হলি আর্টিজান হামলার নেপথ্যে সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিক হামলার যোগসূত্র ফাঁস
ঢাকাঃ ঢাকার হলি আর্টিজান বেকারি হামলা কাণ্ডে ফাঁস হল নয়া তথ্য। (Holey Artisan)জানা গিয়েছে আগে জঙ্গি সংগঠন নিও-জেএমবি বা নব্য জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের সদস্যরা একধরনের…
ঢাকাঃ ঢাকার হলি আর্টিজান বেকারি হামলা কাণ্ডে ফাঁস হল নয়া তথ্য। (Holey Artisan)জানা গিয়েছে আগে জঙ্গি সংগঠন নিও-জেএমবি বা নব্য জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের সদস্যরা একধরনের ‘প্রশিক্ষণ’ নিয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদন ও স্বীকারোক্তি অনুসারে, হামলাকারী তরুণদের মধ্যে কয়েকজনকে আগে বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘু ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর হামলায় ব্যবহার করা হয়েছিল।
হিন্দু পুরোহিত, শিয়া মুসলিম এবং খ্রিস্টান ধর্মযাজকসহ কয়েকজনকে লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। এই ঘটনাগুলোকে অনেক বিশ্লেষক ‘ট্রায়াল রান’ বা পরীক্ষামূলক হামলা হিসেবে দেখেছেন। সফল হওয়ার পর তারা আরও বড় পরিকল্পনায় এগোয় এবং ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের ওই ক্যাফেতে হামলা চালিয়ে ভারতীয়, জাপানি, ইতালিয়ানসহ বেশ কয়েকজন বিদেশিকে হত্যা করে।
আরও দেখুনঃ অবশেষে কাটল জট! আড়াই বছর পর ফের ছুটবে কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস
এই ইতিহাস আজও প্রাসঙ্গিক। (Holey Artisan)কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিরা দাবি করছেন, গত কয়েক মাসে একাধিক ঘটনায় হিন্দু পরিবার ও ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন। কিছু ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উসকানি, কিছুতে ব্যক্তিগত বিরোধ বা অন্য কারণ দেখানো হলেও সামগ্রিক চিত্র উদ্বেগজনক। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন এই ধারাবাহিক ঘটনা কি আবার কোনো বড় পরিকল্পনার সতর্কবার্তা?
Advertisements
হলি আর্টিজান হামলার শিক্ষা ছিল স্পষ্ট। জঙ্গিরা (Holey Artisan)ছোটখাটো হত্যাকাণ্ড দিয়ে দক্ষতা বাড়ায়, আত্মবিশ্বাস অর্জন করে এবং তারপর বড় লক্ষ্যে আঘাত হানে। তখনকার সময়েও হিন্দু পুরোহিত, শিয়া ও খ্রিস্টানদের ওপর হামলাগুলোকে অনেকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। পরে দেখা গেল সেগুলোই ছিল বড় হামলার প্রস্তুতি। আজকের প্রেক্ষাপটেও একই ধরনের সতর্কতা জরুরি। সংখ্যালঘুদের ওপর হিংসা বাড়লে তা শুধু সেই সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, পুরো সমাজের স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি।
বাংলাদেশে হিন্দুরা দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু হিসেবে বাস করছেন। তাদের অনেকেই দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও শিক্ষায় অবদান রেখেছেন। কিন্তু সময় সময় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, জঙ্গি তৎপরতা বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তারা লক্ষ্যবস্তু হন।
হলি আর্টিজানের পর দেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার হয়েছিল এবং বড় ধরনের হামলা কমেছিল। তবে সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি। নতুন প্রজন্মের উগ্রপন্থীরা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে সংগঠিত হতে পারে। ছোটখাটো হামলা দিয়ে তারা আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে পারে।