছে সিএনএপি কলার আইডি

ধর্ম পরিবর্তন করলে সংরক্ষণের সুবিধা নয়, রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *