মোদী-বিরোধিতায় এককাট্টা, কিন্তু ২০২৯-এ প্রধানমন্ত্রী কে? জোটে রাহুলের কাঁটা শরিকরাই
নয়াদিল্লি: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের এখনও বিস্তর দেরি, কিন্তু বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র অন্দরে আসল রাজনৈতিক টানাপড়েন এখনই শুরু হয়ে গিয়েছে। আর সেই লড়াই বিজেপিকে হটানোর…
নয়াদিল্লি: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের এখনও বিস্তর দেরি, কিন্তু বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র অন্দরে আসল রাজনৈতিক টানাপড়েন এখনই শুরু হয়ে গিয়েছে। আর সেই লড়াই বিজেপিকে হটানোর নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার কে হবেন, তা নিয়ে। কংগ্রেস চাইছে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে জোটের সর্বসম্মত মুখ হিসেবে তুলে ধরতে। কিন্তু মুশকিল হলো, শরিকদের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই কংগ্রেসের এই একতরফা ঘোষণা জোটের অন্দরেই প্রবল অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি সিপিএম নেতা এম.এ. বেবি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুলের দাবি থাকতেই পারে, কিন্তু নির্বাচন জেতার পর তবেই ঠিক হওয়া উচিত প্রধানমন্ত্রী কে হবেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি কংগ্রেস নেতা কে.সি. ভেনুগোপালের সেই ঘোষণাকেই কার্যত নস্যাৎ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছিল ২০২৯-এ জোটের মুখ হবেন রাহুলই। সংঘাত আরও প্রকট হয়েছে দক্ষিণে। তামিলনাড়ুতে বিজয়ের দল টিভিকে (TVK) খোদ বিজয়কেই প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। এর জেরে রাজ্য স্তরে কংগ্রেস ও টিভিকে-র সম্পর্ক রীতিমতো তলানিতে এসে ঠেকেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ আর ২০২৯-এর রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ আলাদা। ২৪-এ উত্তরপ্রদেশ-সহ বিভিন্ন রাজ্যে সমাজবাদী পার্টি বা অন্যান্য আঞ্চলিক দলের সঙ্গে কংগ্রেসের আসন সমঝোতা দারুণ কাজে দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেটি কোনও অখণ্ড জাতীয় শক্তির ফসল ছিল না। আঞ্চলিক দলগুলি নিজেদের রাজ্যে তিল তিল করে রাজনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে নিজেদের শক্তিতে। তারা নিজেদের কষ্টার্জিত রাজনৈতিক মূলধন কেন শুধু শুধু রাহুলের হাতে তুলে দেবে?
ইন্ডিয়া জোটের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সবচেয়ে বড় দুর্বলতা একই বিন্দুতে দাঁড়িয়ে। এটি এমন দলগুলির সমাহার, যারা নিজেদের রাজ্যে কীভাবে জিততে হয় তা জানে। কিন্তু পাটিগণিতের জোট আর রাজনৈতিক আত্মপরিচয় এক জিনিস নয়। বিজেপি গত এক দশক ধরে একজন সুপরিচিত জাতীয় নেতার ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে বিরোধীরা প্রমাণ করেছে যে তারা একসঙ্গে লড়লে শক্তিশালী হতে পারে। কিন্তু নিজেদের শক্তি এক করা আর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে এক করা এক বিষয় নয়।
Advertisements
বিজেপিকে হারানো এবং রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নেওয়া, এই দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক টাস্ক। ২০২৪ ছিল প্রথম পরীক্ষার বছর, কিন্তু ২০২৯ হতে চলেছে দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। মোদী-বিরোধিতার অঙ্কে এককাট্টা হলেও, কাকে ক্ষমতায় বসানো হবে, সেই প্রশ্নে ‘ইন্ডিয়া’ জোট যে এখনও বহু যোজন দূরে, শরিকদের বর্তমান মনোভাবই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।