রিলায়েন্সের হাত ধরে হরিপুরে খুলছে ১৫ বছর আগে বাতিল হওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় হরিপুরে আবারও পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের (Nuclear Project)আলোচনা শুরু হয়েছে। পনেরো বছর আগে স্থানীয় জেলে ও গ্রামবাসীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে বাতিল হওয়া সেই…
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় হরিপুরে আবারও পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের (Nuclear Project)আলোচনা শুরু হয়েছে। পনেরো বছর আগে স্থানীয় জেলে ও গ্রামবাসীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে বাতিল হওয়া সেই প্রকল্প এবার রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের প্রস্তাবে ফিরে এসেছে। কন্টাইয়ের কাছে অবস্থিত এই উপকূলীয় এলাকায় একসময় নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া বা এনপিসিআইএল রাশিয়ান প্রযুক্তি সহযোগিতায় এক হাজার মেগাওয়াটের ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিল।
কিন্তু ২০১১ সালের আগস্টে তৎকালীন সরকার সেটি বাতিল করে দেয়।রিলায়েন্স সম্প্রতি রাজ্য সরকারের সঙ্গে বৈঠকে হরিপুরকেই তাদের পছন্দের স্থান হিসেবে তুলে ধরেছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এনপিসিআইএল অনুমোদিত প্রায় দুই হাজার একর জমি এখনো উপলব্ধ রয়েছে। সেই জমিতে আগেই ভূকম্পন, ভূতাত্ত্বিক, জলবিজ্ঞান, সমুদ্রবিজ্ঞান এবং পরিবেশগত সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছিল।
আরও দেখুনঃ ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী, কুর্নিশ জানালেন সাহসিকতাকে
রিলায়েন্সের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রকল্পে (Nuclear Project)ছয় থেকে সাত বছরে প্রায় দুই লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসতে পারে।তবে রাজ্য সরকার হালদিয়ার কাছে নায়াচারকে বিকল্প স্থান হিসেবে প্রস্তাব করেছে। রিলায়েন্স হরিপুরেই আগ্রহী। স্থানীয় মানুষের মধ্যে পুরনো স্মৃতি এখনো সজীব। একসময় জীবিকা হারানোর ভয়ে জেলেরা রাস্তায় নেমেছিলেন। এবার নতুন প্রস্তাব এলে তাদের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা দেখার বিষয়।
রিলায়েন্স শুধু পারমাণবিক প্রকল্পই নয়, আরও কয়েকটি বড় প্রস্তাব দিয়েছে। নিউ টাউনে এআই-সক্ষম ডেটা সেন্টার, কলকাতা, পাহাড়ি অঞ্চল ও সুন্দরবনে হোটেল এবং কয়লা গ্যাসীকরণ প্রকল্পও তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। এই সব মিলিয়ে রাজ্যে বড় ধরনের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।পারমাণবিক বিদ্যুৎ পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদি শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত।
দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে এ ধরনের প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ। (Nuclear Project)তবে নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনজীবনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা অপরিহার্য। পুরনো সমীক্ষাগুলো কাজে লাগানো গেলে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচবে।হরিপুরের এই প্রস্তাব রাজ্যের শিল্প নীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিনিয়োগ এলে কর্মসংস্থান বাড়বে, পরিকাঠামো উন্নত হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে এগোলেই প্রকল্প সফল হতে পারে।