বৃষ্টি থামলেও কমেনি দুর্ভোগ, একমাস ধরেই জলবন্দি শেল্যা
এই সময়, খড়্গপুর: এখনও জমে জল। সেই জল পেরিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকার মানুষকে। মাস খানেক আগে টানা বৃষ্টির ফলে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন ব্লকে জল জমে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সবং ব্লকও তার ব্যতিক্রম ছিল না। সবংয়ের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এসেছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সব জায়গা থেকে জল নেমে গেলেও এখনও জলবন্দি সবংয়ের ৭নম্বর নারাণবাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের শেল্যা গ্রাম। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছরই এই দুর্ভোগে পড়তে হয়। নিয়ম করে ভোট আসে, প্রতিশ্রুতিও মেলে, কিন্তু বাম আমল, তৃণমূল আমল- কেউ জল যন্ত্রণা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করেনি বলে অভিযোগ। এ বার রাজ্যে নতুন সরকার হওয়ায় স্থানীয় বিধায়কের কাছে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকার মানুষ। বিধায়ক অবশ্য সমস্যার কথা স্বীকার করে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
শেল্যা গ্রামের একপাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে কেলেঘাই নদী। তার পাশে নীচু জায়গায় বসবাস করেন প্রায় একশো পরিবার। একবার বৃষ্টি হলেই বিপদ। তারপর জল নামতে দীর্ঘ সময় লাগে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, টানা বৃষ্টিতে নদীর জলও বাড়ে। বৃষ্টি থামলে নদীর জল কমে ঠিকই। কিন্তু গ্রামের রাস্তা ও জমিতে জমে থাকা জল কমে না।
ফলে জলের উপর দিয়ে যেতে হয় স্কুল, কলেজ, বাজার এবং হাসপাতালে। জলের উপরেই চলে কৃষিকাজ। টানা তিন থেকে চার মাস ধরে চলে এই দুর্ভোগ। তার মাঝে ফের বৃষ্টি হলে জলবন্দি থাকার সময় বাড়তে থাকে। গ্রামের বাসিন্দা মানিক দাস অধিকারী বলেন, ‘যাতায়াতের জন্য পাশের গ্রামে সাইকেল, মোটরবাইক রেখে আসতে হয়। জল পেরিয়ে সেখানে পৌঁছে তারপর সাইকেল কিংবা মোটরবাইক নিয়ে কাজে যেতে হয়। এই জলের জন্য গ্রামের বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েদের স্কুলে যেতে কষ্ট হয়। হঠাৎ বেসামাল হয়ে পড়ে গেলে পোশাক থেকে বইয়ের ব্যাগ, সবই ভিজে যায়। সেদিন স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।’ প্রণতি দাস অধিকারী বলেন, ‘এ যন্ত্রণা বলে বোঝানো যাবে না। ঘর থেকে বেরোলেই জল আর জল। এ ভাবে মাসের পর মাস চলা যায়? ভোটের সময় নেতা-নেত্রীরা প্রচারে আসেন, নিকাশি নালা তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। এ বার নতুন সরকার আমাদের জন্য কিছু করে কিনা সেটাই দেখার।’ একই বক্তব্য জয়দেব দাস অধিকারীর।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে, বর্তমানে সব এলাকায় জমির দাম বেড়েছে। কিন্তু বাড়েনি জমি। আগে যে সমস্ত রায়তি জমির উপর দিয়ে জল বেরিয়ে যেত, এখন সেই সুযোগ নেই। কেউ বাড়ি বানিয়ছেন, কেউ চাষ করছেন। ফলে নিকাশি নালা বন্ধ হয়েছে। সবংয়ের বিজেপি বিধায়ক অমল পণ্ডা বলেন, ‘আমরা সদ্য ক্ষমতায় এসেছি। সমস্যা সমাধানে কী করা যায় তা দেখব।’