জিনজিয়াংয়ে চিন ও পাকিস্তানের প্রথম যৌথ সামরিক মহড়া, ভারতের জন্য এর তাৎপর্য কী?
First Joint Army Training: অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে উত্তর-পশ্চিম চিনের জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের কোরলা শহরে পাকিস্তান ও চিনের সেনাবাহিনী ‘কারাকোরাম ২০২৬’ যৌথ সামরিক…
First Joint Army Training: অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে উত্তর-পশ্চিম চিনের জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের কোরলা শহরে পাকিস্তান ও চিনের সেনাবাহিনী ‘কারাকোরাম ২০২৬’ যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করবে। রবিবার চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই ঘোষণা দিয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র কর্নেল চেন শি জানান যে, এটি হবে দুই দেশের মধ্যে প্রথম যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ মহড়া, যা সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা (ইন্টারঅপারেবিলিটি) জোরদারে উভয় পক্ষকে সহায়তা করবে।
একজন সামরিক বিশেষজ্ঞের উদ্ধৃতি দিয়ে ‘গ্লোবাল টাইমস’ জানিয়েছে যে, এই মহড়াটি চিন ও পাকিস্তানের সামরিক সহযোগিতার পরিধিকে কেবল নৌ ও বিমান বাহিনীর যৌথ অনুশীলনের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত করবে, তাদের বাড়তে থাকা পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন ঘটাবে এবং অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী সহযোগিতাকে জোরদার করবে। এর আগে দেশ দুটি ‘সি গার্ডিয়ানস’ (Sea Guardians) যৌথ নৌ-মহড়া এবং ‘শাহিন’ (Shaheen) যৌথ বিমান-মহড়া পরিচালনা করেছিল।
চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। সামরিক বিশেষজ্ঞ ঝাং জুয়েশে রবিবার গ্লোবাল টাইমস-কে বলেছেন যে, এই যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব নিহিত রয়েছে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং চিন ও পাকিস্তানের মধ্যকার ‘সর্ব-আবহাওয়া কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব’ আরও গভীর করার মধ্যে। ঝাং বলেন, “এই মহড়াটি চিন-পাকিস্তান সামরিক সহযোগিতার সম্প্রসারণকে প্রতিফলিত করে, যা বিশেষ ইউনিট থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নিয়মিত সামরিক বাহিনী পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি দ্বিপাক্ষিক আদান-প্রদানকে আরও গভীর করবে এবং পারস্পরিক সামরিক আস্থা বৃদ্ধি করবে।”
ঝাং আরও উল্লেখ করেন যে, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ উভয় দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং আঞ্চলিক শান্তিতে অবদান রাখবে। তিনি এ-ও বলেন যে, চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী সহযোগিতা জোরদার করা তাদের উভয়ের স্বার্থের অনুকূল। তিনি যোগ করেন যে, চিন সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এবং এই যৌথ মহড়া সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।
ভারতের জন্য এর তাৎপর্য
চিন ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই সামরিক মহড়াকে ভারতের জন্য কৌশলগত উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের সীমান্তবর্তী একটি অঞ্চলে এই মহড়াটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই যৌথ মহড়া চিন ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে একে অপরের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসবে। পাশাপাশি, এটি তাদের মধ্যে কার্যগত সমন্বয় বৃদ্ধি করবে, যা ‘টু-ফ্রন্ট ওয়ার’ বা একই সাথে দুই রণাঙ্গনে যুদ্ধের পরিস্থিতির বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।