বিশ্বব্যাপী ডলার নির্ভরতা কমাতে স্থানীয় মুদ্রায় জোর! নির্দেশ পীযুষের
নয়াদিল্লি: ভারত ব্রিকস সম্মেলনে এক গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছে।(BRICS) স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানো এবং পেমেন্ট সিস্টেমগুলোকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি। বাণিজ্যমন্ত্রী…
নয়াদিল্লি: ভারত ব্রিকস সম্মেলনে এক গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছে।(BRICS) স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানো এবং পেমেন্ট সিস্টেমগুলোকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ব্রিকস বিজনেস ফোরামে বলেছেন, সদস্য দেশগুলোর উচিত নিজেদের পেমেন্ট ব্যবস্থা সংযুক্ত করা, একে অপরের স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য করা এবং ডিজিটাল বাণিজ্যকে বিশ্বব্যাপী সহজলভ্য করে তোলা।
এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।ব্রিকস এখন বিশ্ব অর্থনীতির এক বড় অংশ।(BRICS) এই গোষ্ঠীর দেশগুলো মিলে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা এবং চল্লিশ শতাংশ জিডিপির প্রতিনিধিত্ব করে। তাদের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যও ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু এখনও বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক লেনদেন ডলারের মাধ্যমেই হয়।
আরও দেখুনঃ ১৫০০০ কোটি উদ্ধার হলেও ছাড় নেই মালিয়ার! স্পষ্ট করল ED
এর ফলে লেনদেনের খরচ বাড়ে, সময় লাগে বেশি এবং কখনো কখনো ভূরাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়। ভারত এই বাস্তবতা বুঝেই স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের পক্ষে সোচ্চার হয়েছে।ভারত নিজেই ইতিমধ্যে বেশ কিছু অগ্রগতি করেছে। ইউপিআই পেমেন্ট সিস্টেম এখন একাধিক দেশের সঙ্গে যুক্ত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
Advertisements
রাশিয়ার সঙ্গেও রুপি-রুবলে বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। (BRICS)প্রায় ছিয়ানব্বই শতাংশ ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য এখন স্থানীয় মুদ্রায় সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই অভিজ্ঞতা অন্য ব্রিকস দেশগুলোর সঙ্গেও ভাগ করে নিতে চায় ভারত।স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য মানে শুধু ডলার এড়ানো নয়। এর ফলে ব্যবসায়ীদের জন্য লেনদেন সহজ ও সস্তা হয়। ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলোও আন্তর্জাতিক বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারে।
ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমগুলো যুক্ত হলে টাকা পাঠানো আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে। (BRICS)ভারতের ইউপিআই ইতিমধ্যে দেশের ভেতরে বিপ্লব ঘটিয়েছে। এখন সেই মডেলকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।তবে এই পথে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মান আলাদা, বিনিময় হার ওঠানামা করে এবং নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাও একরকম নয়।
তাই পুরোপুরি একীভূত পেমেন্ট নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সময় লাগবে। ভারত এখন কোনো একক ব্রিকস মুদ্রা বা সম্পূর্ণ নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থার কথা বলছে না। বরং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে ধাপে ধাপে এগোতে চায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ডিজিটাল মুদ্রা বা সিবিডিসি ব্যবহারের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।