শিক্ষার ভার বয়েও যাদের কোনও দিবস থাকে না
সন্দীপন নন্দী
শিক্ষক দিবস আসে এবং চলে যায়। কিন্তু শিক্ষার সঙ্গে থেকেও যাদের জন্য কোনও নির্দিষ্ট দিবস নেই, বরং দিবসরজনী আশায় আশায় থেকেও স্বীকৃতিহীন এই চাকরিজীবীদের জীবন আখ্যান আলোচনার টেবিলে ওঠার আগেই চুপসে যায় প্রতি বার। স্কুলে অনুষ্ঠানে উৎসবে অতিথি আপ্যায়নে জল সন্দেশ আর চিকেন ললিপপ বহন করে করেই যাদের দীর্ঘ কর্মজীবন ফুরিয়ে যায়। সে শ্রমের কোনও কৃতিত্ব নেই, তালিকাও নেই। স্কুলে অন্তহীন এক কর্মবিশ্বের শ্রমিক এই অশিক্ষক কর্মচারীরা।
মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষার খাতাখানি পরম আদরে গেঁথে দিয়েছিলেন অখিলদা। চোখের চশমায় পাওয়ার থাকলেও কর্মজীবনে একদম পাওয়ারলেস এক ধুতিপাঞ্জাবি মানুষ। প্রত্যেক স্কুলেই এ রকম অখিলদা নামে একজন থাকেন। যাঁদের হাতে ঝনঝনে ঘোষণা হয় সামার ভ্যাকেশনের। কখনও সেই বেজে ওঠা অনাবিল বেল বলে দেয়, ‘এসেছে শরৎ হিমের পরশ লেগেছে হাওয়ার পরে’। অতএব পুজোর ছুটি জাগ্রত দ্বারে।
কোনও দিন জানতে ইচ্ছে করেনি অখিলদারা স্কুলের কোন পদে কাজ করেন, কোথায় বাড়ি, কত বেতন ইত্যাদি ইত্যাদি। শুধু স্পষ্ট স্মরণে আছে, অখিলদার বসার কোনও চেয়ার ছিল না। কী আশ্চর্য হয়েছি কতবার! শিক্ষকদের বসার ঘর আছে, অফিসঘরে আছে টেবিল-চেয়ার, ভাদ্রের তীব্র দুপুরে মাথার উপর পাখা আছে সকলের। কিন্তু এই অখিলদাদের কিচ্ছু নেই। পদ নেই, চেয়ার নেই, গরমে নিষ্কৃতির নগণ্য বৈদ্যুতিক পাখা নেই।