Rahul Gandhi: রাহুলের 'মিথ্যে' দাবির পর্দা ফাঁস, কী সত্য সামনে এল? | Rahul gandhis false claims exposed what truth came to light - 24 Ghanta Bangla News
Home

Rahul Gandhi: রাহুলের ‘মিথ্যে’ দাবির পর্দা ফাঁস, কী সত্য সামনে এল? | Rahul gandhis false claims exposed what truth came to light

Spread the love

ইন্দোর: ‘ছাত্র কি গুঞ্জ’। মধ্য প্রদেশের ইন্দোরে পড়ুয়াদের মাঝে দেখা গেল লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে। সেখানে কেন্দ্র ও বিজেপিকে নিশানা করে একাধিক দাবি করেন তিনি। কিন্তু, তাঁর একাধিক দাবি যে মিথ্যে, যুক্তি দিয়ে তা তুলে ধরল ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ নামে একটি এক্স হ্যান্ডল। সেখানে ফ্যাক্ট চেক করে রাহুলের ‘মিথ্যে’ দাবির পর্দা ফাঁস করা হল। 

ইন্দোরের অনুষ্ঠানে রাহুল কী কী মিথ্যে বলেছেন, তা ওই এক্স হ্যান্ডলে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাহুল প্রথম যে মিথ্যা দাবি করেছেন, “গত আট বছরে মধ্য প্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (MPPSC) আয়োজিত সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১৩ শতাংশ পদ আটকে রাখা হয়েছে। এর কারণে ৪.৮৭ লক্ষ পদে নিয়োগ আটকে রয়েছে।”

রাহুলের এই দাবি মিথ্যে। ফ্যাক্ট চেক করে ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ নামে ওই এক্স হ্যান্ডলে বাস্তব ছবি তুলে ধরা হয়েছে। তা হল, ৮৭:১৩ ফর্মুলা আট বছর ধরে কার্যকর ছিল না। এ বিষয়ে মধ্য প্রদেশের সাধারণ প্রশাসন দফতরের (GAD) সংশ্লিষ্ট সার্কুলার জারি হয়েছিল ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ মাত্র চার বছর আগে। ফলে তার আগের আট বছরে হওয়া “সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ায়” এই নিয়ম প্রভাব ফেলতে পারে না।

২০১৯ সালে কমল নাথের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার ওবিসি সংরক্ষণ ১৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করার পর এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সংরক্ষণের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে মামলা শুরু হয়। পরবর্তী আইনি জটিলতাগুলি পুরোপুরি বিবেচনায় না নিয়েই কংগ্রেস সরকার ওই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল।

এই ফর্মুলার কারণে নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। বিজ্ঞাপিত শূন্যপদের ৮৭ শতাংশে নিয়োগ প্রক্রিয়া জারি ছিল। বাকি ১৩ শতাংশ পদও সরাসরি “বাতিল” করা হয়নি। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ভিত্তিতে যাতে নিয়োগ করা যায়, সেজন্য ওবিসি ও অসংরক্ষিত প্রার্থীদের পৃথক অস্থায়ী তালিকা তৈরি করা হয়েছিল।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মধ্য প্রদেশ হাইকোর্ট ৮৭:১৩ ব্যবস্থাকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়া হিসেবে বহাল রাখে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই ধরনের প্রার্থীর দাবিই সুরক্ষিত রেখে নিয়োগ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হয়েছে, মধ্য প্রদেশ সরকারের একাধিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০,০০০টি পদ এই ফর্মুলার কারণে প্রভাবিত হয়েছিল। এটি MPPSC-এর ৪.৮৭ লক্ষ পদ আটকে থাকার দাবির সমান নয়।

এই এক্স হ্যান্ডলে রাহুলের আরও একটি দাবির পর্দা ফাঁস করেছে। ইন্দোরের সভায় রাহুল দাবি করেন, “২০১৯ সালের মার্চে কংগ্রেস সরকার ওবিসি সংরক্ষণ ১৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করেছিল। কিন্তু বিজেপি আদালতের কথা বলে সেটি আটকে দেয়।”

রাহুলের এই দাবি মিথ্যা জানিয়ে ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ এক্স হ্যান্ডলে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত আটকে দিয়েছিল বিজেপি সরকার নয়, মধ্য প্রদেশ হাইকোর্ট। আর আদালতের সেই নির্দেশ এসেছিল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীনই।

২০১৯ সালের ৮ মার্চ কংগ্রেসের কমল নাথ সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করে ওবিসি সংরক্ষণ ১৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করে। এর ফলে এসসি-এসটি-ওবিসি মিলিয়ে মোট সংরক্ষণ দাঁড়ায় ৬৩ শতাংশে। এর মাত্র ৯ দিন পরে ১৯ মার্চ মামলা চলাকালীন কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে ওবিসি সংরক্ষণ ১৪ শতাংশের বেশি না দেওয়ার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

নীতিটি স্থগিত করে রেখে দেওয়া হয়নি। বরং পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিজেপি সরকার আদালতে নির্দিষ্টভাবে চ্যালেঞ্জ না থাকা নিয়োগগুলিতে ২৭ শতাংশ ওবিসি সংরক্ষণ কার্যকর করার নির্দেশ জারি করে। আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতাগুলি পুরোপুরি সমাধান না করেই একটি নীতি ঘোষণা করার ফলে পরবর্তী মামলায় পড়ে ছাত্রছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থীরা সমস্যায় পড়েন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *