তিন ধারার মানুষ, দরকারি, ‘প্যাটে বাঁচা’, আজগুবি
মগার মায়ের নাম আবি খাতুন। আবি মানে গঙ্গা। মুসলমানদের গঙ্গা নাম রাখতে নেই, তাই আবি। আবি বই পড়ত। তার ছিল আগুনের মতো রূপ। মুখটা ছিল কলমিলতার মতো। গালে টোল পড়ত। শরীর গড়া হয়েছিল তুলসীগন্ধ মাটি দিয়ে, সহজেই যা এক আঁজলা জলে নিকিয়ে তকতকে করে নেওয়া যায়!
এই উপন্যাসে তিন রকম মানুষের কথা আছে। অর্থ, ক্ষমতা ও সম্পদে ভরা আল্লার দরকারি মানুষ, আল্লার ভুলে যাওয়া মানুষ অর্থাৎ যারা উৎপীড়িত ও ‘প্যাটে বাঁচা মানুষ’ আর সর্বোপরি মানুষের ভিতরে থাকা অন্য ও ভিন্ন এক মানুষ, মূলত যারা পাগল ও ফকির। এ রকমই একজন, চাঁদ মালী বিভোর হয়ে একা একা কী যেন খুঁজে বেড়ায়। সোবহান ফকির হাঁটতে হাঁটতে পথ ভুলে যায়। এরাই সব, ‘আজগুবি মানুষ।’ এই আজগুবি মানুষেরা আগানে–বাগানে, চড়ায়, ভাগাড়ে ঘুরে বেড়ায়। উৎপীড়িত মানুষেরা মার খেতে থাকে, রক্তাক্ত হয়, খুন হয়ে যায়। সন্ত্রাস ও হিংসা ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে যায় এদের যাপনের সঙ্গে।