ঘুমন্ত যাত্রীদের টার্গেট, ট্রেনে চুরির অভিযোগে প্রাক্তন প্যান্ট্রি কর্মী গ্রেপ্তার, উদ্ধার ১১ লক্ষ টাকার সামগ্রী
ট্রেনে যাত্রীদের ঘুমের সুযোগ নিয়ে একের পর এক চুরির অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত CCTV ফুটেজের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার হলেন এক প্রাক্তন প্যান্ট্রি কার কর্মী। ওডিশার গঞ্জাম জেলার বাসিন্দা ৪৫ বছরের কানহু সাহুকে গ্রেপ্তার করেছে Government Railway Police (GRP)। তাঁর কাছ থেকে নগদ ৪ লক্ষ টাকা, সোনার গয়না, তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মোট মূল্য প্রায় ১১ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২৮ অগস্ট ভুবনেশ্বর-বেঙ্গালুরু প্রশান্তি এক্সপ্রেসের A1 কোচে এক মহিলা যাত্রীর ব্যাগ চুরি যায়। ওই মহিলা অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের বাসিন্দা। তিনি ঘুমিয়ে থাকার সময় তাঁর ব্যাগ নিয়ে চম্পট দেয় অভিযুক্ত। ব্যাগে ছিল বেশ কিছু সোনার গয়না ও একটি মোবাইল ফোন-সহ একাধিক মূল্যবান সামগ্রী।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। এরপর কানহু সাহুর ছবি CCTV-তে দেখা ব্যক্তির সঙ্গে মিলে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে বারহামপুরে রাতের সময় জুনাগড় এক্সপ্রেস থেকে নামার পর সন্দেহ হয়। সেই সময় GRP এবং RPF-এর যৌথ টহল চলছিল। পুলিশকে দেখে পালানোর চেষ্টা করায় তাঁকে আটক করা হয়। এরপর CCTV ফুটেজের সঙ্গে তাঁর ছবি মিলিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।
জেরায় সামনে আসে আরও তথ্য। কয়েক বছর আগে প্রশান্তি এক্সপ্রেসেই প্যান্ট্রি কার কর্মী হিসেবে কাজ করতেন কানহু। পুলিশের দাবি, অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলার বিষয়টি সামনে আসার পর তাঁকে সেই চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, ট্রেনের ভিতরের পরিবেশ এবং যাত্রীদের চলাফেরা সম্পর্কে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল।
পুলিশের আরও দাবি, গত মাসে খুরদা রোডে একটি চুরির মামলায় কানহুকে GRP গ্রেফতার করেছিল। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই তিনি ফের ট্রেনে চুরির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। প্রশান্তি এক্সপ্রেসের ওই মহিলা যাত্রীকে টার্গেট করার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, চুরি করা সোনার কিছু গয়না বিক্রি করে ৪ লক্ষ টাকা নগদ পেয়েছিলেন কানহু। তাঁর ভাই ওই গয়না বিক্রি করতে সাহায্য করেছিলেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে। মহিলার চুরি যাওয়া প্রায় সমস্ত সোনার গয়না উদ্ধার করা গেলেও মোবাইল ফোনটির এখনও হদিশ মেলেনি।
GRP এখন খতিয়ে দেখছে, প্রশান্তি এক্সপ্রেসের ওই ঘটনা ছাড়াও কানহু আরও কোনও ট্রেন-চুরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ সামগ্রী এবং তাঁর আগের অপরাধের ইতিহাসের ভিত্তিতে তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।