লাহাবাড়ির পুজোয় চক্ষুদান করেছিলেন স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণ
সেই স্মৃতিই আজও এই পুজোর অন্যতম আবেগের জায়গা হয়ে রয়েছে। কামারপুকুরের জমিদার ধর্মদাস লাহার প্রতিষ্ঠিত এই পুজোর সঙ্গে তাই শ্রীরামকৃষ্ণদেবের স্মৃতি যেন অঙ্গাঙ্গী জড়িয়ে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়েই তৎকালীন জমিদার ধর্মদাস লাহা এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। সেই শুরু থেকে আজও একই নিষ্ঠা ও পরম্পরা মেনে হয়ে আসছে পুজো। শুধু পুজো নয়, লাহাবাড়ির এই দুর্গোৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার লোকসংস্কৃতিরও এক পুরোনো অধ্যায়। রামকৃষ্ণদেব যাত্রাপালা শুনতে ভালোবাসতেন। তাঁর সেই পছন্দের কথা মাথায় রেখেই, জমিদার লাহাবাবু দুর্গাপুজোয় যাত্রাপালার আয়োজন করতেন। সেই ঐতিহ্য আজও হারিয়ে যায়নি। মহালয়া থেকে পুজো পর্যন্ত টানা আট দিন লাহাবাড়িতে বসে যাত্রার আসর, যা দেখতে ভিড় উপচে পড়ে। কিন্তু আজ সময় বদলেছে। সেই জমিদারি নেই, বদলেছে চারপাশের অনেক কিছুই। কিন্তু লাহাবাড়ির দুর্গাপুজোয় এখনও থেকে গিয়েছে সেই পুরোনো দিনের আবহ। মায়ের আরাধনার পাশাপাশি ফিরে আসে ইতিহাসের পাতায় থাকা কিছু গল্প, কিছু স্মৃতি আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা বিশ্বাস। এই পুজো তাই শুধু লাহা পরিবারের সদস্যদের কাছে নয়, কামারপুকুরে আসা পর্যটকদের কাছেও এক বিশেষ আকর্ষণ। ঠাকুর রামকৃষ্ণের স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়িতে পুজোর কয়েকটি দিন যেন অতীত আর বর্তমানের মধ্যে তৈরি হয় এক অদৃশ্য সেতু। মায়ের মুখের দিকে তাকালে তাই শুধু প্রতিমা দেখা হয় না, মনে পড়ে যায় সেই গল্প-এক মৃৎশিল্পী, এক অসম্পূর্ণ প্রতিমা আর এক শিশু গদাধরের তুলির টানে মায়ের চোখে প্রাণ সঞ্চারের সেই স্মৃতি।