Lalbaugcha Raja History Ganesh: জানেন কীভাবে শুরু হয় মুম্বইয়ের 'লালবাগচা রাজা' গণেশ পুজো? | lalbaugcha raja history mumbai ganesh chaturthi origin - 24 Ghanta Bangla News
Home

Lalbaugcha Raja History Ganesh: জানেন কীভাবে শুরু হয় মুম্বইয়ের ‘লালবাগচা রাজা’ গণেশ পুজো? | lalbaugcha raja history mumbai ganesh chaturthi origin

Spread the love

প্রতি বছর গণেশ চতুর্থীর দিনগুলিতে মুম্বইয়ের রাস্তায় চোখে পড়ে একই দৃশ্য। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কখনও সখনো একটানা ২০ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন লাখ লাখ মানুষ। লক্ষ্য একটাই—লালবাগচা রাজার এক ঝলক দর্শন পাওয়া কিংবা তাঁর চরণে মাথা ঠেকানো। কিন্তু গিরণগাঁও এলাকার শ্রমজীবী পরিবারের তৈরি এই গণপতি কীভাবে গোটা ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত দেবতায় পরিণত হলেন?

লালবাগচা রাজার ইতিহাস শুরু হয় ব্রিটিশ রাজত্বের শেষভাগে, ১৯৩৪ সালে। লালবাগের পেরু চলের স্থানীয় বাজারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন এলাকার মৎস্যজীবী ও ছোট ব্যবসায়ীরা। জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় তাঁরা গণপতি বাপ্পার কাছে এক সম্মিলিত ‘মানত’ করেন—যদি তাঁরা ব্যবসা চালানোর জন্য স্থায়ী কোনও জায়গা পান, তবে প্রতি বছর সেখানে গণেশ পুজোর আয়োজন করবেন। শেষমেশ, ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা। প্রায় রাতারাতিই স্থানীয় নেতা ও জমিদারদের যৌথ প্রচেষ্টায় বর্তমান লালবাগ বাজারটি তৈরি হয়। নিজের কথা রেখে, ১৯৩৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মৎস্যজীবীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সাজিয়ে লালবাগচা রাজার প্রথম মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন।

বছরের পর বছর ধরে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস জন্মায় যে এই গণপতি হলেন ‘নবসাচা গণপতি’—অর্থাৎ যিনি ভক্তদের প্রতিটি প্রার্থনা ও মনস্কামনা পূরণ করেন। অন্যান্য পুজো মণ্ডপ যেখানে শৈল্পিক চাকচিক্যকে প্রাধান্য দেয়, সেখানে লালবাগচা রাজার আকর্ষণ পুরোপুরি দাঁড়িয়ে রয়েছে মানুষের গভীর বিশ্বাসের ওপর।

চিঞ্চপোকলির নামজাদা কাম্বলি পরিবার বহু দশক ধরে লালবাগচা রাজার মূর্তি তৈরি করে আসছে। রাজকীয় আসন, অনন্য শারীরিক ভঙ্গিমা এবং একটি নিজস্ব পেটেন্ট-সম রূপ প্রতিমাটিকে মুম্বইয়ের আর পাঁচটা পুজোর থেকে আলাদা পরিচয় দেয়। নয়ের দশকের শেষের দিকে বলিউডের তারকা, রাজনীতিবিদ ও শিল্পপতিদের ঘন ঘন আগমন এই আঞ্চলিক পুজোকে বিশ্বমঞ্চে এনে দাঁড় করায়। আজ লালবাগচা রাজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু নন; এটি মুম্বইয়ের মানুষের একতা, অদম্য জেদ এবং আস্থার প্রতীক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *