Renault-এর নতুন ই-স্পেস কনসেপ্টে ফিরছে এমপিভি, থাকছে ৬টি আসন - 24 Ghanta Bangla News
Home

Renault-এর নতুন ই-স্পেস কনসেপ্টে ফিরছে এমপিভি, থাকছে ৬টি আসন

Spread the love

কলকাতা, ১৩ অক্টোবর ২০২৬: এসইউভির জনপ্রিয়তার মাঝেই এবার ফ্যামিলি কারের পরিচিত এমপিভি ডিজাইন ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিল রেনল্ট। ২০২৬ সালের প্যারিস মোটর শো-তে সংস্থাটি প্রকাশ্যে এনেছে নতুন রেনল্ট ই-স্পেস কনসেপ্ট। সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক এই গাড়িটি ভবিষ্যতে রেনল্টের জনপ্রিয় স্পেস মডেলের এমপিভি পরিচয় ফিরিয়ে আনতে পারে। তিন সারিতে ছ’টি আসন, আধুনিক ডিজাইন, বড় কাচের অংশ এবং নতুন প্রযুক্তির কেবিন, সব মিলিয়ে গাড়িটি পারিবারিক ব্যবহারের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে।

রেনল্টের বক্তব্য, ই-স্পেস কনসেপ্ট এমন একটি গাড়ির ধারণা তুলে ধরে, যা এসইউভি ও সেডানের বিকল্প হতে পারে। সংস্থার ‘ভোয়াচ্যুর আ ভিভর’ দর্শন অনুসরণ করে এতে গাড়ির পারফরম্যান্সের পাশাপাশি যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য, দৈনন্দিন ব্যবহার এবং পরিবারের অভিজ্ঞতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রেনল্ট স্পেসের পুরনো পরিচয়ে ফিরছে নতুন গাড়ি

১৯৮৪ সালে প্রথম বাজারে এসেছিল রেনল্ট স্পেস। ইউরোপের প্রথম এমপিভি হিসেবে পরিচিত এই মডেলটি চতুর্থ প্রজন্ম পর্যন্ত এমপিভি বডি স্টাইল ধরে রেখেছিল। তবে ২০২৩ সালে স্পেসের পরিচয়ে বড় পরিবর্তন আনে রেনল্ট। সেই সময় গাড়িটিকে অস্ট্রাল এসইউভির দীর্ঘ সংস্করণের আদলে তৈরি করা হয়।

নতুন ই-স্পেস কনসেপ্টের মাধ্যমে সেই পুরনো এমপিভি পরিচয় ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও এটি এখনও একটি কনসেপ্ট গাড়ি, তাই এর উৎপাদন সংস্করণ কবে আসবে বা আদৌ বাজারে আসবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

আধুনিক ডিজাইনে পুরনো স্পেসের ছোঁয়া

ই-স্পেস কনসেপ্টের বাইরের নকশায় রয়েছে সরল অথচ আধুনিক স্টাইল। রেনল্টের ব্র্যান্ড ডিজাইন ডিরেক্টর আলেকজান্দ্রে মালভালের বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়ির নকশায় এমন উপাদান এড়ানো হয়েছে, যা অপ্রয়োজনীয়ভাবে চোখ টানতে পারে।

সামনের দিকে রয়েছে বন্ধ গ্রিলের উপর ইউ-আকৃতির এলইডি লাইটিং এলিমেন্ট। গ্রিলের মাঝখানে আলোকিত রেনল্ট লোগোটি এমনভাবে বসানো হয়েছে, যেন সেটি ভেসে রয়েছে। গাড়ির সামনের উইন্ডস্ক্রিনটি বেশ ঢালু এবং তা বনেটের দিকে এগিয়ে গিয়েছে। এই নকশায় ফ্রান্সের দ্রুতগতির টিজিভি ট্রেনের মতো আকৃতির ছাপ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাশ থেকে দেখলে নজরে পড়বে বিশাল ২৪ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল এবং বড় কাচের অংশ। কেবিনে প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থা। গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৪.৭০ মিটার, প্রস্থ ২.০২ মিটার এবং উচ্চতা ১.৬৭ মিটার। রেনল্টের দাবি, উচ্চতা ও দৈর্ঘ্যের তুলনায় প্রস্থের অনুপাত মূল স্পেস মডেলের কাছাকাছি রাখা হয়েছে। তবে সামনের ও পিছনের ওভারহ্যাং তুলনামূলক ছোট।

পিছনের অংশে রয়েছে স্পয়লার, যা তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের স্পেস মডেলের ছাদের রেলিংয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। সামনের মতো পিছনেও ইউ-আকৃতির আলো ব্যবহার করা হয়েছে। চকচকে কালো প্যানেলের উপর এই আলোর অবস্থান পিছনের কাচকে আরও বড় দেখায়।

কেবিনে বড় ডিসপ্লে ও নতুন স্টিয়ারিং প্রযুক্তি

ই-স্পেস কনসেপ্টের কেবিনে রয়েছে রেনল্টের নতুন প্রযুক্তির ছাপ। ড্যাশবোর্ডের প্রায় পুরো প্রস্থ জুড়ে রাখা হয়েছে ‘ওপেনআর প্যানোরামা’ ডিসপ্লে। রেনল্ট জানিয়েছে, পরবর্তী প্রজন্মের রাফাল ও সিনিক মডেলেও এই ডিসপ্লে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

তবে বড় ডিসপ্লেটি টাচস্ক্রিন নয়। গান শোনা, নেভিগেশন এবং অন্যান্য ফাংশন নিয়ন্ত্রণের জন্য ড্যাশবোর্ড থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে একটি ছোট ইনফোটেনমেন্ট টাচস্ক্রিন।

গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ইয়োক-স্টাইলের স্টিয়ারিং হুইল এবং স্টিয়ার-বাই-ওয়্যার প্রযুক্তি। এই ব্যবস্থায় প্রচলিত যান্ত্রিক স্টিয়ারিং কলামের প্রয়োজন হয় না। ফলে চালকের পায়ের কাছে আরও বেশি জায়গা তৈরি করা সম্ভব। স্টিয়ারিং হুইলে থাকা টাচ-সেনসিটিভ বোতামের সাহায্যে ওপেনআর ডিসপ্লের বিভিন্ন ফাংশন নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

তিন সারিতে ছ’টি আসন, পরিবারের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

রেনল্ট ই-স্পেস কনসেপ্টে তিনটি সারিতে মোট ছ’টি আসন রয়েছে। কেবিনের জায়গা ও যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে আসনগুলির বিন্যাসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সামনের সারির আসনের পিছনে ভাঁজ করা যায় এমন টেবিল রয়েছে। দ্বিতীয় সারির যাত্রীরা এগুলি ব্যবহার করতে পারবেন। আবার দ্বিতীয় সারির আসন ঘুরিয়ে তৃতীয় সারির যাত্রীদের মুখোমুখি বসার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। দ্বিতীয় সারির আসন সমতল করে ভাঁজ করলে তৃতীয় সারিতে বসা যাত্রীরা টেবিলের মতো একটি পৃষ্ঠ পাবেন।

কেবিনের রঙের ক্ষেত্রেও রয়েছে আলাদা ভাবনা। সত্তরের দশকে রেনল্টের কয়েকটি গাড়িতে দেখা যেত প্রাণবন্ত রঙের ব্যবহার। ই-স্পেস কনসেপ্টে সেই রঙিন নকশার দর্শন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে সংস্থা।

৭৫০ কিলোমিটার রেঞ্জের সম্ভাবনা, তবে ব্যাটারির তথ্য অজানা

ই-স্পেস কনসেপ্টের ব্যাটারি, মোটর, পাওয়ার আউটপুট এবং চার্জিং ক্ষমতা সম্পর্কে এখনও কোনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি রেনল্ট। তবে সংস্থাটি ভবিষ্যতের গাড়ির জন্য নতুন আরজিইভি মিডিয়াম ২.০ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে।

এই প্ল্যাটফর্মে ৮০০-ভোল্টের বৈদ্যুতিক আর্কিটেকচার থাকবে। সেডান, এসইউভি এবং এমপিভি-সহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি তৈরির উপযোগী করে এটি ডিজাইন করা হচ্ছে। ই-স্পেস কনসেপ্ট যদি উৎপাদনের পর্যায়ে পৌঁছয়, তা হলে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হতে পারে।

এই প্ল্যাটফর্মে তৈরি ভবিষ্যতের গাড়ির জন্য সর্বোচ্চ ৭৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত ডব্লিউএলটিপি রেঞ্জের কথা জানানো হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যান ই-স্পেস কনসেপ্টের নিশ্চিত রেঞ্জ নয়। গাড়িটির চূড়ান্ত প্রযুক্তিগত বিবরণ প্রকাশিত হলে প্রকৃত রেঞ্জ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

উৎপাদনে এলে কী বদলাতে পারে?

ই-স্পেস কনসেপ্টের মাধ্যমে রেনল্ট শুধু একটি পুরনো মডেলের পরিচয় ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাই দেখাচ্ছে না, বরং বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে পারিবারিক এমপিভির জায়গা কতটা হতে পারে, সেটিও খতিয়ে দেখছে। এর আগে টুইঙ্গো, রেনল্ট ৪ এবং রেনল্ট ৫-এর মতো পরিচিত নামকে বৈদ্যুতিক গাড়ির দুনিয়ায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থা।

তবে ই-স্পেসের উৎপাদন সংস্করণে কনসেপ্টের নকশা ও প্রযুক্তির কতটা বজায় থাকবে, তা এখনও অজানা। গাড়িটি বাস্তবে বাজারে এলে বড় পরিবার, আরামদায়ক কেবিন এবং বৈদ্যুতিক পাওয়ারট্রেন, এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নতুন বিকল্প তৈরি হতে পারে। আপাতত রেনল্টের এই কনসেপ্ট গাড়ির পরবর্তী ঘোষণা ঘিরেই নজর থাকবে গাড়িপ্রেমীদের।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *