কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে গ্রেডিং চালু, ফিরছে হাজিরার নম্বর
কলকাতা, ১৩ অক্টোবর: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Calcutta University) স্নাতক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য চালু হতে চলেছে নতুন গ্রেডিং ব্যবস্থা। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি…
কলকাতা, ১৩ অক্টোবর: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Calcutta University) স্নাতক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য চালু হতে চলেছে নতুন গ্রেডিং ব্যবস্থা। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে প্রথম সেমেস্টার থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হবে। একই সঙ্গে ক্লাসে উপস্থিতির জন্য নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থাও ফিরিয়ে আনছে বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তে পড়ুয়াদের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে চলেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পর নতুন নিয়ম সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রতিটি সেমেস্টারে গ্রেড পয়েন্টের ভিত্তিতে পড়ুয়াদের ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। মূলত এই শিক্ষাবর্ষে স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের জন্যই নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে।
জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই নতুন ব্যবস্থা
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ জানিয়েছেন, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-তে গ্রেডিং ব্যবস্থার উল্লেখ রয়েছে। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়ন পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপাচার্যের বক্তব্য, চলতি শিক্ষাবর্ষে স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখেই গ্রেডিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে পড়ুয়ারা শুধু প্রাপ্ত নম্বর নয়, নির্দিষ্ট গ্রেড এবং গ্রেড পয়েন্টের মাধ্যমেও নিজেদের পড়াশোনার অগ্রগতি বুঝতে পারবেন।
কত নম্বরে কোন গ্রেড পাবেন পড়ুয়ারা?
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নতুন গ্রেডিং ব্যবস্থার বিস্তারিত কাঠামো প্রকাশ করেছে। প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী গ্রেড ও গ্রেড পয়েন্ট নির্ধারিত হবে।
- ৯০ থেকে ১০০ নম্বর: ‘আউটস্ট্যান্ডিং’ বা ‘O’ গ্রেড, ১০ গ্রেড পয়েন্ট।
- ৮০ থেকে ৮৯ নম্বর: ‘এক্সেলেন্ট’ বা ‘A+’ গ্রেড, ৯ গ্রেড পয়েন্ট।
- ৭০ থেকে ৭৯ নম্বর: ‘ভেরি গুড’ বা ‘A’ গ্রেড, ৮ গ্রেড পয়েন্ট।
- ৬০ থেকে ৬৯ নম্বর: ‘গুড’ বা ‘B+’ গ্রেড, ৭ গ্রেড পয়েন্ট।
- ৫০ থেকে ৫৯ নম্বর: ‘অ্যাভারেজের উপরে’ বা ‘B’ গ্রেড, ৬ গ্রেড পয়েন্ট।
- ৪০ থেকে ৪৯ নম্বর: ‘অ্যাভারেজ’ বা ‘C’ গ্রেড, ৫ গ্রেড পয়েন্ট।
- ৩০ থেকে ৩৯ নম্বর: ‘পাস’ বা ‘P’ গ্রেড, ৪ গ্রেড পয়েন্ট।
- ৩০-এর কম নম্বর: ‘ফেল’ বা ‘F’ গ্রেড, ০ গ্রেড পয়েন্ট।
এই কাঠামো অনুযায়ী, ৯০ বা তার বেশি নম্বর পেলে পড়ুয়ারা সর্বোচ্চ ১০ গ্রেড পয়েন্ট পাবেন। অন্যদিকে, ৩০-এর কম নম্বর পেলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফেল হিসেবে গণ্য করা হবে।
হাজিরার নম্বর ফিরলে ক্লাসে উপস্থিতি বাড়বে?
গ্রেডিং ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি ক্লাসে উপস্থিতির জন্য নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কলেজের অধ্যক্ষরা। তাঁদের মতে, পড়ুয়াদের নিয়মিত ক্লাসে আসার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে।
মহেশতলা কলেজের অধ্যক্ষ রুম্পা দাসের মতে, নতুন গ্রেডিং ব্যবস্থা পড়ুয়া ও অভিভাবকদের কাছে ফলাফলের একটি স্পষ্ট মানদণ্ড তুলে ধরবে। এর ফলে পড়ুয়ারা নিজেদের অবস্থান বুঝতে পারবেন এবং কোন ক্ষেত্রে আরও উন্নতি করা প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করতে পারবেন। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়ন ব্যবস্থার সঙ্গেও সামঞ্জস্য তৈরি হবে।
নেতাজি নগর ডে কলেজের অধ্যক্ষ সোনালি বন্দ্যোপাধ্যায় যশও মনে করেন, স্বচ্ছ গ্রেডিং ব্যবস্থা পড়ুয়াদের ফলাফল বুঝতে সাহায্য করবে। তাঁর মতে, ক্লাসে উপস্থিতির জন্য নম্বর ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তও সময়োপযোগী। গত কয়েক বছর ধরে কলেজে পড়ুয়াদের উপস্থিতি একটি বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। হাজিরার জন্য নম্বর চালু হলে সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
সিজিপিএ-র মাধ্যমে ফলাফল মূল্যায়ন
নতুন ব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান গ্রেড পয়েন্টের পাশাপাশি সিজিপিএ বা ‘কিউমুলেটিভ গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ’-এর গুরুত্বও রয়েছে। এর মাধ্যমে পড়ুয়াদের সামগ্রিক শিক্ষাগত পারফরম্যান্স আরও স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন করে ভর্তি হওয়া স্নাতক পড়ুয়াদের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বদল আসছে। গ্রেডিং ব্যবস্থার পাশাপাশি হাজিরার নম্বর ফের চালু হওয়ায় পড়াশোনার অগ্রগতি এবং নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়তে পারে।